জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সব দেশের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে বিশ্বের সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধির মূল ভিত্ত। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে যৌথ অগ্রগতির জন্য তার যথাযথ ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সম্মেলন চলবে ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত। এতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ ও মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের দুই শতাধিক বক্তা এবং এক হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিপুল জনরায় নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকে সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বমানের উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নীতিগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের সেবা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে। যা পরবর্তীতে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর অধীনে সমন্বিত রূপ পাবে।

এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ করছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। একই সাথে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলে মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেন’-কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি উল্লেখ করে সেচ, প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু সহনশীলতা ও পানি নিরাপত্তা জোরদারে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

গ্রিন ফ্যাক্টরি ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড পরিবেশবান্ধব কারখানার মধ্যে ৫৩টিই বাংলাদেশে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের কথা পুনরুল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। এই সংকটের সূচনা যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর সমাপ্তিও সেখানেই হতে হবে।