যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি’ ঘোষণার পর কমেছে তেলের দাম

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবর প্রকাশের পর পরই বিশ্ববাজারে দেখা দিয়েছে তেলের দামে বড় পতন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ি, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়ায়।

যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং আগামী ১৯এ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তার এই ঘোষণার পর পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৮এ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে বন্ধ হয়ে যায় হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার ছিল। যুদ্ধ চলাকালে তা বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরতে সময় লাগবে।

লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের সভাপতি অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, প্রণালিতে পাতা মাইন অপসারণে কয়েক সপ্তাহ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ এখনো অপেক্ষায় আছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতেও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি রাতারাতি স্বাভাবিক হবে না। 

তার মতে, তেল পরিবহন ও জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে এক মাস থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এদিকে সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে গ্যাস ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি