যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধসহ সম্ভাব্য যেসব বিষয় আলোচনায়
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএমআপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য ১৪ দফা সমঝোতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। প্রস্তাবিত এই খসড়া চুক্তি দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর একটি নতুন কূটনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই খসড়া চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পদক্ষেপ
একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইসরায়েল বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে রাজি।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের আচরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে, তবে তেল বিক্রির আগাম ছাড় ইঙ্গিত দেয় যে প্রথম থেকেই ইরানকে কিছু অর্থনৈতিক শিথিলতা দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, সম্প্রতি একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন অবরোধ অতিক্রম করেছে। যাকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের ইঙ্গিত বলছেন বিশ্লেষকরা।
৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলও এই খসড়া চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই তহবিল মূলত ইরানে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য একটি অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে গঠন করা হয়েছে। এই প্রণোদনায় যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলোর, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার কোম্পানিগুলো অংশ নেবে।
তেল, অবকাঠামো, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল বলছে, তেহরান প্রথমে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করে।
এই কারণে ‘রিকনস্ট্রাকশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে নতুন তহবিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তহবিলটি বিভিন্ন দেশের অর্থায়ন, ঋণ ও ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহৃত হবে।
চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে দেশটিতে বড় কোনো বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি।
তবে এই তহবিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার অংশ নয়। এটি পৃথক একটি আর্থিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হবে। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তহবিলটি কার্যকর হবে না।
ইসরায়েল ও মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগ
চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে যে তেহরান আলোচনার সময়কে কাজে লাগিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং হেজবুল্লাহকে আরও সহায়তা দিতে পারে।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এই চুক্তি সমর্থন করেছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইসরায়েল এখনো চুক্তির আনুষ্ঠানিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত নয়। জেরুজালেম এই নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করলেও ওয়াশিংটন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশংকায় তা দেয়নি।
ইসরায়েল দাবি করছে যে ইরান ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করবে এবং আলোচনার আড়ালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা চালাবে।
সৌদি গণমাধ্যম আল আরাবিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সাক্ষর হতে যাওয়া খসড়া চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং তাদের মিত্রদের পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণাসহ আছে আরও ১৪ দফা।
১৪ দফা চুক্তির মূল বিষয়সমূহ
যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের যুদ্ধ ও আক্রমণ বন্ধ করবে, এমনকি লেবাননের মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও তারা আর কোনো আক্রমণ করতে পারবে না।
একে অপরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা: দুই দেশ একে অপরের দেশীয় রাজনীতি বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর হস্তক্ষেপ করবে না।
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির চেষ্টা: সব আলোচনা শেষ করে ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
নৌ-অবরোধ ও সামরিক চাপ কমানো: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থাকা নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা: ইরান নিশ্চিত করবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে জাহাজ চলাচল আগের মতো স্বাভাবিক থাকবে।
ইরানের জন্য বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা: ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিল তৈরি করবে।
সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া: ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না: ইরান নিশ্চিত করবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
আলোচনা চলাকালীন বর্তমান অবস্থা বজায় থাকবে: আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ কোনো নতুন বড় পরিবর্তন করবে না। ইরান তার পারমাণবিক কাজ সীমিত রাখবে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা দেবে না।
তেল বিক্রির সীমিত অনুমতি: ইরান কিছুটা শিথিলতায় তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া: ইরানের আটকে থাকা টাকা ও সম্পদ ধীরে ধীরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
একটি তদারকি ব্যবস্থা তৈরি হবে: চুক্তি ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।
ধাপে ধাপে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে যাওয়া: এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এবং ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর ধারা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর উভয় পক্ষ বাকি ধারাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে।
জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন: শেষে এই চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধসহ সম্ভাব্য যেসব বিষয় আলোচনায়
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য ১৪ দফা সমঝোতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। প্রস্তাবিত এই খসড়া চুক্তি দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর একটি নতুন কূটনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই খসড়া চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পদক্ষেপ
একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইসরায়েল বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে রাজি।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের আচরণ ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে, তবে তেল বিক্রির আগাম ছাড় ইঙ্গিত দেয় যে প্রথম থেকেই ইরানকে কিছু অর্থনৈতিক শিথিলতা দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, সম্প্রতি একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন অবরোধ অতিক্রম করেছে। যাকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের ইঙ্গিত বলছেন বিশ্লেষকরা।
৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলও এই খসড়া চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই তহবিল মূলত ইরানে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য একটি অর্থনৈতিক প্রণোদনা হিসেবে গঠন করা হয়েছে। এই প্রণোদনায় যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলোর, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার কোম্পানিগুলো অংশ নেবে।
তেল, অবকাঠামো, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল বলছে, তেহরান প্রথমে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিল, কিন্তু ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করে।
এই কারণে ‘রিকনস্ট্রাকশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে নতুন তহবিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তহবিলটি বিভিন্ন দেশের অর্থায়ন, ঋণ ও ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহৃত হবে।
চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে দেশটিতে বড় কোনো বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি।
তবে এই তহবিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার অংশ নয়। এটি পৃথক একটি আর্থিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হবে। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তহবিলটি কার্যকর হবে না।
ইসরায়েল ও মার্কিন প্রশাসনের উদ্বেগ
চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে যে তেহরান আলোচনার সময়কে কাজে লাগিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং হেজবুল্লাহকে আরও সহায়তা দিতে পারে।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এই চুক্তি সমর্থন করেছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইসরায়েল এখনো চুক্তির আনুষ্ঠানিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত নয়। জেরুজালেম এই নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করলেও ওয়াশিংটন তথ্য ফাঁস হওয়ার আশংকায় তা দেয়নি।
ইসরায়েল দাবি করছে যে ইরান ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করবে এবং আলোচনার আড়ালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা চালাবে।
সৌদি গণমাধ্যম আল আরাবিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সাক্ষর হতে যাওয়া খসড়া চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং তাদের মিত্রদের পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণাসহ আছে আরও ১৪ দফা।
১৪ দফা চুক্তির মূল বিষয়সমূহ
যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের যুদ্ধ ও আক্রমণ বন্ধ করবে, এমনকি লেবাননের মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও তারা আর কোনো আক্রমণ করতে পারবে না।
একে অপরের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা: দুই দেশ একে অপরের দেশীয় রাজনীতি বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর হস্তক্ষেপ করবে না।
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির চেষ্টা: সব আলোচনা শেষ করে ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
নৌ-অবরোধ ও সামরিক চাপ কমানো: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থাকা নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা: ইরান নিশ্চিত করবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে জাহাজ চলাচল আগের মতো স্বাভাবিক থাকবে।
ইরানের জন্য বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা: ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিল তৈরি করবে।
সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া: ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না: ইরান নিশ্চিত করবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।
আলোচনা চলাকালীন বর্তমান অবস্থা বজায় থাকবে: আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষ কোনো নতুন বড় পরিবর্তন করবে না। ইরান তার পারমাণবিক কাজ সীমিত রাখবে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা দেবে না।
তেল বিক্রির সীমিত অনুমতি: ইরান কিছুটা শিথিলতায় তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে পারবে।
ইরানের জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া: ইরানের আটকে থাকা টাকা ও সম্পদ ধীরে ধীরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
একটি তদারকি ব্যবস্থা তৈরি হবে: চুক্তি ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে।
ধাপে ধাপে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে যাওয়া: এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এবং ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর ধারা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর উভয় পক্ষ বাকি ধারাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে।
জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন: শেষে এই চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হবে।
বিষয়: