নিরাপত্তার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বললেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’

ঘড়ির কাঁটায় তখন চারটা ছুঁই ছুঁই। অধীর অপেক্ষায় এক জনসমুদ্র। তারেক রহমান মঞ্চে এলেন লাখো মানুষের অভিবাদন নিয়ে।

দাঁড়ালেন মাইকের সামনে। শুরু করলেন, “প্রিয় বাংলাদেশ”।

উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন।

বললেন, “আজ প্রথমেই আমি, রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে হাজারো লক্ষ কোটি শুকরিয়া জানাতে চাই, রাব্বুল আল-আমিনের অশেষ রহমতে আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি।”

তারেক রহমান স্মরণ করেন ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ আর ২০২৪ সালের আন্দোলনের কথা।

তিনি বলেন, “আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল।”

“ঠিক একইভাবে পঁচাত্তরে আবার সাতই নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য জন্য সেদিন সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছিল।”

নব্বইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকারকে ছিনিয়ে এনেছিল মনে করিয়ে তারেক রহমান বলেন, “তারপরও ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি।”

tarique_rahman

এরপরই তিনি চব্বিশের আন্দোলন প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “একাত্তর সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-গৃহবধূ-নারী-পুরুষ-মাদ্রাসার ছাত্রসহ দল মত নির্বিশেষে শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষ ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট এই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল।”

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়।”

তিনি মনে করিয়ে দেন সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। বলেন, “এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, এই দেশে একইভাবে সমতলের মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে।”

তারেক রহমান প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, “সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন।”

রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা-আকাঙ্খার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।

শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিল, এই দেশের মানুষের জন্য গণতান্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।”

একাত্তরে আর চব্বিশে যারা শহিদ হয়েছেন, যারা বিগত বছরগুলোতে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন তাদের রক্তের ঋণের কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। বলেন, “এই মানুষগুলো রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়, আসুন আমারা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করবো।”

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আধিপত্যবাদ শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখনও লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্য্যশীল হতে হবে।”

গণতান্ত্রিক ও শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, এই দেশকে গড়ে তুলবেন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেকোনও মূল্যে আমাদেরকে এই দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনও উস্কানির মুখে আমাদেরকে ধীর শান্ত থাকতে হবে।”

“আমরা দেশে শান্তি চাই”, বাক্যটি পরপর তিনবার উচ্চারণ করেন।

Tarique-Rahman-Dhaka

মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি। ফর মাই কান্ট্রি।”

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সবার সহযোগিতা লাগবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে।”

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “যে মানুষটি এই দেশের মাটি এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন, তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ অবগত আছেন।”

মায়ের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তারেক রহমান বলেন, “সন্তান হিসাবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে, সেই হাসপাতালের ঘরে।”

তিনি বলেন, “যাদের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই মানুষগুলো কোনোভাবেই আমি ফেলে যেতে পারি না।”

সেজন্যই হাসপাতালে যাওয়ার আগে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আবারও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা যে ধর্মেরই মানুষ হই, আমরা যে শ্রেণির মানুষ হই, আমরা যে রাজনৈতিক দলেরই সদস্য হই অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেকোনও মূল্যে আমাদের দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “যেকোনও মূল্যে যেকোনও বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনও মূল্যে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে হবে।”

বক্তৃতা শেষ করেই দিয়েছিলেন। আবার ফিরে এলেন। ফের দাঁড়ালেন মাইকের সামনে।

তারেক রহমান বললেন, “মনে রাখবেন উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। ফর দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য কান্ট্রি। ইনশাল্লাহ আমরা সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন করবো।”