যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
আলাপ ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএমআপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে ধীরগতিতে নিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
বৃহস্পতিবার ‘গ্লোবাল ইকোনোমিক প্রোসপেক্ট’ প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে সংস্থাটি ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া এবং ঋণ গ্রহণের খরচ বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে বিবেচিত। সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা আরও বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
প্রতিবেদনে এও বলা হয়, এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে সার বা ফার্টিলাইজারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যার প্রভাব খাদ্য পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাবে চলতি বছর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের ৩ দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় বেশি। তবে জ্বালানি সরবরাহে সংকট আরও গভীর হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক দুই-তৃতীয়াংশ দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।
সংস্থাটি আশা করছে, ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে তা ২০১০-এর দশকের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় এখনও কম থাকবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলো গত এক দশকে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। দেশভেদে প্রভাব আলাদা হলেও মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ধরে রাখা।”
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সহায়তার পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ঝুঁকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি কোভিড-১৯ মহামারির পর সবচেয়ে ধীরগতিতে নিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
বৃহস্পতিবার ‘গ্লোবাল ইকোনোমিক প্রোসপেক্ট’ প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে সংস্থাটি ২ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া এবং ঋণ গ্রহণের খরচ বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে বিবেচিত। সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা আরও বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
প্রতিবেদনে এও বলা হয়, এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে সার বা ফার্টিলাইজারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যার প্রভাব খাদ্য পণ্যের দামের ওপরও পড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাবে চলতি বছর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের ৩ দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় বেশি। তবে জ্বালানি সরবরাহে সংকট আরও গভীর হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক দুই-তৃতীয়াংশ দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।
সংস্থাটি আশা করছে, ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে তা ২০১০-এর দশকের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় এখনও কম থাকবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলো গত এক দশকে একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। দেশভেদে প্রভাব আলাদা হলেও মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ধরে রাখা।”
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সহায়তার পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
(তথ্যসূত্র: আলজাজিরা)
বিষয়: