বিশ্বকাপ শেষ। ফুটবলপ্রেমীরা এখনও ফাইনালের উত্তেজনা নিয়েই কথা বলছেন। কিন্তু গোলের উৎসব যেন থামার নামই নিচ্ছে না। নতুন মৌসুম শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি, অথচ বায়ার্ন মিউনিখ ইতোমধ্যেই এমন এক গোলবৃষ্টি নামিয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রতিপক্ষদের আগেভাগেই একটি বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে।
জার্মানির টেগার্নজিতে চার দিনের প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি শেষ করেছে বাভারিয়ানরা। সেই ক্যাম্পের শেষ দিনে স্থানীয় ক্লাব এফসি রটাখ এগার্নের বিপক্ষে ১৫–০ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। যদিও প্রতিপক্ষের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে, কিন্তু কোম্পানির মতে, এমন ম্যাচেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখার থাকে।
ম্যাচ শেষে বেলজিয়ান কোচ বলেন, "এ ধরনের ম্যাচেও নতুন অনেক কিছু বোঝা যায়, যদিও এটি একটি প্রীতি ম্যাচ। সামনে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন হবে, তবে আমরা ইতোমধ্যেই দলের মধ্যে ইতিবাচক কিছু লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।"
অর্থাৎ, স্কোরলাইন যতই বড় হোক, কোম্পানির কাছে আসল বিষয় ছিল দলের খেলার ধরন। খেলোয়াড়রা কতটা দ্রুত তার কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন, মাঠে একে অপরকে কতটা বুঝতে পারছেন এবং বল ছাড়া ও বল নিয়ে দলের মুভমেন্ট কতটা উন্নত হচ্ছে—সেই দিকেই বেশি নজর ছিল তার।
প্রতি বছরের মতো এবারও টেগার্নজির এই ক্যাম্পকে দারুণ ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন বায়ার্ন কোচ। তার ভাষায়, "এখানকার ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে সব সময়ই অনেক ইতিবাচক বিষয় পাওয়া যায়। শেষ দিনের ঐতিহ্যবাহী ম্যাচটি উপভোগ্য, আর এটি নতুন মৌসুমের জন্য আলাদা রোমাঞ্চ তৈরি করে। এখানে এলে বাভারিয়ান সংস্কৃতিরও একটা আলাদা অনুভূতি পাওয়া যায়।"
এই বিশাল জয়ের পর শুক্রবার খেলোয়াড়দের দেওয়া হয়েছে এক দিনের বিশ্রাম। তবে বিশ্রাম শেষ হতেই শুরু হচ্ছে আরও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হবে বায়ার্ন মিউনিখ। আট দিনের এই এশিয়া সফরে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। প্রথমে স্বাগতিক জেজু এসকে এফসির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। এরপর অপেক্ষা করছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শক্তিশালী দল অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে লড়াই।
তবে এই সফরের উদ্দেশ্য শুধু ম্যাচ খেলা নয়। নতুন কোচের অধীনে দলের রসায়ন আরও শক্ত করা, কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক মৌসুমের আগে খেলোয়াড়দের ছন্দে ফেরানোই মূল লক্ষ্য।
দক্ষিণ কোরিয়াতেই স্কোয়াডে যোগ দেবেন নতুন সাইনিং লুইস দিয়াজ। পাশাপাশি কনরাড লাইমার ও যোসিপ স্তানিশিচও দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। তবে বায়ার্নের পূর্ণ শক্তির দল দেখতে আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
এশিয়া সফর শেষে জার্মানিতে ফিরে দলে যোগ দেবেন হ্যারি কেইন, মাইকেল অলিসে, দায়ো উপামেকানো, ইসমাইল সাইবারি এবং জামাল মুসিয়ালার মতো তারকারা। তখনই প্রথমবারের মতো পুরো স্কোয়াডকে একসঙ্গে পাবেন কোম্পানি।
তাই আপাতত ১৫ গোলের জয় দেখে যতটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, কোম্পানি নিজে কিন্তু ততটা উচ্ছ্বসিত নন। তার চোখ এখন আরও বড় লক্ষ্যে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, "আমরা এখন শুধু ফুটবলের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। প্রাক মৌসুমে ধাপে ধাপে নিজেদের মান আরও উন্নত করতে চাই। এখনও আমাদের সব খেলোয়াড় দলে ফেরেনি। সবাই ফিরে এলে আমরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারব।"
ম্যাচে তরুণ খেলোয়াড় ভিনসেন্ট মানুবাকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখা গেলেও সেটি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বায়ার্ন কোচ। তিনি জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে সম্ভবত তার পেশিতে টান ধরেছিল এবং পরিস্থিতি গুরুতর নয়।
সব মিলিয়ে, নতুন মৌসুমের আগে বায়ার্ন মিউনিখের বার্তাটা পরিষ্কার—এখনও তাদের পূর্ণ শক্তির দলই মাঠে নামেনি। তবু তারা ১৫ গোল করেছে। আর যখন হ্যারি কেইন, জামাল মুসিয়ালা, মাইকেল অলিসে, লুইস দিয়াজসহ পুরো স্কোয়াড একসঙ্গে নামবে, তখন ভিনসেন্ট কোম্পানির বায়ার্ন ঠিক কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, সেটাই এখন ইউরোপের বাকি ক্লাবগুলোর সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ।