ভারতের ‘ককরোচ’ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গণআন্দোলন

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষকে একত্রিত করা এবং আন্দোলনের সমন্বয় সাধনে ভালোই কাজ করে। তবে সরকারের সাথে আলোচনা করা, নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলা কিংবা কোনো প্রতিবাদী আন্দোলনকে স্থায়ী একটি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো তৈরিতে খুব একটা কার্যকর নয়।

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লির রাজপথ, রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার তরুণ। 

দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে মুম্বাইসহ বিভিন্ন শহরে। জলকামান, কাঁদুনে গ্যাস কোনোকিছু দিয়েই দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না আন্দোলনকারীদের। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে সরকার পতন হয়েছে। 

ভারতের বিক্ষোভের মতোই ওই দেশগুলোর গণঅভ্যুত্থানের শিকড়ও অনলাইনে প্রথিত হয়েছিলো বলে তুলনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। 

ভারতে বিক্ষোভকারীরা নিজেদের “ককরোচ” নামে ডাকছে। দেশটির শীর্ষ বিচারপতি সুরিয়া কান্তের একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবেই এই নামটি নেওয়া হয়েছে।

মে মাসে এক শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সামাজিক মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বেকার তরুণদের সঙ্গে তেলাপোকার তুলনা করেছিলেন।

তিনি বলেন, “এমন তরুণ আছে, যারা তেলাপোকার মতো, তাদের কোনো চাকরি নেই, কোনো পেশায় জায়গা নেই।” 

যদিও পরে তিনি বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে বোঝা হয়েছে। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

সুরিয়া কান্তের মন্তব্যের পরপরই বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতকোত্তর করা এবং যুক্তরাষ্ট প্রবাসী অভিজিৎ দিপকে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি, যা অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর হিসেবে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন সংগঠনে পরিণত হয়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামেরও একটি স্পষ্ট ব্যঙ্গ।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনপিআরকে দিপকে বলেন, “ভারতে আপনি ধনী হলে সিস্টেম আপনার ইশারায় চলে। কিন্তু গরিব হলে কেউ আপনার পাশে দাঁড়াবে না। আমরা হতাশ, কারণ সরকার আমাদের কথা শোনা বন্ধ করে দিয়েছে।”

দীপকের আন্দোলন অনলাইনে বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি কোটি ফলোয়ার হয়ে যায় সিজেপির। অল্প সময়েই বিজেপির সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতিকে হার মানায় তারা। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আন্দোলনটি দ্রুতই আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে।

দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশেও এর আগে আন্দোলনের এমন দ্রুত উত্থান লক্ষ্য করা যায়, যেখানে অনলাইনে তৈরি হওয়া ক্ষোভ বারবার রূপ নিয়েছে রাস্তার গণআন্দোলনে।

“এই আন্দোলনগুলো এখন অনেকটাই একই রকম হয়ে গেছে,” বলেন কার্নেগি এনডাওমেন্টের সিনিয়র ফেলো সাসকিয়া ব্রেখেনমাখার। তিনি নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক শাসন নিয়ে গবেষণা করেন।

“গত কয়েক বছরে যে তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনগুলো দেখা গেছে, সেগুলো অনেক সময় বড় কোনো গণতান্ত্রিক সংকট বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে নয়, বরং নির্দিষ্ট কোনো ক্ষোভ থেকে শুরু হয়, যা পরে বৃহত্তর শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে ওঠে,” বলেন সাসকিয়া।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের তরুণদের এই আন্দোলনের মিলগুলোও বেশ স্পষ্ট।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালে গণআন্দোলন শুরু করেছিল শিক্ষার্থীরা। পরে সেই বিক্ষোভই দেশব্যাপী রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে।

ভারতে মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছিল তরুণরা। 

সাসকিয়া ব্রেখেনমাখার বলেন, “ভারতে পরীক্ষাগুলো শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং এসব প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনেক চাপ থাকে। ফলে এটি বড় একটি সমস্যার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, যা আমরা অন্য দেশেও দেখেছি।”

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভিন্নভাবে শুরু হলেও এসব আন্দোলনের পেছনে ছিল একটি বিষয়। ইনজাস্টিস বা অবিচার। গণতন্ত্রের অবনতির চেয়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই বারবার আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, প্রতিবারই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকা ক্ষোভ জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়তে এখন সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। বিশেষ করে সেসব সমাজে আগে থেকে জমে থাকা ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যেখানে শিক্ষিত তরুণদের আশা আকাঙ্ক্ষা বাড়লেও কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে।

ব্রেখেনমাখারের মতে, এমন আন্দোলন সাধারণত সেই দেশগুলোতেই বেশি দেখা যায়, যেখানে তুলনামূলকভাবে মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ থাকলেও গভীর কাঠামোগত বৈষম্য রয়েছে। যেখানে শিক্ষিত জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ এবং জনসমাবেশের মতো রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্যও দেখা যায়। 

এই বৈষম্যের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে ইন্টারনেট দুনিয়া। 

ব্রেখেনমাখারের মতে, ভালো জীবনের প্রত্যাশা করে মানুষ। তারা ইন্টারনেটে দেখে, অন্যরা কীভাবে জীবনযাপন করছে।

“নেপালে আমরা এমনটা দেখেছি, যেখানে তরুণরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনীতিবিদ ও তাদের আত্মীয় স্বজনদের জীবনযাপন দেখছিল। এতে তাদের মনে গভীর বৈষম্যের বোধ তৈরি হয়। সীমিত হলেও আন্দোলনের কিছুটা সুযোগ থাকার কারণে এই অসন্তোষ আরও জোরদার হয়ে ওঠে।”

ভারতেও অনেক তরুণের কাছে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এই বৃহত্তর অন্যায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শুধু একটি পরীক্ষায় ব্যর্থতার হতাশা নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনাস্থা, যেখানে মেধার চেয়ে প্রভাব বা সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

ভারতের বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ভারতের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা 'ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট'-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং এর জের ধরে পরীক্ষাটি বাতিল করা। 

গত ৩রা মে হওয়া পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরে এটি বাতিল করা হয় এবং এর ফলে প্রায় ডজনখানেক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা করেন। পরে জুন মাসে ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ডানকান গ্রিনের মতে, তরুণদের আন্দোলন সাধারণত কোনো বিমূর্ত গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষার জন্য গতিশীল হয় না; বরং ব্যক্তিগত ক্ষোভ যখন সমাজের সামগ্রিক ব্যবস্থার ব্যর্থতাকে ফুটিয়ে তোলে, তখনই বড় আন্দোলনের জন্ম হয়।

তিনি বলেন, “এটি এমন এক বাধা, যা আপনাকে কাঙ্ক্ষিত জীবন যাপন করতে দেয় না। আন্দোলনের শুরুটা মানবাধিকার বা গণতন্ত্রের মতো বিমূর্ত কোনো বিষয় নিয়ে না হয়ে প্রায়শই ব্যক্তিগত কোনো ঘটনা কেন্দ্রিক হয়। তবে পরবর্তীতে এটি একটি রাজনৈতিক ও কাঠামোগত ব্যবস্থার পরিবর্তনমূলক রূপ ধারণ করে। সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনগুলোতে আমরা ঠিক এই চিত্রই দেখেছি।”

ভারতের এই আন্দোলন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হলেও এখন কিছু বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করছেন।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দাবি বাড়লেই তা বিপ্লবী ফলাফল এনে দেবে, ব্যাপারটা এমন নয়। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশে জনরোষের মুখে সরকার পতন ঘটেছে। তবে এগুলো ব্যতিক্রম, সব আন্দোলনের পরিণতি এমন নয়।

ব্রেখেনমাখারের মতে, মূল পার্থক্যটা তৈরি হয় এক্ষেত্রে যে, গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তন আনার উপর মানুষের এখনও বিশ্বাস আছে কি না।  

তিনি বলেন, “যদি মানুষ এমন ভাবে যে সামনে নির্বাচন আছে এবং তখন তারা ভোট দিয়ে পরিবর্তন আনতে পারবে, তাহলে তাৎক্ষণিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রবণতা কমে যায়। কারণ তখন আপনার হাতে প্রাতিষ্ঠানিক পথ থাকে। কিন্তু এই লড়াই করার জন্য আদালত কি সত্যি কাজ করছে? বিচারব্যবস্থা কি আজও নিরপেক্ষ?”

মোদি সরকারের সমালোচকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। তারা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো ভারতে হুট করে কোনো বড় গণআন্দোলন বা অভ্যুত্থান ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

গ্রিন বলেন, শুধু আন্দোলন দিয়ে সরকার পতন হয় না; পতন তখনই ঘটে যখন রাষ্ট্রের ভেতরের কাঠামো ভাঙতে শুরু করে।

তিনি বলেন, “শুধু আন্দোলন সফল হলেই হয় না, শাসকগোষ্ঠীকেও ব্যর্থ হতে হয়। আর যেখানে সরকার টিকে থাকে, সেখানে দেখা যায়, রাষ্ট্র একতাবদ্ধ থাকে এবং সেনাবাহিনী সরকারকে রক্ষা করে।”

এই পার্থক্যই ব্যাখ্যা করে কেন একই ধরনের বিক্ষোভের পরিণতি ভিন্ন হয়। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জোরে হয়তো রাতারাতি আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে, কিন্তু সেটিকে ধরে রাখা বা টিকিয়ে রাখা অন্য এক লড়াই।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষকে একত্রিত করা এবং আন্দোলনের সমন্বয় সাধনে ভালোই কাজ করে। তবে সরকারের সাথে আলোচনা করা, নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলা কিংবা কোনো প্রতিবাদী আন্দোলনকে স্থায়ী একটি রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো তৈরিতে খুব একটা কার্যকর নয়।

নেতৃত্বহীন আন্দোলন সহজেই দমিয়ে দেওয়া যায় না বলে মনে করেন অধ্যাপক গ্রিন। তিনি বলেন, “এমন আন্দোলনে আপনাকে সহজে কেনা বা নিজের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়, আবার খুব সহজে দমন-পীড়ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে।”

কিন্তু সরকার যখন প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে, তখন এই নেতৃত্বহীনতাই দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।

গ্রিন বলেন, “আপনি সারাজীবন রাজপথে বসে থাকতে পারবেন না। কোনো না কোনো পর্যায়ে আপনাকে কিছু অর্জন করতে হবে, আলোচনা করতে হবে, কিংবা হয়তো কিছু বিষয়ে সমঝোতায় আসতে হবে। আর সেটা করার জন্য আপনার প্রতিনিধি বা নেতৃত্বের প্রয়োজন।” 

“তাই আন্দোলনকেই নিজস্ব নেতা তৈরি করতে হয়, নয়তো বাইরের অন্য কেউ এসে সেই খালি জায়গাটা দখল করে নেয়। আন্দোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য এভাবে নেতৃত্বহীন বা অবয়বহীন থাকতে পারে না,” যোগ করেন তিনি।

ভারতে দিপকে এই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এক প্রখ্যাত নাম হয়ে উঠেছেন, যার দীর্ঘ অনশন ও গ্রেপ্তার ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি করে। 

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জে পি নাড্ডা সিজেপি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় সরকার আন্দোলনটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।  

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের উদাহরণ টেনে ব্রেখেনমাখার বলেন, “আগের অহিংস আন্দোলনগুলো কেবল একটি শহর বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সমগ্র ভারতজুড়ে কঠোর সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেগুলোকে মাঠে নামানো হয়েছিল।”

“সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কখনোই এর বিকল্প হতে পারে না। কারণ, আন্দোলনে মানুষ জড়ো করা আর এমন এক দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা সম্পূর্ণ আলাদা দুটি কাজ। একটি আন্দোলন কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে তারা এই মাঠের ক্ষোভকে রাজনৈতিক কাঠামোয় রুপান্তর করতে পারছে কি না। কারণ দিনশেষে, প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া মানেই প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া কিংবা নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলা।”

ব্রেখেনমাখার বলেন, “এখানে আপনাকে আপস বা সমঝোতা করতেই হবে, যা আপনার দলের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। আর পরিস্থিতি সামলে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্যই একটি শক্ত সংগঠনের প্রয়োজন।”

(দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অবলম্বনে)