এআই ও ক্লাউড ব্যবসা দিয়ে নতুন উচ্চতায় অ্যামাজন 

প্রথমবারের মতো ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের মাইলফলক ছুঁয়েছে অ্যামাজন। এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড ব্যবসায়ও বেড়েছে চাহিদা। যার প্রভাব পড়েছে শেয়ারের দামে।

সোমবার অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে ২৮৫ দশমিক ১ ডলারে ওঠে। যা প্রতিষ্ঠানটির নতুন রেকর্ড। চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশের বেশি।

২০১২ সালের পর এটিই ছিলো একদিনে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শেয়ার বৃদ্ধি। ক্লাউড সেবা থেকে আয়। একইসঙ্গে চলতি বছর বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা অ্যামাজনের এই উত্থানের অন্যতম কারণ।

সম্প্রতি অ্যামাজনের প্রকাশিত অর্থনৈতিক প্রতিবেদন বলছে, অ্যামাজনের প্রধান আয়ের উৎস তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা 'অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস' বা এডব্লিউএস।

চার বছরের মধ্যে এই খাতে এবারই তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকদের কেনাকাটার পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির জন্য বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান এখন অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ব্যবহার করছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক কিংবা মেটার মতো টেক জায়ান্টদের সাথে যৌথ কাজ অ্যামাজনের এই ব্যবসা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

অ্যামাজনের পাশাপাশি টেক জগতের অন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দামও সোমবার ঊর্ধ্বমুখী ছিলো।

মাইক্রোসফটের শেয়ার ৪ শতাংশ, মেটার ৬ শতাংশ, অ্যালফাবেটের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওরাকলের শেয়ার ৫ শতাংশ বেড়েছে।

তবে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক ধরনের নতুন প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। এআই প্রযুক্তিতে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করায় টেসলা ও গুগলের মতো কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমেছে। অন্যদিকে মেটার ‘ফ্রি ক্যাশ ফ্লো’ বা ব্যবহারের উপযোগী নগদ অর্থ প্রায় ৯১ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে।

১৯৯৪ সালে জেফ বেজোসের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা অ্যামাজন। ২০২৪ সালের জুনে প্রথমবার ২ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে পা রাখে। সেখান থেকে মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা যুক্ত করলো আরও এক ট্রিলিয়ন ডলার।

অ্যামাজনের আগে কেবল অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল (অ্যালফাবেট) এবং এনভিডিয়া এই ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছে। বর্তমানে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষে অবস্থান করছে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া।

(তথ্যসূত্র: রয়টার্স)