সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে উপন্যাস, কবিতা কিংবা কোনো নাটকের জগৎ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, টনি মরিসন কিংবা হান কাং– নোবেল পুরুস্কার আর এই নামগুলো যেন সমার্থক শব্দ।
তবে আলফ্রেড নোবেলের উইলে সাহিত্যের পুরস্কারকে নির্দিষ্ট করে শুধু উপন্যাস, কবিতা বা নাটকের জন্য বলা হয়নি।
বলা ছিলো “সাহিত্য ক্ষেত্রে আদর্শগত ধারার সবচেয়ে অসামান্য কাজ”-কে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
আর সেই 'সাহিত্য'-এর সংজ্ঞা যে কেবল কল্পকাহিনীর চারদেওয়ালে বন্দি নয়, তা বারবার প্রমাণ করেছে সুইডিশ একাডেমি।
১২০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই পুরস্কারের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, গল্প-উপন্যাস-কবিতার গণ্ডির বাইরে থাকা লেখকরাও সুইডিশ একাডেমির স্বীকৃতি পেয়েছেন।
কেউ লিখেছেন রোমের ইতিহাস, কেউ দর্শনের জটিল তত্ত্ব, কেউ যুদ্ধের ইতিহাস, কেউ আবার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় সমাজ, রাষ্ট্রকে তুলে ধরেছেন, আবার একজন লিখেছেন গানের কথা।
এমন নয়জন ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা, সাহিত্যিক না হয়েও পেয়েছেন সাহিত্যে নোবেল।
থিওডর মমসেন
এই তালিকার শুরু ১৯০২ সালে, জার্মান ইতিহাসবিদ থিওডোর মমসেনকে দিয়ে। ১৮১৭ সালে জার্মানির উত্তরাঞ্চলে জন্ম থিওডোর মমসেনের। পড়াশোনা করেছিলোেন আইন নিয়ে, কিন্তু মন পড়ে ছিলো প্রাচীন রোমে। জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ও গবেষণায়, আবার রাজনীতিতেও জড়িয়েছিলোেন, ছিলোেন পার্লামেন্টের সদস্যও। রোমান শিলালিপির বিশাল সংকলনেও তার অবদান রয়েছে।
তবে নোবেল তার কাছে এসেছে মূলত 'অ্যা হিস্ট্রি অব রোম' বইয়ের জন্য। রোমান প্রজাতন্ত্রের উত্থান থেকে শুরু করে জুলিয়াস সিজারের সময় পর্যন্ত ইতিহাসকে তিনি তুলে ধরেছেন তার এই বিখ্যাত বইয়ে।
ক্ষমতার লড়াই, রাজনীতির নানা কৌশল আর মানুষের চরিত্র—সব মিলিয়ে ইতিহাসকে তিনি তার বইয়ে এমনভাবে লিখেছিলোেন, যেন পাঠক একটি গল্প পড়ছেন। এই কারণেই ১৯০২ সালে সুইডিশ একাডেমি তাকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তার এই পুরস্কার পাওয়ার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়– সাহিত্য মানেই শুধু কল্পকাহিনি নয়; ইতিহাসও সুন্দরভাবে লেখা হলে তা সাহিত্যের মর্যাদা পেতে পারে।
রুডলফ অয়কেন
এর কয়েক বছর পর সাহিত্যের নোবেল চলে যায় দর্শনের জগতে। ১৯০৮ সালে পুরস্কার পান জার্মান দার্শনিক রুডলফ অয়কেন।
১৮৪৬ সালে জার্মানির আউরিখ শহরে জন্ম তার। দর্শন নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। তবে তার চিন্তার বড় জায়গাজুড়ে ছিলো মানুষ, নৈতিকতা আর জীবনের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন।
মানুষ কীভাবে একটি অর্থপূর্ণ জীবন কাটাবে, ভালো-মন্দের মধ্যে কীভাবে পথ বেছে নেবে– এমন নানা প্রশ্ন নিয়েই লিখেছেন তিনি।
তার লেখাগুলো ছিলোো মূলত দর্শন ও জীবনদর্শন নিয়ে। মানুষের ভেতরের শক্তি, দায়িত্ববোধ ও সত্যের সন্ধান ছিলোো তার লেখার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই চিন্তাশীল ও আদর্শবাদী লেখার জন্যই তাকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়।
অঁরি বের্গসঁ
দর্শনের জগত থেকে সাহিত্যে নোবেল পাওয়া আরেক নাম ফরাসি দার্শনিক অঁরি বের্গসঁ। ১৮৫৯ সালে প্যারিসে জন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন।
পরে দর্শন নিয়ে শিক্ষকতা করেন এবং মানুষের চিন্তা, সময় ও চেতনা নিয়ে গভীরভাবে কাজ করেন।
তার লেখার বিষয় শুনলে প্রথমে হয়তো খুব কঠিন মনে হতে পারে। মানুষ কীভাবে সময়কে অনুভব করে, আমাদের চেতনা কীভাবে কাজ করে, জীবনকে আমরা কীভাবে বুঝি—এসব প্রশ্ন নিয়েই তিনি লিখেছেন।
কিন্তু বের্গসঁর লেখার বিশেষত্ব ছিলো, কঠিন দর্শনের কথাগুলোও তিনি প্রাণবন্ত ভাষায় তুলে ধরতে পারতেন। 'টাইম অ্যান্ড ফ্রি উইল', 'ম্যাটার অ্যান্ড মেমোরি' এবং বিশেষ করে 'ক্রিয়েটিভ ইভোলিউশন' বইয়ে তিনি বলেছেন, জীবন কোনো যান্ত্রিক নিয়মে চলে না; তার ভেতরে আছে এক সৃজনশীল প্রাণশক্তি, যাকে তিনি বলতেন 'এলান ভিটাল'।
তার আকর্ষণীয় বাচনশৈলির জন্য তার বক্তৃতা শুনতে ভিড় জমাতেন সাধারণ মানুষও।
নোবেল কমিটি তার সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত চিন্তা এবং সেগুলো প্রকাশের অসাধারণ দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯২৭ সালে তাকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়।
বার্ট্রান্ড রাসেল
দর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, যুক্তিবিদ্যা ও সমাজ নিয়ে যারা লিখেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ব্রিটিশ চিন্তাবিদ বার্ট্রান্ড রাসেল। ১৮৭২ সালে ওয়েলসে জন্ম তার।
ছোটবেলা থেকেই গণিত ও দর্শনের প্রতি আগ্রহ ছিলো। পরে দর্শন ও যুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে তিনি বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত চিন্তাবিদ হয়ে ওঠেন।
তবে দর্শনের পাশাপাশি যুদ্ধ, শান্তি, ধর্ম, নৈতিকতা, মানুষের স্বাধীনতা ও সমাজের নানা সমস্যা নিয়েও লিখেছেন তিনি। তার লেখার একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছি্লো, কঠিন বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলে ধরা।
১৯৫০ সালে এই লেখার জন্যই সাহিত্যে নোবেল পান রাসেল। নোবেল কমিটি তার বৈচিত্র্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ লেখায় মানবিক আদর্শ এবং চিন্তার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে।
অর্থাৎ তিনি উপন্যাস বা কবিতার জন্য নয়, মানুষের চিন্তা ও সমাজ নিয়ে তার শক্তিশালী লেখার জন্যই সাহিত্যের এই বড় স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
উইনস্টন চার্চিল
উইনস্টন চার্চিলকে আমরা মূলত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই চিনি। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ইতিহাসে তার নাম আলাদা করে লেখা আছে।
কিন্তু রাজনীতির পাশাপাশি চার্চিল ছিলেন একজন লেখক ও ইতিহাসচর্চাকারীও।
১৮৭৪ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম চার্চিলের। সাংবাদিকতা দিয়ে তার লেখালেখির শুরু। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে পরে একের পর এক বই লিখেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লেখা তার বিশাল বই দ্য সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেও পরিচিত।
১৯৫৩ সালে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয় তাকে। কারণ হিসেবে তার ঐতিহাসিক ও জীবনীমূলক লেখার দক্ষতার পাশাপাশি তার শক্তিশালী বক্তৃতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
জ্যঁ-পল সার্ত্র
ফরাসি দার্শনিক জ্যঁ-পল সার্ত্রের নাম এলেই প্রথমে আসে ‘অস্তিত্ববাদ’ শব্দটি। তার বিখ্যাত বই 'বিইং অ্যান্ড নাথিংনেস' অস্তিত্ববাদের মূল ভিত্তি। কিন্তু সার্ত্র শুধু দার্শনিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রবন্ধকার ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদও। ১৯০৫ সালে প্যারিসে জন্ম তার।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মানুষের স্বাধীনতা, দায়িত্ব ও জীবনের অর্থ নিয়ে তার চিন্তা ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিলো।
সার্ত্রের লেখায় বারবার ফিরে এসেছে একটি প্রশ্ন—মানুষ আসলে কতটা স্বাধীন? নিজের সিদ্ধান্তের দায় কি মানুষ নিজেই বহন করবে?
এসব প্রশ্ন তিনি শুধু দর্শনের বইয়ে নয়, উপন্যাস ও নাটকের গল্পের মধ্যেও তুলে ধরেছেন। নজিয়া ও নো এক্সিট-এর মতো তার কাজগুলোতে মানুষের অস্তিত্বের সংকট, একাকিত্ব ও স্বাধীনতার বিষয় উঠে এসেছে।
১৯৬৪ সালে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয় সার্ত্রকে। তার চিন্তাশীল ও স্বাধীনতাকেন্দ্রিক লেখার মাধ্যমে সমকালীন সময়কে প্রভাবিত করার বিষয়টি নোবেল কমিটি স্বীকৃতি দেয়।
তবে সার্ত্রের গল্প এখানেই শেষ নয়। তিনি নিজেই নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। নোবেলের ইতিহাসে স্বেচ্ছায় পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের এটি এক বিরল ঘটনা।
স্বেতলানা আলেক্সিয়েভিচ
বেলারুশের সাংবাদিক ও লেখক স্বেতলানা আলেক্সিয়েভিচ। লেখার ধরন অন্যদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। ১৯৪৮ সালে ইউক্রেনে জন্ম হলেও তিনি বড় হয়েছেন বেলারুশে।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনের গল্প শুনতে শুরু করেন। যুদ্ধ, বিপর্যয় আর রাজনৈতিক পরিবর্তনের মতো বড় বড় ঘটনাকে তিনি দেখেছেন সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে।
আলেক্সিয়েভিচের বইয়ের পাতায় তাই কাল্পনিক চরিত্র খুব বেশি নেই। সেখানে আছে বাস্তব মানুষের কথা, স্মৃতি আর অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া সোভিয়েত নারীদের নিয়ে লিখেছেন দ্য আনউইম্যানলি ফেস অব ওয়ার।
চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে ভয়েসেস ফ্রম চেরনোবিল-এ। আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মানুষের জীবন ও স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন সেকেন্ডহ্যান্ড টাইম।
২০১৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পান আলেক্সিয়েভিচ। সাধারণ মানুষের কণ্ঠকে সাহিত্যিকভাবে তুলে ধরার জন্যই তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বড় কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার পেছনে থাকা ছোট ছোট মানুষের গল্প যে কতটা শক্তিশালী সাহিত্য হতে পারে, আলেক্সিয়েভিচ তার অন্যতম উদাহরণ।
বব ডিলান
সাহিত্যে নোবেল পাওয়া সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি বব ডিলান। মার্কিন এই গীতিকার ও সংগীতশিল্পীর আসল নাম রবার্ট অ্যালেন জিমারম্যান।
১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় জন্ম তার। ষাটের দশকে লোকগান ও প্রতিবাদী গানের মাধ্যমে সংগীতের জগতে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন তিনি।
ডিলানের গানের বিষয় ছিলো খুব সাধারণ মানুষের জীবন থেকে শুরু করে যুদ্ধ, রাজনীতি, প্রেম, সামাজিক পরিবর্তন ও প্রতিবাদ। তার গানের কথাগুলো ছিলোো অনেকটা কবিতার মতো। সেখানে ছিলো নানা রূপক, উপমা আর গল্প বলার ধরন। তাই তার গান শুধু শোনার জন্যই নয়, পড়ার মধ্যেও আলাদা এক ধরনের সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়।
২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল দিয়ে বব ডিলানকে স্বীকৃতি দেয় সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটির ভাষায়, আমেরিকান গানের ঐতিহ্যের মধ্যে নতুন কাব্যিক প্রকাশ তৈরি করার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
অ্যানি এরনো
এই তালিকার সবচেয়ে সাম্প্রতিক নাম ফরাসি লেখক অ্যানি এরনো। ১৯৪০ সালে ফ্রান্সে জন্ম তার। তার লেখার বড় অংশজুড়ে রয়েছে নিজের জীবন, পরিবার, শৈশব, সম্পর্ক, শরীর এবং সামাজিক শ্রেণির অভিজ্ঞতা।
কিন্তু নিজের গল্প বলতে গিয়ে তিনি শুধু নিজের মধ্যেই আটকে থাকেননি; ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন পুরো সমাজের পরিবর্তনকে।
এরনোর লেখার ধরনও তাই একটু আলাদা। তার বই পড়তে গেলে মনে হয়, একজন মানুষ নিজের জীবনের পুরোনো অ্যালবাম খুলে বসেছেন। কিন্তু সেই ছবিগুলোর মধ্যে ধীরে ধীরে দেখা যায় একটি সময়ের সমাজ, মানুষের চিন্তা আর বদলে যাওয়া মূল্যবোধ।
তার দ্য ইয়ার্স বইয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে ফ্রান্সের কয়েক দশকের সামাজিক পরিবর্তনকে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকে এভাবে বৃহত্তর সমাজের গল্পে পরিণত করার জন্যই ২০২২ সালে তাকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়।
আসলে ‘সাহিত্য’ কতটা বিস্তৃত?
প্রতি বছর অক্টোবর এলেই বিশ্বজুড়ে বইপ্রেমীদের চোখ থাকে স্টকহোমের দিকে। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে চলে নানা জল্পনা। এবার কোন ঔপন্যাসিক? কোন কবি? কোন নাট্যকার?
কিন্তু এই নয়জনের গল্প মনে করিয়ে দেয়, সুইডিশ একাডেমির কাছে সাহিত্যের সংজ্ঞা কখনোই ওই তিনটি ধারায় বাঁধা ছিলো না।
এ নিয়ে বিতর্ক আছে, থাকবেও। অনেকে মনে করেন, সাহিত্যের পুরস্কার সৃজনশীল কল্পনার জন্যই বরাদ্দ থাকা উচিত। অন্যদের মতে, ভাষার শক্তি আর মানুষের ভাবনাকে নাড়া দেওয়ার ক্ষমতাই আসল মাপকাঠি।
বাংলা সাহিত্যের পাঠকের কাছে এই আলোচনা অপরিচিত নয়। রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পেয়েছিলেন 'গীতাঞ্জলি'র জন্য, আর তার গানও আমাদের সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গানের কথা সাহিত্য কি না, এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের ঐতিহ্যে অনেক আগেই দেওয়া আছে।