জুলাইয়ের ‘চেতনা’ নিয়ে ব্যবসা না করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা কাউকে ‘ব্যবসা’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। তবে তা রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।"

ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার জুলাই ‘জাতীয় সম্মেলন ২০২৬’-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা ব্যবহার করে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ব্যক্তিগত বা দলীয় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, ইতিহাস তাদেরও বিচার করবে।

“১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েও অতীতে রাজনৈতিক ব্যবসা হয়েছে, যার পরিণতি দেশবাসী দেখেছে,” যোগ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে, কীভাবে একটি স্বৈরাচারী শাসনের পতন হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন সেই ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের এই বিজয় শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন করা উচিত নয়।

তিনি দাবি করেন, যদি রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আনা হয়, তাহলে শহীদদের বড় একটি অংশ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী।

শহীদের সংখ্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি নিহতের কথা উল্লেখ থাকলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও জরিপে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের তথ্য পাওয়া যায়। অনেক হাসপাতালের নথি সংরক্ষিত না থাকায় এবং অনেক মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়ায় প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি মামলার রায় ইতোমধ্যে হয়েছে। এছাড়া ২৭টি মামলা বিচারাধীন এবং ৭২টি মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।