ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে কানাডায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

কানাডায় ভিসা আবেদনে জালিয়াতির ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযুক্ত পাঁচজনের সবাই বাংলাদেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।

অভিযুক্ত চারজন (রাশেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম) গত ২২এ অক্টোবর কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। পঞ্চম অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সিবিএসএর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৩রা জুলাই কুইবেকের মার্সিয়েতে একটি ব্যক্তিগত বাসায় অভিযান চালায় সংস্থাটি। এ সময় তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সেখানে কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের অগাস্টে অভিযুক্তদের নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে দেখা যায়, ২০৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য মোট ২৪৩টি অস্থায়ী ভিজিটর ভিসার (টিআরভি) আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিলো। এসব আবেদনে দেখানো হয়, কানাডার নাগরিকেরা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভিজিটর ভিসা পাওয়ার সুযোগ করে দিতে এসব আবেদনে জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিলো।

২০২৫ সালের ৩রা জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। এ সময় জব্দ করা কাগজপত্র ও কম্পিউটার সরঞ্জাম থেকে এই কার্যক্রমে পাঁচজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানায় সংস্থাটি।

তদন্তের অংশ হিসাবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ আনা হয়। মানুষকে অবৈধভাবে কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দিতে প্ররোচিত করা এবং জেনেশুনে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে সহায়তা করা।

তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

কানাডার মিনিস্টার অব পাবলিক সেফটি গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেন, দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থা সততা, ন্যায্যতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। জালিয়াতির মাধ্যমে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে পরিণতি ভালো হবে না। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় কাজ করার জন্য তিনি সিবিএসএর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

সিবিএসএর কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের বলেন, কানাডার ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে যারা জালিয়াতি করছে, তাদের খুঁজে বের করে এই চক্র বন্ধ করতে কাজ করছে সংস্থাটি। অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ধরে রাখতে তদন্তকারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি।