‘নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরবো’, রয়টার্সকে সাকিব

দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে থাকা সকল অভিযোগের বিচার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে বিদায়ী সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চান তিনি।

টেলিফোনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, “সরকার যদি জানায় আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আমি আনন্দের সঙ্গে দেশে ফিরে যাবো। আদালতের বিচারসহ যা যা প্রয়োজন, সব কিছুরই মুখোমুখি হবো।”

সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং তার বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলাটি ‘হাস্যকর’।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাকিব আল হাসান।

আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্যও ছিলেন তিনি। সরকার পতনের পর সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

সাকিব জানান, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা এবং অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে মামলা। তার দাবি, হত্যা মামলাটি এমন এক দিনে করা হয়, যেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন।

দেশে ফেরার চেষ্টা এর আগেও করেছিলেন বলে জানান সাকিব। ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশে বিমানে উঠেছিলেন। তবে মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে দুবাই থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।

আরেক দফা দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়। সামাজিক মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি তার দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছিল বলে জানান সাকিব।

আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরে গেলে দেশে ফেরার পথ সহজ হতে পারে, এমন পরামর্শও প্রত্যাখ্যান করেছেন সাকিব। তিনি বলেন, “এ ধরনের অবস্থান নেওয়ার কোনো সুযোগ আমার নেই।”

পাঁচই অগাস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেন সাকিব। এরপর মাগুরায় তার বাড়িতে হামলা হয়। সাকিব জানান, তিনি ওই অনুষ্ঠানে শুধু "শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা বলেছেন এবং এতে তার কোনো অনুশোচনা নেই।"

তিনি বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পায়নি রয়টার্স।

ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও বাংলাদেশের ‘পোস্টারবয়’ খ্যাত এই তারকা ক্রিকেটার জানিয়েছেন, অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত বেশিদিন পিছিয়ে দিতে চান না। বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন তিনি। এখনো খেলা উপভোগ করছেন এবং ভালো পারফর্ম করছেন বলেও জানান। তবে বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান বলেও জানান সাকিব।

দেশে ফিরে শুধু বিদায়ী সিরিজ খেলা নয়, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাও সাকিবের লক্ষ্য। তবে তার দেশে ফেরার বিষয়টি এখন নির্ভর করছে নিরাপত্তা ও চলমান মামলাগুলোর পরিস্থিতির ওপর।

রয়টার্সকে তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা স্বেচ্ছায় আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তবে সাকিব এখনই দেশে ফিরতে চান। সেটি সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন বলে জানান।