সাওদা সুমি: ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগে এক নারীকে নিয়ে যা হলো
ভোলা থেকে বিবি সাওদা সুমি নামে এক নারী জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় সরকারবিরোধী ফেসবুক পোস্ট দেবার অভিযোগে। এ ঘটনায় জামায়াতসহ বিরোধী দলী নেতারা তুমুল প্রতিবাদ করার পর আটকের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০০ পিএমআপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ভোলা থেকে বিবি সাওদা সুমি নামে এক নারীকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে তা নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ হবার পর আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির কারণে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এমন একটি আলোচনা শুরু হলে এ নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
বলা হচ্ছে এই নারী জামায়াতের একজন কর্মী। তাকে আটকের পর জামায়াতের আমীর থেকে শুরু করে নানা পর্যায়ের নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানান। পুলিশের অভিযান, মোবাইল জব্দ ও পরবর্তী জামিন প্রদানের বিষয়গুলোতে জনগণ এবং বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন যে কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং এর মধ্যে নাগরিক স্বাধীনতা কতটা রক্ষা পাচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাওদার জামিন মঞ্জুর করেন ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
এর আগে ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্টের অভিযোগে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
ভোলার সদর পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাওদাকে রবিবার রাতে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোলা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী তিনি।
গ্রেপ্তারের আগে সর্বশেষ সাওদা সুমি তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে লেখেন, “আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তারা তো অনুমতি দিছে', তাহলে দুই তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কেন ভারত থেকে তেল আনা লাগবে?”
তাকে অন্যান্য পোস্টেও বিভিন্ন সময় সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
ভোলা জেলার সাইবারক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্য পুলিশের উপপরিদর্শক মো. জুয়েল হোসেন খান বলেন, সরকারের বিভিন্ন মনিটরিং সেল থাকে। সেই মনিটরিং সেল থেকে তাদের জানানো হয়েছিল বিষয়টি।
আলাপকে তিনি বলেন, “পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলে আমরা অভিযানে যাই। আমরা তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছি এবং স্ক্রিনশটও সংগ্রহ করেছি।”
ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি আদালতের অনুমোদনের মাধ্যমে হবে। আগে আমরা এগুলো যাচাই করিনি। এখন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উনি স্বীকার করছেন যে, হ্যাঁ, আমি পোস্ট করেছি। তবে তিনি বলছেন, তিনি ফ্রিল্যান্সিং করছেন এবং ভিউ বাড়ানোর জন্য এই ধরনের পোস্ট দিয়েছেন। তিনি দাবি করছেন, এতে রেমিটেন্স বা অর্থনৈতিক সুবিধা কিছুটা বাড়ে।”
এসআই জুয়েল হোসেন বলেন, “এটি কোনো মামলা নয়। এটি শুধুই পুলিশের তদন্তাধীন প্রক্রিয়া। ফৌজদারি আইন ৫৪ ধারার অধীনে তাকে হাজত রাখা হয়েছে, যাতে আমরা সব তথ্য যাচাই করতে পারি। আমাদের কাজ হলো আইনানুগভাবে তদন্ত করা, কারও ক্ষতি করা নয়।”
তিনি নিশ্চিত করেন, “আমরা শুধু পোস্ট এবং ফোনের তথ্য যাচাই করছি। কেউ যদি এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মন্তব্য করে, আমাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলে না। আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালাচ্ছি।”
পুলিশ প্রতিবেদনে কী বলছে
জুয়েল হোসেন খান আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার প্যাট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তাদের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার ব্যবহৃত ‘রেডমি নোট ৯’ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফোনটির বিস্তারিত পর্যালোচনা তখনই সম্ভব হয়নি। তবে ফেসবুক পোস্ট ও ডিভাইস বিশ্লেষণ শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সমালোচনার ঝড়
সাওদা সুমি ভোলা পৌরসভা জামায়াতের একজন নারী কর্মী। তার গ্রেপ্তারের পর থেকেই ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বলা হচ্ছে, সরকারের সমালোচনা করায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে তার দল জামায়াতে ইসলামী।
দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সোমবার বলেন, “সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে, তা নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা সকল যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পরিণতিতে তাদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরও এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা কোনো অপরাধ হতে পারে না। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি।
শিশির মনির লিখেছেন, যারা এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ার পরও এমন গ্রেপ্তার প্রশ্নবিদ্ধ। সমালোচনা করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং এটি কোনো অপরাধ নয়।
এনসিপি নেতা সার্জিস আলম এক পোস্টে বলেছেন, “তো মাননীয়,আপনি তো আপনার ব্যঙ্গচিত্র আঁকারও স্বাধীনতা দিতে চেয়েছিলেন!”
নাগরিক স্বাধীনতা ও অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্কতা
যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা ঠিক না বলে মত দিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক খান মোহাম্মদ রবিউল আলম। আলাপকে তিনি বলেন, “অভিযোগ আসলো আর আমি কাউকে এরেস্ট করে ফেললাম - এই জিনিসটা একটা ব্যাড সিগনাল দেয়। মানুষ তখন খুব ভয় পায়। আতঙ্কগ্রস্ত হয়।” “অপরাধের কোন এলিমেন্ট আছে কি না, এটা পুলিশ দেখতেই পারে। কোর্ট বিচার করবে যে সে অপরাধী কি অপরাধী কি না। কিন্তু ছোটখাট ইস্যুতে মানুষকে ধরা ও হ্যারাসমেন্ট করাটা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সমীচিন নয়।”
তবে নাগরিক হিসেবে ছোটখাটো বিষয়কে অতিরঞ্জন করে উপস্থাপন করাও ঠিক নয় বলে মত এই বিশেষজ্ঞদের। তার ভাষায়, “সমাজে একটা নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে যে সব কিছু তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দেখা। কর্তৃপক্ষের সম্মানহানি করা বা সমালোচনা করা।”
এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় আয়ের বিষয়টি কিছুটা ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন খান রবিউল। তিনি বলেন, যত বড় এস্টাবলিশমেন্টের সমালোচনা করা হচ্ছে, তত ভিউ এবং তত টাকা।
এমন সমালোচনা সুস্থ ভালো সমাজের কোন লক্ষণ হতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই খুব হাইলি ক্রিটিক হয়ে গেছি। কোনো ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও আমি জিনিসটা নিয়ে সমালোচনা করছি।”
তবে যদি কেউ করেও সেক্ষেত্রেও গ্রেপ্তার হবে সবশেষ পদক্ষেপ। তার আগে আসলে যাচাই করে দেখা জরুরি যে আসলেই কোনো অপরাধ হয়েছে কি না- বলেন খান রবিউল
আমাদের দায়িত্বের জায়গাটা হচ্ছে আমাদেরকেও রেসপন্স করতে হবে। যে আমি কি বলছি কতটুকু রিজনে বলছি সেটা আমাকে কিন্তু ভাবতে হবে। সবসময় এক ধরনের হাইপের ভিতরে থাকা এটা খুব ভালো এক্সপ্রেসিভ কালচার না। প্রকাশের জন্য নিজের তুলে ধরার জন্য কোন ভালো সাংস্কৃতিক চর্চা না।
সাওদা সুমি: ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগে এক নারীকে নিয়ে যা হলো
ভোলা থেকে বিবি সাওদা সুমি নামে এক নারী জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় সরকারবিরোধী ফেসবুক পোস্ট দেবার অভিযোগে। এ ঘটনায় জামায়াতসহ বিরোধী দলী নেতারা তুমুল প্রতিবাদ করার পর আটকের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।
ভোলা থেকে বিবি সাওদা সুমি নামে এক নারীকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে তা নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ হবার পর আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির কারণে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, এমন একটি আলোচনা শুরু হলে এ নিয়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
বলা হচ্ছে এই নারী জামায়াতের একজন কর্মী। তাকে আটকের পর জামায়াতের আমীর থেকে শুরু করে নানা পর্যায়ের নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানান।
পুলিশের অভিযান, মোবাইল জব্দ ও পরবর্তী জামিন প্রদানের বিষয়গুলোতে জনগণ এবং বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন যে কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং এর মধ্যে নাগরিক স্বাধীনতা কতটা রক্ষা পাচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাওদার জামিন মঞ্জুর করেন ভোলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
এর আগে ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্টের অভিযোগে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
ভোলার সদর পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাওদাকে রবিবার রাতে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভোলা পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী তিনি।
গ্রেপ্তারের আগে সর্বশেষ সাওদা সুমি তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে লেখেন, “আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি, তারা তো অনুমতি দিছে', তাহলে দুই তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কেন ভারত থেকে তেল আনা লাগবে?”
তাকে অন্যান্য পোস্টেও বিভিন্ন সময় সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
ভোলা জেলার সাইবারক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সদস্য পুলিশের উপপরিদর্শক মো. জুয়েল হোসেন খান বলেন, সরকারের বিভিন্ন মনিটরিং সেল থাকে। সেই মনিটরিং সেল থেকে তাদের জানানো হয়েছিল বিষয়টি।
আলাপকে তিনি বলেন, “পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলে আমরা অভিযানে যাই। আমরা তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছি এবং স্ক্রিনশটও সংগ্রহ করেছি।”
ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি আদালতের অনুমোদনের মাধ্যমে হবে। আগে আমরা এগুলো যাচাই করিনি। এখন আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “উনি স্বীকার করছেন যে, হ্যাঁ, আমি পোস্ট করেছি। তবে তিনি বলছেন, তিনি ফ্রিল্যান্সিং করছেন এবং ভিউ বাড়ানোর জন্য এই ধরনের পোস্ট দিয়েছেন। তিনি দাবি করছেন, এতে রেমিটেন্স বা অর্থনৈতিক সুবিধা কিছুটা বাড়ে।”
এসআই জুয়েল হোসেন বলেন, “এটি কোনো মামলা নয়। এটি শুধুই পুলিশের তদন্তাধীন প্রক্রিয়া। ফৌজদারি আইন ৫৪ ধারার অধীনে তাকে হাজত রাখা হয়েছে, যাতে আমরা সব তথ্য যাচাই করতে পারি। আমাদের কাজ হলো আইনানুগভাবে তদন্ত করা, কারও ক্ষতি করা নয়।”
তিনি নিশ্চিত করেন, “আমরা শুধু পোস্ট এবং ফোনের তথ্য যাচাই করছি। কেউ যদি এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মন্তব্য করে, আমাদের কাজের ওপর প্রভাব ফেলে না। আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালাচ্ছি।”
পুলিশ প্রতিবেদনে কী বলছে
জুয়েল হোসেন খান আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাইবার প্যাট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তাদের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার ব্যবহৃত ‘রেডমি নোট ৯’ মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফোনটির বিস্তারিত পর্যালোচনা তখনই সম্ভব হয়নি। তবে ফেসবুক পোস্ট ও ডিভাইস বিশ্লেষণ শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সমালোচনার ঝড়
সাওদা সুমি ভোলা পৌরসভা জামায়াতের একজন নারী কর্মী। তার গ্রেপ্তারের পর থেকেই ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বলা হচ্ছে, সরকারের সমালোচনা করায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে তার দল জামায়াতে ইসলামী।
দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সোমবার বলেন, “সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে, তা নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা সকল যুগেই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নির্লজ্জ ও নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। পরিণতিতে তাদের কণ্ঠই স্তব্ধ হয়ে যায়।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরও এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা কোনো অপরাধ হতে পারে না। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি।
শিশির মনির লিখেছেন, যারা এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ার পরও এমন গ্রেপ্তার প্রশ্নবিদ্ধ। সমালোচনা করা নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং এটি কোনো অপরাধ নয়।
এনসিপি নেতা সার্জিস আলম এক পোস্টে বলেছেন, “তো মাননীয়,আপনি তো আপনার ব্যঙ্গচিত্র আঁকারও স্বাধীনতা দিতে চেয়েছিলেন!”
নাগরিক স্বাধীনতা ও অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে সতর্কতা
যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা ঠিক না বলে মত দিয়েছেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকতার শিক্ষক খান মোহাম্মদ রবিউল আলম। আলাপকে তিনি বলেন, “অভিযোগ আসলো আর আমি কাউকে এরেস্ট করে ফেললাম - এই জিনিসটা একটা ব্যাড সিগনাল দেয়। মানুষ তখন খুব ভয় পায়। আতঙ্কগ্রস্ত হয়।”
“অপরাধের কোন এলিমেন্ট আছে কি না, এটা পুলিশ দেখতেই পারে। কোর্ট বিচার করবে যে সে অপরাধী কি অপরাধী কি না। কিন্তু ছোটখাট ইস্যুতে মানুষকে ধরা ও হ্যারাসমেন্ট করাটা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য সমীচিন নয়।”
তবে নাগরিক হিসেবে ছোটখাটো বিষয়কে অতিরঞ্জন করে উপস্থাপন করাও ঠিক নয় বলে মত এই বিশেষজ্ঞদের। তার ভাষায়, “সমাজে একটা নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে যে সব কিছু তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দেখা। কর্তৃপক্ষের সম্মানহানি করা বা সমালোচনা করা।”
এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় আয়ের বিষয়টি কিছুটা ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন খান রবিউল। তিনি বলেন, যত বড় এস্টাবলিশমেন্টের সমালোচনা করা হচ্ছে, তত ভিউ এবং তত টাকা।
এমন সমালোচনা সুস্থ ভালো সমাজের কোন লক্ষণ হতে পারে না বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই খুব হাইলি ক্রিটিক হয়ে গেছি। কোনো ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও আমি জিনিসটা নিয়ে সমালোচনা করছি।”
তবে যদি কেউ করেও সেক্ষেত্রেও গ্রেপ্তার হবে সবশেষ পদক্ষেপ। তার আগে আসলে যাচাই করে দেখা জরুরি যে আসলেই কোনো অপরাধ হয়েছে কি না- বলেন খান রবিউল
আমাদের দায়িত্বের জায়গাটা হচ্ছে আমাদেরকেও রেসপন্স করতে হবে। যে আমি কি বলছি কতটুকু রিজনে বলছি সেটা আমাকে কিন্তু ভাবতে হবে। সবসময় এক ধরনের হাইপের ভিতরে থাকা এটা খুব ভালো এক্সপ্রেসিভ কালচার না। প্রকাশের জন্য নিজের তুলে ধরার জন্য কোন ভালো সাংস্কৃতিক চর্চা না।
বিষয়: