বেজে উঠলো ভোটের দামামা- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি।
বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তফসিল তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তিনি বলেন, “আসুন আচরণবিধি মেনে আমরা শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করি। ভোটের আস্থা অর্জনই হোক আপনাদের লক্ষ্য। কমিশন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।”
ভোটের দায়িত্ব পালনে কোনো শিথিলতা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
তফসিল অনুযায়ীঃ
- নির্বাচনি প্রচারণা শুরু- ২২এ জানুয়ারি
- নির্বাচনি প্রচারণা শেষ- ১০ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট
- মনোনয়ন দাখিল শেষ- ২৯এ ডিসেম্বর
- মনোনয়নপত্র বাছাই- ৩০এ ডিসেম্বর থেকে ৪ঠা জানুয়ারি
- আপিল শেষ- ১১ই জানুয়ারি
- আপিল নিষ্পত্তি- ১২ই জানুয়ারি থেকে ১৮ই জানুয়ারি
- মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ- ২০ই জানুয়ারি
- চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ- ২১শে জানুয়ারি
- নির্বাচন ও গণভোট- ১২ই ফেব্রুয়ারি
তফসিল ঘোষণার পর কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনি আইন বা আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেন, তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারবে। এমনকি অভিযোগ গুরুতর হলে প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে।
এ নির্বাচনে প্রবাসীরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত দুই লাখ ৯৭ হাজারের বেশি প্রবাসী অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মোট সংখ্যা ৫৯টি দেখানো হলেও এখানে নাম রয়েছে ৫৬টির। তার মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা শুরু হয়। সে সময় দল ছিল ৩৮টি। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিজ এলাকার ১% সমর্থন দেখাতে হয়। নিবন্ধিতরা দলীয়ভাবে ভোট করার সুযোগ পায় আর স্বতন্ত্র প্রার্থীও রাখা হয়। তখন ওই নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৮টি দল অংশ নেয়।
দশম সংসদ নির্বাচনে দল ছিল ১২টি। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ভোট বর্জন করে এবং ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড হয়।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি দল ভোটে অংশ নেয়। সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দল ভোটে অংশ নেয়। এসময় নিবন্ধিত দল ছিল ৪০টি।