স্পিনোজা দিয়ে শুরু, জর্জ ক্লুনি দিয়ে শেষ

আমি আজ এখানে দেখবো পল শ্র্যাডারের ছবি ‘বেসিকস অব ফিলোসফি’। দর্শন আমার অত্যন্ত প্রিয় বিষয়। কাজেই এই বিষয়ের ছবি দেখতে বসে ভালোই লাগছে। ছবির আলাপে ঢোকার আগে একটু বলে রাখি, পরিচালকের বয়স ৮০ এবং তিনি প্রখ্যাত পরিচালক মার্টিন স্করসিসির প্রিয় চিত্রনাট্যকার। স্করসিসির ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ও ‘রেজিং বুলে’র মতো ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন শ্র্যাডার। 

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

ভেনিসে এসে একটা বিষয় দেখে মর্মাহত হয়েছি। ইউরোপের অন্য শহরের তুলনায় এখানে বই পড়া কমে গেছে। বাসে ও জলযানে হাতেগোনা মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক কিছু মানুষের হাতে বই দেখেছি, আর বাকি সবার হাতে মোবাইল। কেউ তাতে রিল দেখছে, কেউ বা ক্যান্ডি ক্রাশ ধরনের গেমস খেলছে। ব্যতিক্রমহীনভাবে আজও ‘মিরানিসে পিয়েমন্তে’ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাত নাম্বার বাসে উঠেছি। দেখি এক কোনে এক ভদ্রমহিলা কেবল একটি বই পড়ছে। বাকিরা মোবাইল ফোনে নানাকিছু নিয়ে বুঁদ হয়ে আছে। অবশ্য আমি মোবাইলে অখিলবন্ধু ঘোষের গান ছেড়ে দিয়ে শুনছি আর দু’চোখ ভরে ভেনিসের ভবন, ফুটপাত আর মানুষ দেখছি। দেখছি আমাদের বাস শহরতলী ছাড়িয়ে হ্রদের দিকে এগুচ্ছে। দুইপাশে আদিগন্ত জলরাশি। একপাশে বড় বড় জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কারখানা।  তারই মধ্য দিয়ে এক চিলতে রাস্তা ধরে আমাদের বাস এগিয়ে যাচ্ছে পিয়াৎজেল রোমার দিকে। ঘন নীল পানির ওপর মেঘহীন গাঢ় নীলিমা।

সাদা গাঙচিল যেন শিল্পীর তুলির ভূমিকা পালন করছে। কানে বাজছে: “ওই যে আকাশের গায়/ দূরের বলাকা ভেসে যায়/ ওরা বাসা বাঁধে না/ ওরা চঞ্চল ওরা উদ্দাম/ ওরা কারোর ব্যথায় কাঁদে না।” 

ঘাটে গিয়ে দেখি দুই নাম্বার ভেপোরেত্তো দাঁড়িয়ে আছে। আমি ওঠার আগে চট করে সামনের পত্রিকার স্ট্যান্ডে গিয়ে মিন্ট কিনলাম। দেখি বিক্রেতা ভদ্রমহিলা টাঙ্গাইলের মানুষ। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন, ঘুরতে এসেছেন? আমি কারণ জানিয়ে বিদায় নিলাম। কার্ড পাঞ্চ করে উঠে পড়লাম লঞ্চে। আজকে সামনে ভালো আসন পাওয়া গেলো। খোলা ডেক। রোদের কড়াকড়ি আছে বটে, তবে চোখে রোদচশমা দিয়ে রাখলে অপরূপ দৃশ্যের প্রসাদ পাওয়া যায়। হ্রদের পানি কেটে এগিয়ে যাচ্ছি দ্বীপ ‘লিডো ডি ভেনেৎসিয়া’র দিকে। আজ ছবি দেখবো উৎসবের মূল মিলনায়তনে, নাম ‘সালা গ্রান্দে’। এটি উৎসবের মূল ভবন ‘পালাৎজো দেল চিনেমা’ বা সোজা বাংলায় সিনেমার প্রাসাদের ভেতর অবস্থিত। আমি ঘাট থেকে বাসে করে এসে ভেন্যুতে নামলাম চার কি পাঁচ মিনিট লাগলো। নিরাপত্তা চৌকি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি সাদা চৌকো সিনেমার প্রাসাদের দিকে।  ইতালীয় স্থপতি লুইজি কোয়ালিয়াতার নকশায় এটি নির্মিত হয় ১৯৩৭ সালে। এই প্রাসাদের সামনে লালগালিচায় হেঁটে তারকারা প্রবেশ করেন মূলভবনে।

সকাল ১১টার শোতে অবশ্য রেডকার্পেট এলাকা বন্ধ। আমরা পাশের দরজা দিয়ে ঢুকলাম ভেতরে। হলের নাম ‘সালা গ্রান্দে’, আকারেও সেরকম গ্র্যান্ড। এক হাজারের ওপর দর্শক ধারণ ক্ষমতা রয়েছে এই প্রেক্ষাগৃহের। এখানেই উৎসবের উদ্বোধনী, সমাপনী, গালা প্রিমিয়ার ও গোল্ডেন লায়ন প্রদানের অনুষ্ঠান হয়।

আমি আজ এখানে দেখবো পল শ্র্যাডারের ছবি ‘বেসিকস অব ফিলোসফি’। দর্শন আমার অত্যন্ত প্রিয় বিষয়। কাজেই এই বিষয়ের ছবি দেখতে বসে ভালোই লাগছে। ছবির আলাপে ঢোকার আগে একটু বলে রাখি, পরিচালকের বয়স ৮০ এবং তিনি প্রখ্যাত পরিচালক মার্টিন স্করসিসির প্রিয় চিত্রনাট্যকার। স্করসিসির ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ও ‘রেজিং বুলে’র মতো ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন শ্র্যাডার। নিজের ছবিও কম নাম করেনি: ‘আমেরিকান জিগোলো’, ‘ওহ, কানাডা’ ইত্যাদি। তো এমন পরিচালকের ছবি প্রত্যাশা তো থাকেই।

ছবির কাহিনি হলো জন জরিসন নামের এক দর্শনের শিক্ষক দার্শনিক স্পিনোজার ওপর বই লিখছেন। এই পুস্তক রচনাকালেই তার জীবনে আচমকা অনেকগুলো ঘটনা ঘটে যায়। এবং প্রতিটি ঘটনার উত্তর তিনি খোঁজার চেষ্টা করেন স্পিনোজার কাছে। সহকর্মী ও মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক বেকা’র সঙ্গে জনের সম্পর্ক রয়েছে। তারা পরস্পরকে পছন্দ করে। কিন্তু কোথায় যেন একটা ছন্দপতন আছে, তা দু’জনের কেউই ধরতে পারে না। জন নিজের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। এরই ভেতর জনের বাবা মারা যায়। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজির হয় মিগুয়েল নামের এক লোক। এখান থেকেই অস্থিরতা শুরু। এই মিগুয়েল যখন কিশোর তখন তাকে পিয়ানো শেখাত জন। তখন একদিনের দুর্বল মুহূর্তে জনের সমকাম জাগ্রত হয় এবং কিশোর মিগুয়েলকে সে হতভম্ব করে দেয়। ঘটনা অভিভাবক পর্যন্ত গড়ায়। এরপর ছেলের কৃতকর্ম ঢাকার জন্য জনের বাবা মিগুয়েলের সকল লেখাপড়া ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। বিষয়টি সেখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু দেখা গেলো বহু বছর পর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মিগুয়েলকে দেখে জন তার পিছু নেয় এবং তার প্রতি যে এখনো সে আকৃষ্ট সেটা বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মিগুয়েল প্রতিশোধ নিতে তার কৈশোরের ঘটনাটি জানিয়ে দেয় জনের প্রেমিকা ও বাগদত্তা বেকাকে। এটা নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে জন বারবার দার্শনিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে। সে বোঝার চেষ্টা করে অস্তিত্বশীল মানুষ কেন অদ্ভুত আচরণ করে?

এসব আচরণ দিয়ে আবার তার মানুষকে পুরোপুরি বিচার করা চলে না। মানুষ পাল্টায়, আবার পাল্টায়ও না। তবে কি একই বৃত্তে ঘূর্ণাবর্তকেই মানুষ পরিবর্তন বলে ভুল করে? জন যে আচরণ করেছিল মিগুয়েলের সাথে, তাতে মনে হচ্ছিল সে সমকামী। কিন্তু পরে দেখা গেলো সে এক নারীকে ভালোবাসে। তার ভেতর সমকামিতা নেই। কিন্তু যখনই উপযুক্ত পরিবেশ উপস্থিত হচ্ছে জন সমকামী হয়ে উঠছে। তাহলে সে কি উভকামী? তার নিজেকে আবিষ্কার করা থামে না।

‘বেসিকস অব ফিলোসফি’র গল্পটা নাকি পরিচালক শ্র্যাডার লিখছেন সেই ‘ট্যাক্সি ড্রাইভারে’র আমল থেকেই। নিজেই বলেছেন সে কথা। তিনি বলেন, একজন নিঃসঙ্গ, বিচ্ছিন্ন ও চিন্তামগ্ন মানুষের কথাই তিনি বারবার বলেছেন। সেই মানুষটি তার যাত্রা শুরু করেছিল একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে, এরপর একজন এসকর্ট হিসেবে (আমেরিকান জিগোলো), মাদক সরবরাহকারী হিসেবে (লাইট স্লিপার), মন্ত্রী হিসেবে (ফার্স্ট রিফর্মড), বাগানের মালি হিসেবে (মাস্টার গার্ডেনার), আর এখন একজন দর্শনের শিক্ষক হিসেবে।

প্রথম জীবনে চলচ্চিত্র সমালোচক ছিলেন শ্র্যাডার। এরপর আরেক চলচ্চিত্র সমালোচক পলিন কায়েলের সহায়তায় শ্র্যাডার ভর্তি হন ফিল্মস্কুলে। প্রথম জীবনেই চিত্রনাট্যকার হিসেবে পেয়ে যান বিশ্বজোড়া খ্যাতি। এই আশি বছর বয়সে এসেও তার হাতে রয়েছে আরো চলচ্চিত্রের কাজ। জীবনের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় যে এখন কাটছে শ্র্যাডারের, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে কোনো প্রতিযোগিতা করছে না।

ছবি শেষ হওয়ার পরপরই পাশে বসে থাকা দুইজনকে জিজ্ঞেস করলাম, তাদের কেমন লেগেছে। উত্তরে ওরা বললেন, তেমন একটা ভালো লাগেনি। ওদের সাথে আমিও খুব একটা দ্বিমত করতে পারলাম না। ছবিটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্পাদনা ও ক্যামেরার কাজে আরো মনোযোগ দেওয়া যেত বলে মনে হয়েছে। পাশাপাশি কাহিনির বিস্তার ও সংলাপেও কোথাও কোথাও আরোপিত মনে হয়েছে।

যাহোক, গ্র্যান্ড হল থেকে বেরিয়েই দেখি প্রচণ্ড রোদ। ক্ষুধার্ত বোধ করছি। পাশেই সারি সারি খাবারের দোকান। খেয়ে নিলাম চক করে। এরপর প্রেস এরিয়ায় গিয়ে লিখতে বসি। প্রেস এরিয়ায় মুখ গুঁজে শতাধিক সাংবাদিক কাজ করে যাচ্ছেন। মুখে কোনো কথা নেই, কিন্তু যান্ত্রিক শব্দের খুটখুট শব্দ শুনে বোঝা যায় ঝড় বয়ে যাচ্ছে অন্য কোথাও। বাইরে বেশ শান্ত সুনীল সাগর। কোনো কোনো সাংবাদিক উঠে গিয়ে জানালা খুলে সেই আকাশ আর সাগরের দিগন্তরেখার ছবি তুলছেন। পরের ছবিটি ‘হরাইজন’ বিভাগে থাকা ‘এক্লিপস’। ছবির পরিচালক অস্ট্রিয়ান, কিন্তু থাকেন বার্লিনে, নাম ম্যানুয়েল ভেৎসের।

ছবির সিনেমাটোগ্রাফি অত্যন্ত উন্নত মানের। আর যে প্রাকৃতিক পরিবেশকে পেছনে রেখে ছবিটি করা হয়েছে তাতে ছবির সৌন্দর্য বেড়ে গেছে আরো কয়েকগুণ। ছবিতে দেখা যায় টমি আর ক্রিস দুই বন্ধু, তারা কিশোর। গ্রীষ্মের ছুটিতে তারা কাজ করতে এসেছে টমির আঙ্কেলের গরুর খামারে। খামারটি সবুজঘেরা এক পাহাড়ে। সেখানে তারা প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে প্রাণবন্ত প্রাণে পরিণত হয়।

সবকিছুই বেশ সুন্দর চলছিল। কিন্তু হঠাৎ একটা তথ্য সব ওলোটপালোট করে দেয়। টমিকে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে খামারে পাঠিয়ে দেওয়ার বড় কারণ হলো তার বাবার অসুস্থতা। ওর বাবা হাসপাতালে ভর্তি এবং টমিকে বলা হয় ওর বাবার নিউমোনিয়া হয়েছে। আসলে ওর বাবা এইডস আক্রান্ত। গ্রামের লোকজন যখন সবখানে ছড়িয়ে দেয় টমির বাবার ‘গে ডিজিজ’ হয়েছে এবং সেটা যখন টমির কানে আসে, তখন তার সকল দুনিয়া ভেঙে পড়ে। প্রাণের বন্ধু ক্রিসের সাথে থাকা সম্পর্কেরও তাল কেটে যায়। তবে ধীরে ধীরে সব ঠিক হতে থাকে, যখন টমি বাবার অসুখটাকে স্বাভাবিকভাবে নিতে থাকে আর বাবা হিসেবে আবিষ্কার করতে থাকে যে, সে বাবাকে সবকিছুর পরও অনেক ভালোবাসে।

ছবির কাহিনি মূলত পরিচালকের নিজের জীবন থেকেই নেওয়া। ম্যানুয়েলের বাবাও এইডস সংক্রান্ত ক্যান্সারে মারা যান। সমাজে এইডস রোগীদের নিয়ে যে ট্যাবু রয়েছে সেটি এই চলচ্চিত্রে মাধ্যমে ভাঙতে চেয়েছেন ম্যানুয়েল। এইডস নিয়ে মানুষের কুসংস্কারাচ্ছন্ন অজ্ঞতাকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। কিন্তু কি শান্ত ও সৌম্য ভঙ্গিমায়, ছবিটি না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

ছবি দেখে বেরিয়ে এলাম। ভাবলাম আজকের দুটি ছবিতেই বাবা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাতে ছিল। প্রথম ছবিতে জন বোধহয় বাবার কর্তৃত্বের কারণে তার সমকামকে অবদমিত করে রেখেছিল। আর দ্বিতীয় ছবিতে বাবার প্রতি ভালোবাসা থেকে সামাজিক ট্যাবুকেও তুচ্ছজ্ঞান করতে পেরেছিল টমি। দুটো ছবিই আসলে ভাবনার খোরাক জোগায়।

গত দুদিন ধরে একটা কাজ করি আমি। ফটোকলের জায়গাটিতে যাই। প্রতিদিনই কারো না কারো ফটোকল থাকে। আজ উৎসবের তৃতীয় দিন, ‘সারপেন্তে’ ছবির কলাকুশলীদের নিয়ে ছবি তোলার অনুষ্ঠান আছে। সেখানে গিয়ে শুনি ছবিটি সবার সঙ্গে দেখেছেন হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি। তিনিও ওদের সাথে ফটোকলে অংশ নেবেন। ক্লুনিকে এবছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে স্বর্ণসিংহ। তো ক্লুনি আসবেন শুনে আমার সাংবাদিকসুলভ দায়িত্ববোধ থেকে অপেক্ষা করতে থাকি। মিনিট পনেরো পর ক্লুনি এলেন অন্যদের সঙ্গে। আমি বেশ কাছ থেকেই চিত্রধারণ করতে পারলাম। চেষ্টা করলাম যতটা কাছ থেকে ভালো করে ক্লুনিকে পাকড়াও করা যায়। শেষ পর্যন্ত তা করা গেলো।  ক্লুনি ছবিটবি তুলে হাত নেড়ে চলে গেলেন। আমিও পা বাড়ালাম বাড়ির দিকে।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর যখন এপার্টমেন্টের সামনে নামলাম, তখন দোকানপাট প্রায় সব বন্ধ। একটি কাবাবের দোকান খোলা দেখে ঢুকলাম, দেখি সব গুছিয়ে ফেলছে। খাবার শেষ। রাত বাজে সোয়া এগারোটা। খাবারের দোকান খুঁজতে লাগলাম। বাসে করে আসার সময় দেখেছিলাম একটি পিৎজার দোকার খোলা ছিল পেছনের দিকে। হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে দেখি ওরাও প্রায় বন্ধ করার পথে। আমার অনুরোধে গরম গরম পিৎজা বানিয়ে দিল। মাঝরাতে পিৎজা কিনে বাড়ি ফিরলাম। খাওয়াদাওয়া ও নাওয়া শেষ করতে করতেই মধ্যরাত হয়ে যায়। পরেরদিন আবার নতুন চলচ্চিত্র, নতুন অভিজ্ঞতা। উদগ্রীব হয়ে থাকি আমি। এ এক নেশার মতো: ‘তোমার বাড়ির রঙের মেলায় দেখেছিলাম বায়োস্কোপ, বায়োস্কোপের নেশা আমায় ছাড়ে না।”