পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘স্বেচ্ছায় অব্যাহতির’ ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রধানমন্ত্রী তাকে নিজ এলাকায় মাদক নির্মূলে কাজ ও অভিযান চালিয়ে যেতে বলেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাক হোসেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, "আজকের দিন থেকে আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আমি তাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল ও জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি সদয় সম্মত হয়েছেন এবং আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন, 'ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক করে এলাকায় কাজ কর।”
রবিবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় যে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের পিস্তল উঁচিয়ে অভিযানে নামার ব্যাখ্যা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি। নিরাপত্তার স্বার্থেই সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন।
ইশরাক বলেন, "যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি কাউকে আঘাতপ্রাপ্ত করে থাকি এই অভিযানের মাধ্যমে, সেটার জন্য আগে আমি দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটুকু যতটুকু সময় প্রয়োজন রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর আমার দৃশ্যমান হয়নি।"
ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে তিনি জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী থানাকে অবহিত করেই তিনি গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘরে গিয়েছিলেন। তার লাইসেন্স করা অস্ত্র সবসময় কোমরে থাকে বলে জানান তিনি।
জানান, কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে আত্মরক্ষার জন্যই তিনি তা হাতে নিয়েছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন প্রধানমন্ত্রী ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছিলেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। কিন্তু গণমাধ্যমে তার (ইশরাকের) অস্ত্রের বিষয়টি যেভাবে প্রচার পেয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক কাজগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। সে কারণেই সরকারের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
গত শনিবার গেন্ডারিয়া ঘুণ্টিঘরে অস্ত্র উঁচিয়ে অনুসারীদের নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়।
একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও এ নিয়ে তীব্র অস্বস্তি দেখা দেয়, যার ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত তাকে পদ ছাড়তে হলো।