পর্দায় ফিরতে চেয়েছিলেন শামস সুমন, চলে গেছেন না ফেরার দেশে

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ শামস সুমন। জীবনের শেষ দশকগুলো কাটিয়েছেন বড় পর্দার বাইরে। নতুন ধারার চলচ্চিত্রের খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে দূরে সরে যান। তবে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষাও জানিয়েছিলেন।

স্কুল জীবনে রেডিও নাটকে শামস সুমনের অভিনয়ের অভিষেক। রাজশাহী বেতারে নাটক সাথে ছিল আবৃত্তি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্ত ছিলেন ক্যাম্পাসভিত্তিক আবৃত্তি সংগঠন “স্বনন”-এর সাথে।

ধীরে ধীরে মঞ্চনাটক, উপস্থাপনা, সংবাদপাঠেও জড়িত হন তিনি। পরে যুক্ত হয় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে। ‘অহংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘যদি ভালবাসো’, ‘এই তো আমাদের বাড়ি’, ‘রাতের অতন্দ্র প্রহরী’, ‘খোঁজ’, ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন ছোটপর্দার প্রিয়মুখ।

‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনী’, ‘প্রিয় তুমি সুখী হও’, ‘চোখের জল’, ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ - এমন অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্বপ্নপূরণ’-এ তার অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে। 

তবে সময়ের সাথে অদৃশ্য হয়ে যান পর্দা থেকে। কয়েক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “মধ্যবয়স্ক শিল্পীদের চাহিদা কমে যাওয়াই এর একটি বড় কারণ।” একইসাথে স্বীকার করেছিলেন নতুন ধারার চলচ্চিত্রের সাথে খাপ খাইতে না পারার কথা। তার নিজের ভাষায়, “বর্তমানে যে টিভি, ওটিটি ও ইউটিউবকেন্দ্রিক নাট্যচর্চা, সেগুলোর সঙ্গে আমি নিজেকে অ্যাডাপ্ট করতে পারছি না। না সংলাপ, না চরিত্র, না কাহিনি, কোনোটার সঙ্গেই নিজেকে খুঁজে পাই না। তবে আমি চেষ্টা করছি, কীভাবে ফিরে আসা যায়। ক্যামেরাকে ভুলতে পারব না।” 

তবে জীবনের শেষ দশকগুলো পর্দার বাইরেই কাটিয়েছেন তিনি। ছিলেন ‘রেডিও ভূমি’র স্টেশন চিফ, সম্পৃক্ত ছিলেন চ্যানেল আইয়ের সাথে। ১৭ই মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে তিনি তার সহকর্মীদের ফোন করে শরীর খারাপ লাগার কথা বলেন। তাকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। 

বুধবার সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। ৬১ বছর বয়সে মারা যাওয়া শামস সুমন চিরনিদ্রায় থাকবেন জন্মভূমি রাজশাহীতে পারিবারিক কবরস্থানে।