কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপত্তা নিয়ে আবারও নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষায় ভুলবশত ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লড। পরে ঘটনা শনাক্ত করে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবহিত করে কোম্পানিটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেনএআইয়ের একই ধরনের ঘটনার পর পরীক্ষার রেকর্ড পর্যালোচনা করে অ্যানথ্রপিক, যেখানে তিনটি অনুপ্রবেশের ঘটনা ধরা পড়ে।
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় প্রকাশ করেনি অ্যানথ্রপিক। একই সঙ্গে, এআই মডেলের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নে অন্যান্য এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠানকেও একই ধরনের পর্যালোচনা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।
অ্যানথ্রপিক জানায়, ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরীক্ষার জন্য বিচ্ছিন্ন রাখার কথা থাকলেও একটি ভুল কনফিগারেশনের কারণে ক্লড ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ পায়। এরপর এটি বাইরের কয়েকটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
এ সমস্ত পরীক্ষা ছিলো ‘ক্যাপচার-দ্য-ফ্ল্যাগ’ ধরনের, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা যাচাই করতে এআইকে অন্য সিস্টেমে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রথম অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। তবে ঘটনাগুলোর সময় অ্যানথ্রপিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কেউই বিষয়টি বুঝতে পারেনি। পরে রেকর্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলো শনাক্ত হয়।
এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রপিক বলেছে, সমস্যাটির দায় তারা নিজেদেরই বলে মনে করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডেভিড অ্যালটের মতে, ঘটনাটি এআইয়ের সম্পূর্ণ নতুন কোনো আক্রমণ সক্ষমতার প্রমাণ নয়। বরং এটি দেখিয়েছে, আধুনিক এআই এজেন্টগুলো বিভিন্ন সক্ষমতা একত্র করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে প্রবেশ, তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে গবেষণা, গ্রাহকসেবা ও সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে উপযুক্ত এআই এজেন্ট তৈরিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল বিনিয়োগ করছে। তবে একই সঙ্গে এআই-নির্ভর সাইবার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় প্রযুক্তিটির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির দাবি জোরালো হচ্ছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার পর এআই টুলগুলোর ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বিবেচনার কথা জানিয়েছেন।
ওপেনএআইও স্বীকার করেছে, পরীক্ষার সময় তাদের একটি এআই এজেন্ট নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের সিস্টেমে প্রবেশ করেছিল। ঘটনাটি তদন্তে হাগিং ফেসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।