বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে ঝলমলে আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। আলো, গ্ল্যামার, ছক্কার ঝড়, সব মিলিয়ে যেন এক উৎসব। তবে সেই উৎসবের আড়ালেই এবার উঠে এলো অস্বস্তিকর এক গল্প।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বলছে, তদন্তে মিলেছে অনিয়মের ইঙ্গিত। আর সেই তদন্তের জেরেই শাস্তির মুখে পড়েছেন পাঁচজন ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজার, এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক পক্ষের একজনও আছেন তালিকায়।
অভিযোগের তালিকা ছোট নয়। কেউ নাকি ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরেছেন, কেউ আবার তদন্তে সহযোগিতা করেননি। কোথাও অভিযোগ উঠেছে তথ্য লুকানোর, আবার কোথাও যোগাযোগ মুছে ফেলার। সহজ করে বললে, খেলার মাঠের বাইরের খেলা নিয়েই প্রশ্ন।
বিসিবির ভাষায়, বিষয়টি শুধু নিয়ম ভাঙা নয়, বরং ক্রিকেটের সততার ওপর আঘাত। আর তাই তদন্ত চলাকালেই অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এখন তাদের হাতে নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় আছে।
একজনকে বিপিএল সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, একাধিক আসরে সন্দেহজনক যোগাযোগ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।
বিপিএলের আলো ঝলমলে মঞ্চে, আবারও একটু আঁধার ছেয়ে গেলো।
কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি।
টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান ও ফ্র্যাঞ্চাইজি কো-ওনার মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন বা মুছে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে দেশীয় ক্রিকেটার অমিত মজুমদার এবং টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ম্যাচ সংক্রান্ত বাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পৃথক এক সিদ্ধান্তে সামিনুর রহমানকে বিপিএল সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে একাধিক আসরে বেটিং চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বোর্ড।