তারেক রহমান ফেরায় ‘নির্বাচনি ট্রেন’ চালু, দূর হল ‘শঙ্কা’, সমীকরণ চলছে

দেড় যুগেরও বেশি সময় পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন মানুষের প্রত্যাবর্তন নয়। বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপরেখায় এক ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তার ফেরা রাজনীতির ময়দানে নতুন অনেক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে রাজপথে যে শুধু উচ্ছ্বাস নয়, এতে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেখছেন রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা।

ভোটের আগে জমে উঠেছে জোটের হিসাব-নিকাশ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তির জোট বিন্যাসের আলোচনাও যেন গতি পেয়েছে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে।

অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এগোচ্ছে ভিন্ন কৌশলে। তারেক রহমানের ফেরার আগের দিনই শরিক দলগুলোর জন্য আসন ছাড়ার ঘোষণা দেয় দলটি।

প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতাও সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিএম সভাপতি ববি হাজ্জাজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ নিয়েই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জামায়াত-এনসিপি জোট বাধার একটা সম্ভবনাও তৈরি হয়েছে। এই গুঞ্জন যেদিন ডালপালা মেলেছে সেদিন এনসিপির এক শীর্ষ নেতার পদত্যাগের ঘটনাও ঘটেছে।

নির্বাচনি উত্তাপ শুরু

তারেক রহমানের ফিরে আসায় তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা। তাদের প্রত্যাশার পারদও তুঙ্গে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফেইসবুকে পোস্টে তিনি লিখেছেন, “জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!”

নির্বাচনি উত্তাপ

বিবিসি বাংলাকে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কি ভূমিকা রাখেন অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন, এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে।

তারেক রহমানের ফেরায় উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজও। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে তারেক রহমানের ফিরে আসা এবং তাকে ঘিরে যে জনতার ঢল, তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি মনে করেন, তারেক রহমানের ফেরার সঙ্গে সঙ্গে “নির্বাচনের ফ্লো” ফিরে আসছে।

যারা নির্বাচন বানচাল বা পেছানোর পাঁয়তারা করছিল, এর মাধ্যমে সেই চেষ্টাই বানচাল হয়ে যাবে বলে মনে করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, “আমরা খুবই আশাবাদী উনি যেভাবে ফিরে এসেছেন, এবং আগামীতে উনি যেভাবে নেতৃত্ব দেবেন, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের জনগণ বড়ভাবে আমাদের বেছে নেবে।”

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান মনে করেন তারেক রহমানের ফেরাকে মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে।
“আমার আশা করি তিনি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেন। সবার আগে বাংলাদেশ যে কমিটমেন্ট সেটা তিনি রক্ষা করবেন”, যোগ করেন রাশেদ খান।

তার প্রত্যাশা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা তা যুগপৎ আন্দোলনের শরীকদের নিয়ে বাস্তবায়ন করবে করবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফেরা নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও।

তিনি লিখেছেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।”

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ফেইসবুকে লিখেছেন, “দেশে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না- এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল, এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।”

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন আলাপকে বলেন, “তারেক রহমানকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। তার ফেরার মাধ্যমে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল সেটা দূর করতে সহায়তা করবে।”

তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে এনসিপি ইতিবাচকভাবেই দেখছে বলে জানান এই এনসিপি নেতা।

“ওনারা ডেমোক্রেটিক ভ্যালুস যদি আপহোল্ড করেন, সেটা হয়ত আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিবর্তন সম্পর্কে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করি”, বলেন মুশফিক উস সালেহীন।

তারেক রহমানের ফেরা দেশের রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করছেন তারেক রহমানের ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সত্যিকারভাবে দেশে নির্বাচনি ট্রেনের যাত্রা শুরু হলো।

তিনি বলছিলেন, “তারেক রহমানের ফিরে আসা বিএনপির রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তার মানে জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচনি জোট (প্রতীকী ছবি)

জোট গঠন ও পদত্যাগ

তারেক রহমানের ফেরার দিনই এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক।
২৫এ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৫২ মিনিটে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আমি এই মুহূর্তে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলাম৷ চট্টগ্রাম-১৬ সংসদীয় আসনে (বাঁশখালী) এনসিপির হয়ে আমি নির্বাচন করছি না। আজকে একটি বিশেষ দিনে এই ঘোষণাটি দিচ্ছি, যেদিন দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। সুস্বাগতম।”

নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, জোটের সমীকরণও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। মীর আরশাদুল হকের এই পদত্যাগের ঘোষণা এমন সময় এসেছে যখন জামায়াত-এনসিপির জোটের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বাঁধতে যাচ্ছে এনসিপি। চলছে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা। যদিও দলদুটোর দায়িত্বশীল কেউ এ নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব‍্য দেননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে জড়িত কোন কোন ছাত্রনেতা এই সম্ভাব্য গাঁটছড়াকে ভাল চোখে দেখছেন না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের ফেসবুকে লিখেছেন, শুক্রবার এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে আবদুল কাদের লিখেছেন, “তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সাথেই সরাসরি জোট বাঁধতেছে। সারা দেশে মানুষের, নেতা–কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিল করতেই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।  

“এর মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

আবদুল কাদের দাবি করছেন, জামায়াতের কাছে এনসিপি ৫০টি আসন চেয়েছিল, দর–কষাকষির পর ৩০ আসনে রফা হয়েছে। এই শর্ত অনুযায়ী এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না”, লিখেছেন আহ্দুল কাদের।

আবদুল কাদের আরও দাবি করেছেন, নির্বাচনে জিতলে নাহিদ প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর জিততে না পারলে বিরোধীদলীয় নেতা হবেন এমন আলোচনাও আছে।

বিষয়টি নিয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন আলাপকে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের ব্যাপারে এখনও আলোচনা চলছে। সার্বিকভাবে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি তারা।

আবদুল কাদেরের স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে মুশফিক বলেন, “এটা তার ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস। আর তিনি আমাদের দলেরও কেউ না। তাই তার বক্তব্য নিয়ে দলের অফিসিয়াল কোনো বক্তব্য নেই।”

দুই দলের রাজনৈতিক আদর্শের পার্থক্য ও নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে ধারণা তা নিয়ে এই এনসিপি নেতা বলেছেন, “বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের দলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। এবং জামায়াতের সাথে জোট হলে সেটা হবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক জোট। সার্বিকভাবে দেশের জন্য ও দলের জন্য কল্যাণকর হবে কি না তা আমরা পর্যালোচনা করছি।”

অবশ্য জামায়াতের ইসলামীর পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলছেন, “এই জোটের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে আমাদের রাজনীতিবিদরা কি ভয়ানক পরিমাণ ক্ষমতালোভী। এনসিপি যে আশাবাদী রাজনীতি শুরু করেছিল, বহুত্ববাদের কথা বলেছি, সেই আশাবাদের জায়গা থেকে সরেই গেল।”
“এনসিপির যে রাজনৈতিক একটা স্বতন্ত্রতা ছিল, এটা নষ্ট হয়ে গেল”, যোগ করেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক বলেন, “আমি যেটা বুঝি আর কি যে এনসিপি বিএনপির সাথে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেখানে তাদের যে চাহিদা, দাবি-দাওয়ার সাথে একমত হতে পারেনি।”

জামায়াত-এনসিপি জোট ক্ষমতায় গেলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন এমন গুঞ্জন সত্যি হলে তা জামায়াতের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও দুর্বল করবে বলে মন্তব্য করেন এই রাষ্টবিজ্ঞানের এই শিক্ষক।

জোটের নতুন সমীকরণ

বিএনপি শরীকদের এখন পর্যন্ত ১২টি আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। আরো তিন পরিচিত মুখ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকেরই নির্বাচন করতে চাইছেন।

এনডিএমের সভাপতি ববি হাজ্জাজ এরই মধ্যে নিজের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই পথে হাঁটছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরহাদ এবং এলডিপির রেদোয়া আহমেদ।

তাই জোটের বাইরে থেকেও বিএনপিকে কেন্দ্র করে একটি নতুন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আছে জোটের অন্য শরীকরাও।

তারেক রহমান দেশে আসার আগের দিন শরীকদের জন্য আসন ঘোষণা করে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যাদের সাথে নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী তারা নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেবেন।

• বগুড়া-২: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না
• পিরোজপুর-১: জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার
• নড়াইল-২: এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ
• যশোর-৫: ইসলামী ঐক্য জোটের মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস
• পটুয়াখালী-৩: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর
• ঝিনাইদহ-৪: গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন
• ঢাকা-১২: বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক
• ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি

ওইদিন মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন এই তালিকার পরও আলোচনা চলবে। নতুন কোনও সিদ্ধান্ত হলে তা জানিয়ে দেবে  দলটি।
এর আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি।
দলীয়ভাবে দুই ধাপে এখন পর্যন্ত ২৭২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

এছাড়া কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ এবং ঢাকা- ১৩ আসনে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “রেদোয়ান সাহেব আজকে যোগ দিয়েছেন এবং ববি হাজ্জাজ শিগগিরই বিএনপিতে যোগ দেবেন। যাদের সাথে নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছে তারা নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেবেন এবং যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।”

বিএনপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, “স্ট্র্যাটেজিক কারণে আমি প্রার্থী হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেই। কারণটা হলো আরপিওতে যে বদলটা এসেছে সে কারণে আমরা জোটের অংশীদার হয়ে মার্কা নিতে পারছি না।”

“রাজনীতি যেহেতু স্ট্র্যাটেজি। স্ট্র্যাটেজিক কারণে আমরা দেখেছি মার্কা অনেক গুরুত্বপূর্ণ”, বলছিলেন ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের কারণে আমরা এই কাজটা করবো। বিষয়টি নিয়ে জোটের সকল শরীকদের সঙ্গেই আলোচনা হয়েছে।”

বিএনপির নেতৃত্বেধীন নির্বাচনি জোটের আরেক শরীক গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, “আমাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক তো আজ থেকে না? ২০২২ সাল থেকে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করেছি। একসঙ্গে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ববি হাজ্জাজ

জোট নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, “অমুক জোট-তমুক জোটের কথা বলেছেন। কিন্তু প্রশ্নই ওঠে না। আমরা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছি। এখন বিএনপির সাথে আমাদের যে কমিটমেন্ট ছিল, সেই কমিটমেন্টের অংশ হিসেবে আমরা তাদের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

অধ্যাপক সাব্বির বলছেন, “যেগুলো ওয়ানম্যান পার্টি তারা আসলে ক্ষমতার স্বাদ পেতে চায়, সেটাই প্রমাণ করে।”

দল ছাড়লে তার রাজনৈতিক শক্তি এমনিতেই চলে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যখন রোদোয়ান আহমেদ চলে যান, তখন এলডিপির কিছু থাকে না। আবার ববি হাজ্জাজের দলও ওয়ান ম্যান শো দল। ববি হাজ্জাজের একটা পজিশন দরকার, তার ব্যবসা-বাণিজ্য আছে, তার রাষ্ট্রক্ষমতা লাগবে।  আসলে সত্যিকার কোনও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ না।”

অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ নির্বাচনের আগে যেভাবে জোট হলো তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব বেশি গুণগত পরিবর্তন আনবে না।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বরং পুরো রাজনীতির ভেতরেই নতুন গতি এনেছে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে ততোই স্পষ্ট হবে রাজনীতির সমীকরণ।