গরুর মাংস খাওয়ার অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে আন্দোলন করতে হয়, কথাটা শুনলে মনে হতে পারে, এই দেশে গরুর মাংস নিষিদ্ধ। মুসলমানেরা গোপনে গরু খান। কেউ তাদের বাজার থেকে গরুর মাংস কিনতে দেয় না।
বাস্তবতা আমরা সবাই জানি। তবু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু জবাইয়ের নির্দেশনা থেকে মুসলমানের অধিকার বিপন্ন হওয়ার প্রশ্ন উঠে গেল। রেস্তোরাঁর মেনুতে গরুর মাংস না থাকলে সেটিও মুসলমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়ে দাঁড়ালো।
প্রশ্ন হচ্ছে, এখানে ঠিক কোন অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে? নিজের গরু খাওয়ার অধিকার, নাকি অন্যকে নিজের পছন্দ মেনে চলতে বাধ্য করার অধিকার?
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি এই প্রশ্ন সামনে আনে। ১২ই অক্টোবর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একটি ব্যাচ স্নাতক শেষ করার উপলক্ষে মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করে। পাশেই কেন্দ্রীয় মন্দির। কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। চুলায় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। আয়োজকদের বক্তব্য, গ্যাসের সমস্যায় বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। ইটের মালিকানা জানার পর সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তারা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন। প্রশাসন জানায়, আলোচনায় বিরোধটির নিষ্পত্তি হয়েছিল। অতএব প্রথম আয়োজনটিকেই নিশ্চিতভাবে হিন্দুবিরোধী পরিকল্পনা বলার সুযোগ নেই।
এরপর ১৪ই অক্টোবর প্রশাসন জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার কথা বলে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করে না। অথচ প্রতিক্রিয়ায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব হাজির হয়। উপাচার্য কাকে খুশি করছেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। তাকে পাশের দেশে গিয়ে দালালি করার কথা বলা হয়। একটি প্রশাসনিক নির্দেশের জবাব দিতে ভারতের প্রসঙ্গ কেন দরকার হলো? কারণ বিরোধটি তখন এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেখানে নির্দেশনার বিরোধিতা মানেই মুসলমানের পক্ষে দাঁড়ানো, আর সমর্থন মানেই ভারতের পক্ষ নেওয়া।
১৬ই অক্টোবর ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে ভোজ হয়। এখানেও তথ্য পরিষ্কার রাখা দরকার। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসন মৌখিকভাবে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছিল। জবাই হয়েছিল ভিসি ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে। মন্দির কমিটির সদস্যসচিব জয় সাহা মন্দিরের কাছে জবাই বা রান্না না হওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদও দিয়েছেন। ফলে ঘটনাটিকে মন্দিরের সামনে গরু জবাই বলে প্রচার করা অসত্য হবে। কিন্তু এই সংশোধন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভাষায় তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দাবিটিকে মুছে দেয় না।
মুসলমানের গরুর মাংস খাওয়ার অধিকার অবশ্যই আছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ পরিসরে কোথায় পশু জবাই হবে, কোথায় রান্না হবে, অন্য আয়োজন কীভাবে চলবে, এসব নিয়ে নিয়মের প্রয়োজনও আছে। নিয়ম অসংগত হলে প্রশ্ন করা যাবে। প্রশাসন আগে অন্যদের ছাড় দিয়ে থাকলে সেই দ্বিচারিতারও জবাব চাইতে হবে। কিন্তু দেশের কত শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেটি দিয়ে এই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় কীভাবে? সংখ্যায় বেশি হওয়া কি নিয়ম থেকে ছাড় পাওয়ার যুক্তি? নাকি অন্যের আপত্তি শুনতে না হওয়ার অনুমতিপত্র?
এই দাবিকে ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রেখে দেখতে হবে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ব ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল, সরকার পতনের পর সেই পরিবর্তনের অর্থ নির্ধারণ নিয়েও লড়াই শুরু হয়। রাষ্ট্র কীভাবে চলবে, তার পাশাপাশি কার সংস্কৃতি প্রকাশ্যে থাকবে, কার ধর্মীয় চর্চা গ্রহণযোগ্য হবে, কাকে দেশের আপন মানুষ হিসেবে গণ্য করা হবে, এসব প্রশ্নেও কর্তৃত্ব দাবি করা হতে থাকে। হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসা ও উপাসনালয়ে হামলার পাশাপাশি মাজারেও হামলা হয়। ঘটনাগুলোর উদ্দেশ্য ও সংগঠক এক নয়। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্যের জীবন ও চর্চা নিয়ন্ত্রণের দাবিগুলো বিচার করা জরুরি।
এই পরিসরে ভারতবিরোধিতার সঙ্গে হিন্দুবিরোধিতাকে মিশিয়ে ফেলা কার্যকর রাজনৈতিক কৌশল। ভারতের সরকার বা হিন্দুত্ববাদের সমালোচনা করা এক বিষয়। বাংলাদেশের কোনো হিন্দুর আপত্তি কিংবা কোনো মুসলমানের ভিন্ন পছন্দকে ভারতের প্রতি আনুগত্য হিসেবে হাজির করা আরেক বিষয়। দ্বিতীয় কাজটি করলে স্থানীয় নাগরিকের বক্তব্যের জবাব দিতে হয় না; তাকে বিদেশের দালাল বললেই চলে। জগন্নাথে পশু জবাইয়ের নির্দেশনার জবাবে মুসলমানের সংখ্যা ও ‘পাশের দেশ’ হাজির হওয়ার মধ্যে এই রাজনীতিই দেখা যায়। খাবার তখন দেশের ওপর কার দাবি বেশি, সেই পরীক্ষার উপকরণ হয়ে ওঠে।
এই রাজনৈতিক ভাষা জগন্নাথে প্রথম তৈরি হয়নি। অভ্যুত্থানের কয়েক মাসের মধ্যেই তার প্রকাশ্য উদাহরণ পাওয়া যায় ‘নো বিফ’ রেস্তোরাঁবিরোধী আন্দোলনে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় মুসলিম ভোক্তা অধিকার পরিষদ গরুর মাংস না রাখা রেস্তোরাঁ বর্জনের সমাবেশ করে। সব রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস রাখার দাবি এবং বন্ধের হুমকির কথা সংবাদে আসে। সংগঠনের আহ্বায়ক গরুর মাংসকে ইসলামি পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে হাজির করেন। ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারির আরেক প্রতিবাদের মুখে দুটি হোটেল গরুর মাংস পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়। সেখানেও গরুর মাংস না রাখাকে হিন্দুত্ব ও ভারতের প্রতি আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
একজন ব্যবসায়ী তার রেস্তোরাঁয় কী খাবার রাখবেন, সেটি ব্যবসার ধরন, ক্রেতা, খরচ ও তার পছন্দের বিষয়। আপনার পছন্দ না হলে সেখানে খাবেন না। অন্য কোথাও যাবেন। কিন্তু তাকে গরু রাখতেই হবে কেন? ভোক্তার পছন্দের অধিকার থেকে ব্যবসায়ীর মেনু নিয়ন্ত্রণের অধিকার জন্মালো কোথায়? এই যুক্তিতে নিরামিষ রেস্তোরাঁ চালানোর অধিকারও আর থাকে না। মুসলমান হয়ে কেউ গরুর মাংস না খেলে তাকেও কি নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের ব্যাখ্যা দিতে হবে?
এখানে হিন্দুবিরোধী রাজনীতি শুধু হিন্দুকে সরাসরি আক্রমণ করে কাজ করছে না। এমন একটি মুসলমানত্বের মানদণ্ড তৈরি হচ্ছে, যার সত্যতা প্রমাণ করতে হিন্দুর সঙ্গে বিরোধ দেখাতে হবে। গরুর মাংস ভালো লাগে বলে খাচ্ছেন, সেটি যথেষ্ট নয়। এটিকে হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রমাণ হিসেবেও হাজির করতে হবে। ফলে মুসলমানের নিজের পছন্দও সংকুচিত হয়। কী খাবেন, কী খাবেন না, কোন ব্যবসা করবেন, সবকিছুর মধ্যে রাজনৈতিক আনুগত্য খোঁজা শুরু হয়।
ধর্মের যুক্তিটিও এখানে পরিষ্কার করা দরকার। ‘হিন্দুরা গরু খান না, তাই মুসলমানকে গরু খেতেই হবে’, এই যুক্তির ধর্মীয় ভিত্তি কোথায়? ইসলামে গরুর মাংস খাওয়ার অনুমতি আছে। সেই অনুমতির ভিত্তি ইসলামের নিজের বিধান। হিন্দুর খাদ্যাভ্যাস সেই ভিত্তি নয়। অন্যের খাদ্যনিষেধ দিয়ে নিজের ধর্মীয় কর্তব্য নির্ধারণ করতে গেলে তো তারাই আপনার ধর্মপালনের নিয়ম ঠিক করে দিচ্ছেন। তারা যা বর্জন করবেন, আপনাকে তা গ্রহণ করতে হবে। ধর্মের এমন নিয়ম কোথায় পেলেন?
ধর্মগুলোর ইতিহাসে পারস্পরিক প্রভাব আছে, বিরোধ আছে, নিজেদের আলাদা করে চেনানোর বিধানও আছে। কিন্তু সেখান থেকে ‘ওদের ধর্মে আছে, তাই আমার ধর্মে তার বিপরীত করতেই হবে’, এমন সাধারণ নিয়ম তৈরি হয় না। কোনো কাজ জায়েজ হওয়া, ধর্মীয় কর্তব্য হওয়া এবং অন্যকে সেই কাজ করতে বাধ্য করা আলাদা বিষয়।
আশুরার উদাহরণটিই দেখা যাক। সহিহ মুসলিমের বর্ণনায়, দিনটি ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কাছে সম্মানিত বলে উল্লেখ করা হলে নবী পরের বছর নবম দিনেও রোজা রাখার কথা বলেন। এখানে পালিত রোজার মধ্যে পার্থক্য রাখার প্রসঙ্গ এসেছে। অন্যরা রোজা রাখে বলে মুসলমানকে খাওয়ার উৎসব করতে বলা হয়নি। পার্থক্য বজায় রাখার নির্দিষ্ট নির্দেশ থেকে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতিটি আচরণের উল্টো কাজ করাকে ধর্মীয় কর্তব্য বানানো যায় না।
কোরবানিরও নিজস্ব ধর্মীয় ভিত্তি আছে। কুরআন সেটিকে আল্লাহর নাম স্মরণ ও তাকওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে। হিন্দুকে দেখিয়ে দেওয়া কিংবা তার আপত্তির জবাব দেওয়া সেই ভিত্তি নয়। ফলে কোরবানির বিধান দেখিয়ে যেকোনো প্রতিবাদী গরুভোজকে ধর্মীয় কর্তব্যের মর্যাদা দেওয়া যায় না। কোন কাজ কেন করছেন, তার উত্তর আপনাকেই দিতে হবে।
গরুর মাংস ভালো লাগে, খাবেন। খাওয়ার স্বাধীনতায় বাধা এলে প্রতিবাদ করবেন। কিন্তু হিন্দুর আপত্তির জবাব দিতে গরু খেতেই হবে, মুসলমানের রেস্তোরাঁয় গরু থাকতেই হবে, এগুলো আপনাদের রাজনৈতিক দাবি। ধর্মীয় বিধান বলে চালাবেন কেন? নিজেদের কাউন্টার পলিটিক্স নিজেদের নামে করেন। ধর্মকে নিজেদের রাজনীতির অস্ত্র কম বানান নাই। অন্তত কোনটা ধর্মের নির্দেশ আর কোনটা নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর আয়োজন, সেই হিসাবটা পরিষ্কার রাখেন।
ভারতের মুসলমানের গরু খাওয়ার স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানোর যুক্তিটা পরিষ্কার: সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কেউ অন্যের খাবার ঠিক করে দিতে পারে না। বাংলাদেশে এসে সেই যুক্তি বদলে যাবে কেন? এখানে না খাওয়া এবং মেনুতে না রাখার স্বাধীনতাও একই কারণে স্বীকার করতে হবে। দুই দেশের আইন ও সহিংসতার মাত্রা আলাদা। কিন্তু ব্যক্তির খাদ্যপছন্দের স্বাধীনতা মানার নীতিটি বদলায় না।
আর যাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এত রাজনীতি, তারা কতটা খেতে পারেন? বিআইডিএস-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, মাথাপিছু দৈনিক গরুর মাংস গ্রহণের জাতীয় গড় ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম। বিআইডিএস-এর ২০২৩ সালের গ্রামীণ জরিপে স্বপ্রতিবেদিত সম্পদের ভিত্তিতে সবচেয়ে দরিদ্র গোষ্ঠীর গড় প্রায় এক গ্রাম, সবচেয়ে ধনীদের প্রায় ৭ দশমিক ৪ গ্রাম। এগুলো জরিপের গড়। কিন্তু কার পাতে কতটা মাংস পৌঁছায়, তার ফারাক বোঝা যায়।
অথচ গরুর মাংসকে সবার মুসলমানত্বের প্রতীক বানানোর সময় এই শ্রেণিগত ফারাকের কথা আসে না। কম খাওয়া হয় বলে কোনো খাবারের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব কমে না। কিন্তু সেই গুরুত্ব নিয়ে রাজনীতি করলে মানুষের কেনার সামর্থ্যের প্রশ্নও তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাশ্রয়ী খাবার, হলের খাবারের মান, দরিদ্র শিক্ষার্থীর নিয়মিত খেতে পারা নিয়ে এই সংগঠনগুলোর কর্মসূচি কী? গরুভোজ আয়োজন করবেন, ভালো কথা। কিন্তু কে কতটা খেতে পারছেন, সেই প্রশ্নের জায়গায় কে কতটা মুসলমান, তার পরীক্ষা নেবেন কেন?
ধর্মীয় পরিচয়ের এই পরীক্ষা শুধু হিন্দুর জন্য বিপদ তৈরি করে না। কোন মুসলমানের চর্চা চলবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণের বিষয় হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সরকার জানিয়েছিল, ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ থেকে ৪০টি মাজারে ৪৪টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিটি হামলার কারণ আলাদাভাবে বিচার করতে হবে। তবে ঘটনাগুলো প্রশ্ন তোলে: গ্রহণযোগ্য ধর্মচর্চা নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে যাচ্ছে, আর সেই সিদ্ধান্ত না মানলে একজন মুসলমানও কতটা নিরাপদ থাকছেন?
সব ঘটনা এক সংগঠনের কাজ কিংবা একই পরিকল্পনায় হচ্ছে, এমন দাবি করার প্রমাণ নেই। জাতিসংঘের অনুসন্ধানেও ধর্মীয় বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও স্থানীয় বিরোধের মিশ্র উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক কারণ থাকলেই কোনো ঘটনার সাম্প্রদায়িক চরিত্র বাতিল হয় না। হিন্দু হলেই আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ হলেই ভারতের লোক, এই হিসাবের মধ্যেই ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক অপরাধের প্রমাণ বানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দির আছে বলে সবাইকে গরু খাওয়া ছাড়তে হবে না। আবার মুসলমান বেশি বলে কোথায়, কখন, কীভাবে আয়োজন হবে, সেটিও একতরফা ঠিক করা যাবে না। নিয়ম নিয়ে কথা হবে, আপত্তি উঠবে, সমাধান হবে। কিন্তু আপত্তি করলেই কাউকে দেশের বাইরের লোক বানিয়ে দিলে তার নাগরিক অধিকার থাকলো কোথায়? গরু খাওয়ার অধিকার আপনার আছে। সেই অধিকার থেকে অন্যকে শাসন করার অধিকার বের হয় না।
মীর হুযাইফা আল মামদূহ ধর্ম, গণমাধ্যম, পরিচয় ও ক্ষমতার আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে কাজ করা একজন গবেষক ও সাংবাদিক। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজ, ধর্মীয় ডিসকোর্স এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব।
[মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব]