বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের বিদায় নিশ্চিত করলো স্পেনের তরুণ প্রজন্ম 

আবারও স্পেনের ত্রাতার ভূমিকায় নাম লিখালেন মিকেল মেরিনো। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে গোল করে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দলকে তুলে দিলেন ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেছিলেন আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার। এবারও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে স্পেনকে বাঁচালেন তিনি।

ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়। অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছিলো লড়াই। ঠিক সেই সময় দূরপাল্লার শটে বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সেনে লামেন্স বল ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারেননি। ফিরতি বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠিয়ে দেন মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি।

এর আগে ৩০ মিনিটে ফ্যাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে চার্লস ডি কেটেলারের হেডে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। এই গোলের মধ্য দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে স্পেন। এর আগে টানা ৬৪৯ মিনিট তাদের জালে বল জড়াতে পারেনি কোনো দল।

স্পেনের প্রথম গোলটি আসে দারুণ এক আক্রমণ থেকে। লামিনে ইয়ামাল ও পেদ্রো পোরোর বোঝাপড়ায় তৈরি হওয়া সুযোগে দানি ওলমোর শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে ফ্যাবিয়ান রুইজ কোনো ভুল করেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়াম একটি পেনাল্টির দাবি তুললেও রেফারি সেটি নাকচ করে দেন। অন্যদিকে স্পেনও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও কোর্তোয়া দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

তবে ম্যাচের ৭১ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কোর্তোয়া। তার বদলি হিসেবে নামেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেনে লামেন্স। শেষ দিকে তার হাত ফসকে যাওয়া বল থেকেই আসে স্পেনের জয়সূচক গোল।

এই জয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

সেমিফাইনালের আগে উন্নতি করতে হবে স্পেনকে

২০১০ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর এই টুর্নামেন্টে স্পেনের পথচলা খুব একটা সুখকর ছিল না। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ সালে থেমে যায় শেষ ষোলোতেই।

তবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন আবারও বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। ইউরো ২০২৪ জয়ের পর এবারও তারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার।

তবু বাস্তবতা হলো, এখনো নিজেদের সেরা ছন্দে খেলতে পারেনি স্পেন। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়ের পর এবারও অনেকটা একইভাবে কঠিন লড়াই করে সেমিফাইনালে উঠতে হয়েছে।

অন্যদিকে ম্যাচের আগেই বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। আমাদু ওনানা চোটে ছিটকে যান। অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্সও ওয়ার্ম আপের সময় আহত হন। মাঝমাঠের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়া খেলেও স্পেনকে দীর্ঘ সময় চাপে রাখতে সক্ষম হয় তারা।

তবে শেষ পর্যন্ত কোর্তোয়ার চোট এবং বদলি গোলরক্ষকের ভুলই তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

স্পেনের রক্ষণভাগ, যা পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল, এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো গোল হজম করেছে। তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালও নিজের সেরা খেলাটা দেখাতে পারেননি। কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল সীমিত। ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরও ভালো পারফরম্যান্সই আশা করবে স্পেন।

অন্যদিকে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের আরেকটি বিশ্বকাপ শেষ হলো হতাশা দিয়ে। থিবো কোর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনে, থমাস মুনিয়ে, লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্দ এবং সর্বোচ্চ গোলদাতা রোমেলু লুকাকুর অনেকেরই এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। দীর্ঘদিন ধরে বড় সম্ভাবনা দেখালেও একটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এবারও অপূর্ণই রয়ে গেল তাদের।