ফুটবলে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার গল্প সাধারণত শুরু হয় স্কাউট, একাডেমি কিংবা ক্লাবের মাধ্যমে। কিন্তু কেপ ভার্দের ফুটবলার রবার্তো লোপেসের গল্প একেবারেই অন্যরকম। লিংকডইনে পাওয়া একটি বার্তা বদলে দিয়েছে তার জীবন। আজ সেই মানুষই খেলতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।
৩৩ বছর বয়সী রবার্তো লোপেস জন্মেছেন আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে। একসময় তিনি ব্যাংকে কাজ করতেন এবং নতুন করে মর্টগেজ অ্যাডভাইজার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের লিগে পার্ট টাইম ফুটবল খেলতেন। তখন ফুটবলই তার মূল পেশা ছিলো না।
২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের ক্লাব শ্যামরক রোভার্স তাকে পূর্ণ সময়ের ফুটবলার হওয়ার সুযোগ দেয়। সেই সিদ্ধান্তই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তবে আরও বড় চমক আসে কয়েক বছর পরে।
২০১৯ সালের আগে কেপ ভার্দের তৎকালীন কোচ রুই আগুয়াস জানতে পারেন, লোপেসের বাবা কার্লোসের জন্ম কেপ ভার্দেতে। এরপর তিনি সরাসরি লিংকডইনে লোপেসকে বার্তা পাঠান। কিন্তু বার্তাটি পর্তুগিজ ভাষায় হওয়ায় লোপেস প্রথমে সেটিকে স্প্যাম ভেবে উপেক্ষা করেন।
প্রায় নয় মাস পর আবারও যোগাযোগ করা হয়। এবার তিনি বার্তাটি গুগল ট্রান্সলেটে অনুবাদ করে দেখেন। সেখানে লেখা ছিল, কেপ ভার্দে জাতীয় দল নতুন খেলোয়াড় খুঁজছে এবং তিনি আগ্রহী কি-না।
লোপেস বলেন, বার্তাটি পড়ে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। এরপর থেকেই শুরু হয় তার আন্তর্জাতিক ফুটবলের যাত্রা।
এখন তিনি কেপ ভার্দের নিয়মিত খেলোয়াড়। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে দলটির হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে।
বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াটাও কেপ ভার্দের জন্য অবিশ্বাস্য এক অর্জন। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটির জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। ১৯৮৬ সালে ফিফার সদস্য হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে তারা। এর আগে চারবার আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে খেলেছে দলটি।
বিশ্বকাপে ওঠার কয়েক দিনের মধ্যেই লোপেসের ব্যক্তিগত জীবনেও আসে আনন্দের খবর। তার স্ত্রী লিয়াহ তাদের প্রথম সন্তান ডিয়েগোর জন্ম দেন।
লোপেসের ভাষায়, ছোটবেলা থেকে সব ফুটবলারের মতো তারও স্বপ্ন ছিলো সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার। বিশ্বকাপের মতো জায়গায় নিজের পরিবার ও শিকড়কে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা তার কাছে গর্বের।
লিংকডইনে আসা একটি উপেক্ষিত বার্তা থেকে শুরু হয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছানো, রবার্তো লোপেসের গল্প তাই সত্যিই যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।