পর্তুগালই কি পর্তুগালের সবচেয়ে বড় সমস্যা

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘আই অ্যাম ব্যাক’ চিৎকারটা এখনও সবার স্মৃতিতে বেশ তরতাজাই। ফক্স স্পোর্টসে এ নিয়ে মজাও করেছিলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, ‘সে কি কোথাও হারিয়ে গিয়েছিল যে ফিরতে হলো?’

রোনালদোর জন্য তো বটেই পর্তুগালের জন্যও ফেরার ব্যাপার ছিল আক্ষরিক অর্থেই। এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছিল তারা। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে ততই যেন সেই সম্ভাবনা ফিকে হয়ে আসছে। 

গ্রুপ পর্বে এবারের বিশ্বকাপের তর্কসাপেক্ষে সবচেয়ে দুর্বল দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫–০ গোলের জয়টাই তাদের একমাত্র প্রাপ্তি এখনও। ডিআর কঙ্গো আর কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে তাদের শেষ ৩২–এ যেতে হচ্ছে। পরের পথটাও পর্তুগালের জন্য পাড়ি দেওয়া হবে বেশ কঠিন। কিন্তু কেন এমন হলো?

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো দলে আছেন। মাঝমাঠের সুতো টেনে চলেছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। খেলার গতিটা চাইলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ভিতিনহা। রাফায়েল লেয়াও, পেড্রো নেতো আর জোয়াও ফেলিক্সরা সৃজনশীলতাও আছে আক্রমণে। 

কিন্তু এতকিছু থাকার পরও তাদের প্রশ্নটা ঘুরেফিরেই আসছে বারবার, ব্যক্তিগত খেলোয়াড়দের নামগুলো দেখে যত ভালো মনে হচ্ছে, মাঠের খেলায় তারা কেন ততটা নয়? একটা উত্তর তো এটাই যে পর্তুগাল দল হয়ে খেলতে পারছে না। 

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটাও ভালো উদাহরণ হতে পারে তা বুঝতে। এই ম্যাচটা জেতা খুব জরুরি ছিল পর্তুগালের জন্য। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই ‘আর্জেন্সি’টা উল্টো দেখা গেল ড্র হলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নামা কলম্বিয়ারই।

বল হারানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আবার নিজেদের পায়ে তা আনার আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে কলম্বিয়া। পর্তুগালের রক্ষণে ভয়ও ধরিয়েছে বারবার। কিন্তু একজন স্ট্রাইকারের অভাবে ‘গোল’টা পাওয়া হয়নি। অতিরিক্ত সময়ে এগিয়ে গেলেও শেষে পুড়তে হয়েছে অফসাইডের হতাশায়। 

বিপরীতে পর্তুগালের ফুটবলাররা ছিলেন ভীষণ অলস। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেও প্রায় একইরকম দৃশ্য দেখা গেছে। ওই ম্যাচে বল নিজেদের পায়ে রাখতে পারলেও তারা যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

বল পায়ে রাখাটা পর্তুগাল এমনিতে উপভোগই করে, কিন্তু সম্ভবত বলটা নিয়ে কী করতে হবে তা বুঝে উঠতে পারে না। ধৈর্য নিয়ে একটা আক্রমণ তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতর কী করতে হবে তা বুঝতে না পারায় নষ্ট হয়ে যায় সেই সুযোগ। 

দ্রুত আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার বদলে হঠাৎই ধীর হয়ে যায় তাদের গতি। প্রতিপক্ষের রক্ষণও ততক্ষণে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। গোলও পাওয়া হয় না।

পর্তুগালের জন্য এবারের বিশ্বকাপে আরেকটা বড় দুশ্চিন্তা হয়ে গেছে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে ভারসম্য তৈরি করা। দলটির কোচ রবার্তো মার্তিনেজ যে তা পারছেন না, তা বলেই দেওয়া যায়। রোনালদো এখনও খুব ভালো গোল স্কোরার, তাঁর জেদ এখনও ‘চ্যাম্পিয়ন’ খেলোয়াড়ের মতোই। কিন্তু তাঁর সঙ্গে ফেলেক্স, নেটোদের গতির ভারসম্য কীভাবে আসবে সেই কৌশল ঠিক করতে পারেননি মার্তিনেজ।

রোনালদোর বয়স এখন ৪১ হয়ে গেছে। তিনি খেলেন সৌদি প্রো লিগে। প্রেস করার সামর্থ্য তাঁর নেই, ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ড্রিবল করারও— কিন্তু তিনি এখনও গোল করতে পারেন। তাঁর হয়তো সেই ক্ষুদাটাও আছে। কিন্তু এটুকু নিয়েই ৯০ মিনিট মাঠে থাকলে দলের জন্য তা ‘বোঝাই’ হয়ে উঠবে বেশির ভাগ সময়।

পর্তুগাল যতদিনে তা বুঝবে, ততদিনে কি তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে নেবে? সামনের পথটা কিন্তু ভীষণ কঠিন!