বিশ্বকাপে ইংলিশ সমর্থকদের কণ্ঠে উঠেছিলো ‘হেই জুড’, বিশ্বকাপ শেষে সেই একই সুর ফিরেছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেও। প্রশ্ন হলো, আওয়াজটা কি শুধু গ্যালারিতেই বাজবে, নাকি ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও ভালোমতো থাকবেন জুড বেলিংহাম?
একটা সময় মনে হচ্ছিলো, হয়তো একটু হারিয়েই গেছেন বেলিংহাম। রেয়াল মাদ্রিদ হয়ে প্রথম মৌসুমে ২৩ গোল, ১৩ অ্যাসিস্ট। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো দুটি বড় ট্রফি। ২০২৪ ব্যালন ডি’অরে তৃতীয়। ২০ বছর বয়সেই যেন বিশ্বের সেরাদের কাতারে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
কিন্তু পরের মৌসুমটা ছিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাঁধের অস্ত্রোপচারের কারণে মৌসুমের শুরুটা মিস করেছিলেন। পরে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আরও ১০ ম্যাচ বাইরে। তার ওপর জাভি আলোনসোর অধীনে তাকে অনেক বেশি নিচে খেলতে হয়েছে। কখনো কখনো এমনকি নিজের দলের বক্সের কাছেও দেখা গেছে তাকে, যে ভূমিকা নিয়ে পরে হোসে মরিনিও মজা করে বলেছেন, বেলিংহাম গত মৌসুমে যেন ‘দ্বিতীয় লেফট-ব্যাক’ হয়ে গিয়েছিলেন।
ফলও এসেছে তার প্রভাবেই। ৪০ ম্যাচে মাত্র ৮ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট। রেয়াল মাদ্রিদও জিততে পারেনি কোনো ট্রফি। এরপর গত বিশ্বকাপে খেলা আবার আরেক লেভেলে নিয়ে গেলেন তিনি।
এক মিডফিল্ডারের সাত গোল
বিশ্বকাপে আট ম্যাচে সাত গোল, সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট।
আর এই সাত গোলের সঙ্গেই ইতিহাসে নাম লিখে ফেলেছেন বেলিংহাম। ২০২৬ বিশ্বকাপে এক আসরে সাত গোল করা ইতিহাসের প্রথম মিডফিল্ডার বেলিংহাম। শুধু সংখ্যাটা দেখলেও চমকে উঠতে হয়। কারণ এই সাত গোল এসেছে কোনো স্ট্রাইকার বা উইঙ্গারের কাছ থেকে নয়, একজন মিডফিল্ডারের কাছ থেকে।
বেলিংহামের সবচেয়ে বড় শক্তি স্রেফ গোল করা নয়। তিনি একই ম্যাচে বল কেড়ে নিতে পারেন, মাঝমাঠ পেরিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে পারেন, সুযোগ তৈরি করতে পারেন, বক্সে ঢুকতে পারেন, আবার নিজেই গোল করতে পারেন। বেলিংহাম যেন একাই একশো! তাই বিশ্বকাপের সাত গোল তার জন্য কেবল গোলের সংখ্যা নয়, বরং এটা বোঝায় যে তিনি কী জিনিস! আর বেলিংহামের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, একেবারে চূড়ান্ত কোনো সময় মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কনট্রিবিউশন।
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও পেয়েছেন বেলিংহাম। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে সাত গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছেন বেলিংহাম, সবগুলো গোলই এসেছে বিশ্বকাপে।
২০২৪ ইউরোর শেষ ষোলোতে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ৯৪ মিনিটে সেই অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিকের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই, ইংল্যান্ড যখন বিদায়ের পথে। বেলিংহামের এক মুহূর্তই বদলে দিয়েছিল ম্যাচের গল্প।
২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই গল্পের পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। এ কারণেই তাকে বলা যায় ইংল্যান্ডের ‘মোমেন্টস প্লেয়ার’, যে প্লেয়ার পুরো ম্যাচে ভালো থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনের মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথই বদলে দিতে পারেন।
আর এমন পারফরম্যান্সের পর ইংলিশ সমর্থকদের কণ্ঠে আবারও উঠেছে হেই জুড না নাহ না নাহ…
দৃশ্যটার মধ্যে এক অদ্ভুত ইংলিশ ব্যাপার আছে, একটি কিংবদন্তি ইংলিশ ব্যান্ডের কিংবদন্তি গান, গাওয়া হচ্ছে জুড নামের এক অসাধারণ ইংলিশ তরুণকে উদ্দেশ করে। আর জুড? সে শুধু দাঁড়িয়ে আছেন, মুহূর্তটাকে নিজের মধ্যে ধারণ করছেন। দেখে মনে হচ্ছিল, এই দৃশ্যটা যেন স্মৃতিতে গেঁথে রাখার চেষ্টা করছেন যে এই মুহূর্তে পুরো ইংল্যান্ডের ভালোবাসা একসঙ্গে প্রকাশ হচ্ছে তার জন্য। এমন একটি মুহূর্ত যেটা সে সারা জীবন মনে রাখবেন।
বিশ্বকাপের পরও থামেননি
বিশ্বকাপের সাত গোলের পর একটা প্রশ্ন থাকতেই পারত যে এটা কি শুধুই একটি অসাধারণ টুর্নামেন্টের গল্প? এরপর উয়েফা নেশনস লিগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বেলিংহাম যেন সেই প্রশ্নের উত্তরই দিলেন। ৭-০ ব্যবধানের জয়ে এক গোল করেছেন, করিয়েছেন আরও তিনটি। এক ম্যাচে চার গোল-অবদানের কীর্তি ইংল্যান্ডের হয়ে কোনো মিডফিল্ডার সর্বশেষ করেছিলেন ডেভিড প্ল্যাট, ১৯৯৩ সালে সান মারিনোর বিপক্ষে। ৩৩ বছর পর সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন বেলিংহাম। আর তিনটি অ্যাসিস্টের এই কীর্তি ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের।
অর্থাৎ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও বেলিংহামের সেই আক্রমণাত্মক ধার কমেনি। বরং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তাকে দেখা গেল আরও সম্পূর্ণ এক মিডফিল্ডার হিসেবে যে গোল করছেন, নিচ থেকে আক্রমণ তৈরি করছেন, আবার শেষদিকে নিজের অর্ধ থেকে মর্গান রজার্সকে গোলের বলও দিচ্ছেন। আর ম্যাচ শেষে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটা বেলিংহামের হাতে তুলে দেন এক বিশেষ ইংলিশ সমর্থক স্টিভেন মুর। ২৫ বছর ধরে ইংল্যান্ডের কোনো ম্যাচ মিস করেননি তিনি অর্থাৎ, বেলিংহামের জন্মের আগে থেকে ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচ অ্যাটেন্ড করছেন মুর। মজার ব্যাপার, মুরের প্রিয় ক্লাব বার্মিংহাম সিটি, যে ক্লাবের হয়েই বেলিংহামের পেশাদার ফুটবলের শুরু।
ম্যাচের শেষ দিকে হ্যারি কেন মাঠ ছাড়লে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও উঠে আসে বেলিংহামের হাতে। এখনো ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি কেন, কিন্তু বেলিংহামের হাতে সেই আর্মব্যান্ড যেন ভবিষ্যতের একটা ছবিও দেখিয়ে গেল। আর এই ম্যাচেই বেলিংহাম দেখালেন, বিশ্বকাপের সেই সাত গোল বিচ্ছিন্ন কোনো গল্প ছিলো না। সংখ্যায়ও বদলটা পরিষ্কার। ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম ৪৮ ম্যাচে বেলিংহামের গোল ছিল মোটে ছয়টি। এরপর মাত্র ১১ ম্যাচেই করেছেন আরও আট গোল। অর্থাৎ যে বেলিংহাম একসময় জাতীয় দলের হয়ে গোলের চেয়ে নিজের অন্য কাজগুলো দিয়েই বেশি প্রভাব ফেলতেন, এখন সেই তিনিই নিয়মিত ম্যাচের ফল বদলে দিচ্ছেন গোল ও অ্যাসিস্টে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে চার গোল-অবদানের পর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক রয় কিনও বলেছেন, বেলিংহাম চাইলে সর্বকালের সেরাদের একজন হয়ে উঠতে পারেন।
আর ম্যাচটির সবচেয়ে প্রতীকী দৃশ্যগুলোর একটি ছিল অন্য প্রান্তে। ৪১ বছরের লুকা মদরিচের বিপরীতে ২৩ বছরের বেলিংহাম। একসময় মদরিচ যে কাজগুলো করতেন যেমন মাঝমাঠ থেকে পাস তৈরি করা, আক্রমণ এগিয়ে নেওয়া, আবার বক্সে ঢুকে গোল করা, সেই একই কাজ যেন এবার করে দেখালেন বেলিংহাম। দৃশ্যটা যেন এক প্রজন্মের হাতবদলের মতোও।
কিন্তু ব্যালন ডি’অর তো শুধু বিশ্বকাপ নয়
এখানেই সমস্যাটা বেলিংহামের, কারণ ব্যালন ডি’অর কোনো আট ম্যাচের টুর্নামেন্টের পুরস্কার নয়। পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় আসে। আর সেই জায়গায় বেলিংহামের ২০২৫-২৬ মৌসুম খুব একটা শক্তিশালী নয়ত রেয়াল মাদ্রিদ শূন্য ট্রফি তার দাবিকে সবচে বড় ধাক্কাটা দেয়।
তার ওপর আবার এই পুরস্কারের দৌড়ে আছেন হ্যারি কেন। আর এখানেই গল্পটা আরও মজার। কেননা কেনের মৌসুমটা ছিল অসাধারণ। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে তার গোলের সংখ্যা ঐতিহাসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, দলকে বড় ট্রফিও জিতিয়েছেন। বিশ্বকাপেও করেছেন ছয় গোল।
অর্থাৎ বেলিংহামকে শুধু এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল বা অন্যদের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে না। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আরেক ইংলিশম্যান এবং সম্ভবত আরও শক্তিশালী মৌসুমের মালিক হ্যারি কেন।
ইংল্যান্ডের ২৫ বছরের অপেক্ষা
এই লড়াইয়ে যোগ হচ্ছে ইতিহাসও। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন। অর্থাৎ ২০২৬ সালে এসে ইংল্যান্ডের অপেক্ষা দাঁড়িয়েছে ২৫ বছরে।
কেন জিতলে গল্পটা হবে সহজ। ইংল্যান্ডের এক স্ট্রাইকার, অবিশ্বাস্য গোলের মৌসুম, বড় ট্রফি আর ২৫ বছর পর ব্যালন ডি’অর ফিরছে ইংল্যান্ডে।
কিন্তু বেলিংহাম জিতলে? গল্পটা হবে আরও অন্যরকম।
কারণ তখন ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাবেন একজন মিডফিল্ডার, যিনি বিশ্বকাপেই সাত গোল করে ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে একই আলোচনায় উঠে এসেছেন।
কেনেও আছি, বেলিংহামেও আছি
হ্যারি কেনের সবচেয়ে বড় প্রভাব আসে আক্রমণভাগে। বেলিংহামকে দিয়ে একই মাপকাঠিতে বিচার করলে তার বিশেষত্বটাই হারিয়ে যায়। তিনি শুধু শেষ তৃতীয়াংশের খেলোয়াড় নন।
রক্ষণ থেকে বল বের করা, মাঝমাঠ পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া, প্রেস করা, বল পুনরুদ্ধার, সুযোগ তৈরি, বক্সে দৌড়, গোল করা একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ম্যাচের অনেক বেশি জায়গায় প্রভাব ফেলতে পারেন। তাই প্রশ্নটা এমন নয় যে সাত গোল করেছেন বলে বেলিংহামই ব্যালন ডি’অর পাওয়ার যোগ্য।
বরং প্রশ্নটা এমন যে একজন মিডফিল্ডার যখন বিশ্বকাপে সাত গোল, একটা অ্যাসিস্ট করে আট ম্যাচে আট গোলে অবদান রাখে এবং একই সঙ্গে ম্যাচের প্রায় সব পর্যায়েই প্রভাব ফেলেন, তখন তার সেই পারফরম্যান্সকে কতটা গুরুত্ব দেবেন ব্যালন ডি’অরের ভোটাররা?
মেসির ২০২২ বিশ্বকাপ কিংবা রদ্রির ২০২৪ ব্যালন ডি’অর জয়ের উদাহরণ সামনে এনে বেলিংহামের সমর্থকেরা যুক্তি দিতেই পারেন যে বিশ্বকাপ কখনো কখনো পুরো দৌড়ের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
তবে পার্থক্যটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ একাই ব্যালন ডি’অর জেতায় না। বরং যখন একটি শক্তিশালী মৌসুমের সঙ্গে বিশ্বকাপের অসাধারণ পারফরম্যান্স যোগ হয়, তখন সেটিই হতে পারে পার্থক্য।
মরিনিও কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বেলিংহামের গল্পটা হয়তো শুধু ২০২৬ ব্যালন ডি’অর নিয়ে নয়।
হয়তো গত মৌসুমে বেলিংহাম তার মান হারাননি। হারিয়েছিলেন তার স্বাধীনতা।
মরিনিও দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে আবার খেলাচ্ছেন ৪-২-৩-১-এ, মূলত ১০ নম্বর পজিশনে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের অনেক কাছাকাছি।
মরিনিওর ভাষায়, তাকে ছয় বা আট নম্বরে খেলালে বেলিংহামের গোলের কাছাকাছি থাকার ক্ষমতাটাই হারিয়ে যায়। বেলিংহাম নিজেও বলেছেন, এখন তিনি বেশি স্বাধীন বোধ করছেন, কারণ কখন নিচে নামবেন, সামনে থাকবেন, বক্সে ঢুকবেন, এইসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা এখন আছে তার।
আর তার ফলেই মৌসুমের শুরুতেই গোল-অ্যাসিস্টে অবদান। এরপর মালাগার বিপক্ষে এমন একক প্রচেষ্টা, যেখানে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে গোল করলেন।
অর্থাৎ ইংল্যান্ডে যে বেলিংহামকে দেখা যাচ্ছে, রেয়াল মাদ্রিদেও যেন সেই বেলিংহামকেই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন মরিনিও। বিশ্বকাপে বেলিংহাম ছিলেন এমন একজন মিডফিল্ডার, যিনি নিজের জায়গা ছেড়ে আক্রমণে উঠেছেন, বক্সে ঢুকেছেন, গোল করেছেন। এখন রেয়াল মাদ্রিদেও তার জন্য সেই স্বাধীনতাই ফিরছে।
আর তারপর আবারও বার্নাব্যুতে ‘হেই জুড’। পরিচিত সেই গানে হোম গ্রাউন্ডে মাস না জেতেই আরও একটা স্ট্যান্ডিং ওভেশন। আর একটা অনুভূতি, জুড বেলিংহাম ফিরে এসেছেন।
তাহলে ব্যালন ডি’অরেরও কি ‘হেই জুড’?
সম্ভবত ২০২৬ সালেই উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ হবে না। কেনের পুরো মৌসুম, রেয়াল মাদ্রিদের ট্রফিহীনতা এবং অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তিশালী ক্লাব মৌসুম সব মিলিয়ে বেলিংহামের পথটা কঠিন।
কিন্তু তাকে নিয়ে প্রশ্নটা এখন আর আগের মতোও নয়। কয়েক মাস আগেও আলোচনা ছিল যে বেলিংহাম কি তার সেরা অবস্থান হারিয়ে ফেলেছেন কী না। কিন্তু এখন মরিনিও কি সেরা বেলিংহামকে আবার ফিরিয়ে এনে তাকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়েই ফিরিয়ে দিয়েছেন?
হয়তো এবার পুরস্কারটা ইংল্যান্ডে ফিরবে হ্যারি কেনের হাত ধরে। হয়তো ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটবে অন্য কারও হাতে।
কিন্তু বেলিংহাম জিতলে সেই ইতিহাসের রংটা হবে সবচেয়ে আলাদা। একজন ইংলিশ মিডফিল্ডার, বিশ্বকাপে সাত গোল, বড় ম্যাচের মুহূর্তে বারবার নায়ক হয়ে ওঠা আর তারপর ব্যালন ডি’অর।
হয়তো ২০২৬ সালে জুড বেলিংহামের হাতে সেই পুরস্কার উঠবে না। কিন্তু বিশ্বকাপে সাত গোল, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে চার গোল-অবদান আর বার্নাব্যুতে আবার ‘হেই জুড’ শুনে তিনি ইতিমধ্যেই একটা প্রশ্ন রেখে দিয়েছেন। জুড কি শুধু আবার ফর্মে ফিরেছেন? নাকি ‘হেই জুড’ গ্যালারি থেকে শুরু হয়ে আবারও ফিরছে বিশ্বের সেরাদের মঞ্চে?