১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার ধর্ষণ ও খুন, নেপথ্যে যা বেরিয়ে এলো
নরসিংদীতে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। প্রথমবার ধর্ষণের পর বিচার চেয়েও পাননি তার বাবা। পালিয়েও যেতে পারেননি। গ্রাম ছাড়ার সময় বাবার সামনে থেকেই তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় মেয়েকে।
মাহাদী হাসান
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪১ পিএমআপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ১৫ দিন পর ফের ধর্ষণ। এবার আর জীবনটাও থাকেনি। বাবার সামনে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক কিশোরীকে। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয় তার ক্ষতবিক্ষত লাশ। প্রথমে দৃশ্যত নীরব থাকলেও ফেইসবুকে আলোচনার ঝড় উঠলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ধর্ষণের পর বিচার চেয়েছিল পরিবার। দরজায় দরজায় ঘুরেছিল বাবা। কিন্তু ন্যায়বিচারের বদলে এসেছিল আপসের প্রস্তাব, টাকার বিনিময়ে চুপ থাকার চাপ। রাজি হননি তিনি। উল্টো পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।
কী ঘটেছিল
ঘটনার শুরু আরও ১৫ দিন আগে। স্থানীয় এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান এর কাছে যান। ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকার পরও পুলিশের কাছে যাওয়ার বিপরীতে তিনি নিজেই আপোসের চেষ্টা করেন। রাজি হননি ভুক্তভোগীর বাবা। এ জন্য গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় ওই পরিবারকে।
বুধবার রাতে কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে বের হয়েছিলেন তিনি। খালার বাড়িতে রেখে আসবেন, তার বিশ্বাস ছিল সেখানেই নিরাপদে থাকবে মেয়ে। কিন্তু পথেই ঘিরে ধরে ছয়জন। বাবার সামনে জোর করে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় তারা। অসহায় সেই বাবার চিৎকার, ছুটে চলা কিছুই থামাতে পারেনি তাদের।
পরে অন্য স্বজনরা মিলে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির করেও মেয়েটির খোঁজ পাননি।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।
মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ও সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নীরব প্রশাসন?
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহমাদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান এবং ধর্ষণ ও হত্যার মূল অভিযুক্তের চাচাতো ভাই।
ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাইরাল হবার পরই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের।
নরসিংদী সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেছেন, ঘটনাটি জানার পরই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন। আলাপকে তিনি বলেন, “আমি মাধবদীর ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অনেকটা একই রকম কথা বলেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটেছিল ২ তারিখে। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার থানায় যাননি।”
ঘটনাটি যখনই নজরে আসে তখনেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান ডিআইজি। তিনি বলেন, “প্রশাসন থেকে জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমরা তো ঘটনা জানার সাথে সাথেই আমাদের কাজ করেছি। আমরা সবার উদ্দেশ্যে বলব যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
এই ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আমি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেন এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন।
রাজনীতিকীকরণ ও ভাইরালিজম
সঠিক বিচার না হওয়ায় ধর্ষণসহ অনেক অপরাধ বাংলাদেশে ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি বলছেন, আলাপকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ধর্ষণসহ অনেক অপরাধ হয়। সব সরকারের আমলেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিচার না হওয়ায় এই অপরাধ বাড়তেই থাকে। শুধু যেগুলো আলোচনার জন্ম দেয় সেগুলোর ক্ষেত্রে হয়তো কখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
নরসিংদীর ঘটনাটি একটি সামাজিক অপরাধ উল্লেখ করে রাজনীতি বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি বলেন, বাচ্চাটা যখন ধর্ষণের শিকার হয়েছে তখন রিপোর্ট হয়েছিল, কিন্তু তেমন আলোচনা হয়নি। পরে আলোচনা তৈরি করা হয়েছে।
নরসিংদীর ঘটনায় রাজনীতিকিকরণ করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
“যেহেতু এই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কোনো ব্যাপার ছিল না, তাই আলোচনায় আসেনি।”
রনি বলেন, “এটা একটা সোশ্যাল ক্রাইম। এর সঙ্গে বিএনপির সংযোগ নাই। কিন্তু যখন পলিটিকাল কালার দেওয়া সম্ভব হলো তখনই তা আলোচনায় আসলো।”
যেই মানুষটা ধর্ষণে ছিল না কিন্তু মীমাংসার দায়িত্বে ছিল তার সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা থাকায় এটাকে ‘ভাইরাল’ করা হয়েছে বলে মনে করেন এই রাজনীতি বিশ্লেষক।
সমাজকে বিভক্ত করা ন্যারেটিভ পলিটিকসেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
একই রকম ধারণা সাইফুল আলম চৌধুরীরও। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার ইচ্ছা থেকে অনেক ঘটনা ‘ভাইরাল’ করার প্রবণতা থাকে।
“প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে যে কোনো অপরাধে একটা পলিটিক্যাল ডাইমেনশন স্থানীয়ভাবে ও জাতীয় পর্যায়ে তৈরি করা হয়।”
সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে যে কোনো অপরাধ গোপন করার প্রবণতা থাকে আর বিরোধীপক্ষ একে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে নেয়। দিন শেষে যারা ভুক্তভোগী তারা বিচার পায় না।
নরসিংদীর ঘটনাতেও দুটো বিষয় কাজ করেছে উল্লেখ করে সাংবাদিকতার এই শিক্ষক বলেন, প্রথমত সরকার নতুন, আর দ্বিতীয়ত তাদের দলের একজনের নাম এসেছে।
সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের যেকোনো অপকর্ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি আর এখন বিএনপি নিয়ে আলোচনা হবে।
“বিরোধীপক্ষ কোনো ইস্যু পেলে ভাইরাল করবেই। তারা এই অপেক্ষাতেই থাকে।”
১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার ধর্ষণ ও খুন, নেপথ্যে যা বেরিয়ে এলো
নরসিংদীতে ১৫ দিনের ব্যবধানে দুইবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। প্রথমবার ধর্ষণের পর বিচার চেয়েও পাননি তার বাবা। পালিয়েও যেতে পারেননি। গ্রাম ছাড়ার সময় বাবার সামনে থেকেই তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় মেয়েকে।
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ১৫ দিন পর ফের ধর্ষণ। এবার আর জীবনটাও থাকেনি। বাবার সামনে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক কিশোরীকে। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয় তার ক্ষতবিক্ষত লাশ। প্রথমে দৃশ্যত নীরব থাকলেও ফেইসবুকে আলোচনার ঝড় উঠলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ধর্ষণের পর বিচার চেয়েছিল পরিবার। দরজায় দরজায় ঘুরেছিল বাবা। কিন্তু ন্যায়বিচারের বদলে এসেছিল আপসের প্রস্তাব, টাকার বিনিময়ে চুপ থাকার চাপ। রাজি হননি তিনি। উল্টো পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।
কী ঘটেছিল
ঘটনার শুরু আরও ১৫ দিন আগে। স্থানীয় এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের পর বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান এর কাছে যান। ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকার পরও পুলিশের কাছে যাওয়ার বিপরীতে তিনি নিজেই আপোসের চেষ্টা করেন। রাজি হননি ভুক্তভোগীর বাবা। এ জন্য গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় ওই পরিবারকে।
বুধবার রাতে কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে বের হয়েছিলেন তিনি। খালার বাড়িতে রেখে আসবেন, তার বিশ্বাস ছিল সেখানেই নিরাপদে থাকবে মেয়ে। কিন্তু পথেই ঘিরে ধরে ছয়জন। বাবার সামনে জোর করে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় তারা। অসহায় সেই বাবার চিৎকার, ছুটে চলা কিছুই থামাতে পারেনি তাদের।
পরে অন্য স্বজনরা মিলে বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির করেও মেয়েটির খোঁজ পাননি।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো মরদেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা।
মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ও সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নীরব প্রশাসন?
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহমাদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান এবং ধর্ষণ ও হত্যার মূল অভিযুক্তের চাচাতো ভাই।
ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভাইরাল হবার পরই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের।
নরসিংদী সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেছেন, ঘটনাটি জানার পরই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন। আলাপকে তিনি বলেন, “আমি মাধবদীর ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অনেকটা একই রকম কথা বলেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটেছিল ২ তারিখে। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার থানায় যাননি।”
ঘটনাটি যখনই নজরে আসে তখনেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান ডিআইজি। তিনি বলেন, “প্রশাসন থেকে জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমরা তো ঘটনা জানার সাথে সাথেই আমাদের কাজ করেছি। আমরা সবার উদ্দেশ্যে বলব যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
এই ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আমি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেন এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন।
রাজনীতিকীকরণ ও ভাইরালিজম
সঠিক বিচার না হওয়ায় ধর্ষণসহ অনেক অপরাধ বাংলাদেশে ঘটে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী। তিনি বলছেন, আলাপকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ধর্ষণসহ অনেক অপরাধ হয়। সব সরকারের আমলেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিচার না হওয়ায় এই অপরাধ বাড়তেই থাকে। শুধু যেগুলো আলোচনার জন্ম দেয় সেগুলোর ক্ষেত্রে হয়তো কখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
নরসিংদীর ঘটনাটি একটি সামাজিক অপরাধ উল্লেখ করে রাজনীতি বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি বলেন, বাচ্চাটা যখন ধর্ষণের শিকার হয়েছে তখন রিপোর্ট হয়েছিল, কিন্তু তেমন আলোচনা হয়নি। পরে আলোচনা তৈরি করা হয়েছে।
নরসিংদীর ঘটনায় রাজনীতিকিকরণ করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
“যেহেতু এই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কোনো ব্যাপার ছিল না, তাই আলোচনায় আসেনি।”
রনি বলেন, “এটা একটা সোশ্যাল ক্রাইম। এর সঙ্গে বিএনপির সংযোগ নাই। কিন্তু যখন পলিটিকাল কালার দেওয়া সম্ভব হলো তখনই তা আলোচনায় আসলো।”
যেই মানুষটা ধর্ষণে ছিল না কিন্তু মীমাংসার দায়িত্বে ছিল তার সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা থাকায় এটাকে ‘ভাইরাল’ করা হয়েছে বলে মনে করেন এই রাজনীতি বিশ্লেষক।
সমাজকে বিভক্ত করা ন্যারেটিভ পলিটিকসেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
একই রকম ধারণা সাইফুল আলম চৌধুরীরও। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার ইচ্ছা থেকে অনেক ঘটনা ‘ভাইরাল’ করার প্রবণতা থাকে।
“প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে যে কোনো অপরাধে একটা পলিটিক্যাল ডাইমেনশন স্থানীয়ভাবে ও জাতীয় পর্যায়ে তৈরি করা হয়।”
সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, জাতীয় পর্যায় থেকে যে কোনো অপরাধ গোপন করার প্রবণতা থাকে আর বিরোধীপক্ষ একে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে নেয়। দিন শেষে যারা ভুক্তভোগী তারা বিচার পায় না।
নরসিংদীর ঘটনাতেও দুটো বিষয় কাজ করেছে উল্লেখ করে সাংবাদিকতার এই শিক্ষক বলেন, প্রথমত সরকার নতুন, আর দ্বিতীয়ত তাদের দলের একজনের নাম এসেছে।
সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের যেকোনো অপকর্ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি আর এখন বিএনপি নিয়ে আলোচনা হবে।
“বিরোধীপক্ষ কোনো ইস্যু পেলে ভাইরাল করবেই। তারা এই অপেক্ষাতেই থাকে।”