ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওত্তির ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

ব্রাজিল এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন না দেওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্রাজিল অনুমোদন দিলে ভিওত্তির ভিসা পুনর্বহাল করা হবে বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 

এই বছরের জুনে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ড্যানি পেরেজকে ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তা এখনো মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পায়নি। একই সঙ্গে ব্রাজিলও আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিল সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের আগেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে পেরেজের মনোনয়নের ঘোষণা দেন। ব্রাজিল এটিকে প্রটোকলের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যালোচনার পরই তারা সিদ্ধান্ত নেবে। ব্রাজিলের সম্মতি ছাড়া পেরেজ দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।

রাষ্ট্রদূত নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান এমন এক সময় সামনে এলো, যখন অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত মাসে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যুরো অব ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার-এর কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করে। ব্রাজিলের অভিযোগ ছিলো, প্রতিনিধিদল দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলের ডানপন্থি বোলসোনারো পরিবারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তার প্রথম মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জাইর বলসোনারো। তবে এবারের নির্বাচনে তার ছেলে ফ্লাভিও লড়ছেন।

বাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাশিও লুলা দা সিলভাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচক, লুলা তার প্রচারণায় অক্টোবরের নির্বাচনকে ‘ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব ও লাতিন আমেরিকার ভবিষ্যতের প্রশ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এর আগে বাণিজ্য নিয়েও দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা  দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের উপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। পরে তা প্রত্যাহার করা হলেও জুলাইয়ে আবারও ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ব্রাজিল ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ অনুসরণ করছে।

২০২২ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ২৭ বছরের কারাদণ্ডের রায় নিয়েও ট্রাম্প প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।