কেন ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ কিনতে চায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

হঠাৎ রেডারে লেগে যায় অচেনা সিগন্যাল। বাল্টিক সাগরের উপকূলের আকাশে কিছু অচেনা বিমানের নড়াচড়া। ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই এগোচ্ছে নেটো অঞ্চলের দিকে।

কুইক রিয়্যাকশন অ্যালার্ট হিসাবে প্রস্তুত ছিলো ইউরোফাইটার টাইফুন। কমান্ড সেন্টারের নির্দেশ পেয়েই উড়ে যায় আকাশে।

ধরা পড়লো রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান সুখোই ৩৫। দূরত্ব রেখেই সতর্ক করে ফিরিয়ে দেয়া হলো বিমানটিকে। ২০১৯ সালে মাঝামাঝি সময়ে এভাবে একুশ দিনে একুশটি রাশিয়ার ‍যুদ্ধ বিমান ‘ইন্টারসেপ্ট’ করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্স।

ইউরোফাইটার টাইফুনের এই সাফল্যের ঘটনাটি গর্বের সাথে লেখা আছে ব্রিটিশ সরকারের ওয়েবসাইটে। এই টাইফুনের দিকেই এবার আগ্রহ বাংলাদেশের।

এই যুদ্ধবিমান কিনতে মঙ্গলবার ইতালির প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএ’র সাথে আগ্রহপত্র সই করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

কারা তৈরি করে ‘টাইফুন’

যাত্রী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার ঘোষণা দিয়েছে এবং আগের সরকারের এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা থেকে কার্যত সরে এসেছে। এই নিয়ে চলা দর কষাকষির মধ্যেই আলোচনায় এলো ’ইউরোফাইটার টাইফুন’।

ইউরোপের চার শক্তিশালী দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনের সহযোগিতায় ইউরোফাইটার টাইফুন কনসোর্টিয়াম গঠিত হয়েছে। তাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস কোম্পানি এয়ারবাস, বিএই সিস্টেমস ও লিওনার্দো এই যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মূল অংশীদার।

এই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে ইউরোফাইটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক সুইং-রোল কমব্যাট বিমান। বিশ্বের ৯টি দেশের বিমান বাহিনীর কাছে এই যুদ্ধবিমান আছে। দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, অস্ট্রিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতার।

কী আছে টাইফুনে

এটি একটি দুই ইঞ্জিনের যুদ্ধ বিমান। ক্যানার্ড ডেল্টা উইং এবং মাল্টিরোল ফাইটার। ইউরোফাইটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি পুরোপুরি সুইং রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট। অর্থাৎ আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে একইসাথে হামলা চালাতে পারে এই যুদ্ধবিমান।

টাইফুন তীক্ষ্ণ সেন্সর, দ্রুতগতি এবং উচ্চমানের ডগফাইটিং সক্ষমতার জন্য খ্যাত। এছাড়া রেডার, মিসাইল ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, এর ক্ষিপ্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এটি স্থলভাগেও সমানভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। গাইডেড বম্ব, প্রিসিশন স্ট্রাইক অস্ত্র এবং যুদ্ধক্ষেত্রের রিয়েলটাইম তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রেও টাইফুনকে অসামান্য বলা হয়।

গোপন নজরদারি

ইউরোফাইটার টাইফুন শুধু যুদ্ধের জন্য তৈরি করা নয়, বরং তথ্য সংগ্রহ, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষার সামগ্রিক চিত্র তৈরিতেও উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করতে পারে।

যুদ্ধ বিমানটির বাহ্যিক পৃষ্ঠের মাত্র ১৫ শতাংশ ধাতব পদার্থের তৈরি। এর ফলে রেডারনির্ভর নজরদারি থেকে এটি অনেকাংশেই নিজেকে আড়ালে রাখতে পারে। এর নকশা সাবসনিক গতিতে উচ্চমানের ম্যানুভারিং এবং সুপারসনিক গতিতে কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ইউরোফাইটার টাইফুন নকশায় শক্তিশালী, কিন্তু হালকা উপকরণ দিয়ে তৈরি। এজন্য এয়ারফ্রেমের ওজন ৩০ শতাংশ কম। এতে বর্তমানে বাজারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিনগুলোর একটি ইজে২০০ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধবিমানটি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬০০ কেজি জ্বালানি বহন করতে পারে।

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

বাংলাদেশের মিগ-২৯ আছে ৮টি আর এফ-৭ আছে ৩৬টি

ওয়ারপাওয়ারবাংলাদেশ ডটকম-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট ২১২টি বিমান রয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ৪৪টি। এর মধ্যে ৩৬টিই চীনের তৈরি এফ-৭এস।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) তৈরি মিগ ২১ শ্রেণির যুদ্ধ বিমান দিয়ে যাত্রা শুরু করে। সেই বহরে প্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে নব্বইয়ের দশকের শেষ নাগাদ। ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার তৈরি ৮টি মিগ ২৯ যুদ্ধবিমান যোগ হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে।

এখনও বিজয় দিবসে আকাশ কাঁপানো রণ শৈলী কিংবা ক্যালেন্ডারের পাতায় এই বিমানই যেন বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্সের প্রতীক। প্রতিটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের দাম পড়ে এক কোটি ১০ লাখ ডলার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মিগ-২৯ এর জন্য বাংলাদেশ যে কুড়িটি ইঞ্জিন এনেছিল তার মধ্যে এখন কার্যকর আছে মোটে ছয়টি। তার মানে তালিকায় আটটি মিগ-২৯ নিয়মিত ওড়ানোর সক্ষমতা এখন আর নেই বাংলাদেশের।

উন্মুক্ত মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আছে চীনের তৈরি ৩৬টি এফ-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান। এটি এফ-৭ সিরিজের উন্নত সংস্করণ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের আদলে তৈরি করা হয় এই এফ-৭, যা চীনের চেংদু জে-৭ এর রপ্তানি সংস্করণ।

২০১০-১১ অর্থবছরে চতুর্থ প্রজন্মের ১৬টি এফ-৭ বিজি-১ যুদ্ধবিমান কেনে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত এই ৪৪টি যুদ্ধবিমান আছে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষার বহরে।

এছাড়া রাশিয়ার তৈরি ১৪ টি ইয়াক-১৩০ রয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর। এগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও হালকা আক্রমণ চালানোর উপযোগী। ফ্রান্স, ইতালি, চেক রিপাবলিক থেকে কেনা কিছু প্রশিক্ষণ বিমানও ব্যবহার করে বাংলাদেশ।

কেন নতুন যুদ্ধবিমান?

গত অক্টোবরে চীন থেকে ২০টি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনার কথা জানায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ওই সময় তার ফেইসবুক প্রোফাইলের এক পোস্টেও বিষয়টি জানান। তিনি লেখেন, চীনের তৈরি ২০টি জে -১০ সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই চুক্তিটি বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে বলেও এই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বেশি দূর আগায়নি। ঠিক দুই মাস পর দেখা গেল যুদ্ধবিমানের আলোচনায় ইউরোপ। ১০ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া বিমানবাহিনীর সম্মুখ সারির সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ।

ইউরোফাইটার টাইফুন কিনতে ইতালির প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএ’র সাথে আগ্রহপত্র সই করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী

এই বিমান কেনার উদ্যোগের অংশ হিসাবে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও বাংলাদেশে দায়িত্বরত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর উপস্থিতিতে লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়েছে।

তবে এ ধরনের কতটি যুদ্ধবিমান বাংলদেশ কিনবে, সেজন্য কত খরচ হবে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা সেখানে দেওয়া হয়নি।

কী প্রয়োজন বাংলাদেশের?

টাইফুনের মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার প্রয়োজনীয়তা জানচ্ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশে সৌভাগ্যবশত ইমিডিয়েটলি কোনও বহিশত্রুর আক্রমনের শঙ্কা নেই। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী যদি থাকতে হয় তার কর্মদক্ষতাও থাকতে হবে। যেহেতু আমরা সারা বিশ্বের শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ মিশনের অধীনে কাজ করছি, সেহেতু প্রত্যেকটি বাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা থাকতে হবে।”

কতটুকু সক্ষমতা প্রয়োজন? এমন প্রশ্নের উত্তরে কমোডর চৌধুরী বলছিলেন, “কতটুকু থাকতে হবে সেটা নির্ভর করছে আমাদের রোল অ্যান্ড টাস্ক এবং আমাদের আর্থসামাজিক সক্ষমতার উপরে।” 

আধুনিক বাংলাদেশের ভবিষ্যত বিবেচনায় তাই টাইফুন কেনার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

নিরাপত্তা সক্ষমতার প্রকাশ প্রশ্নে কমোডর চৌধুরী বলছিলেন,“আমাদের এমন একটা ফাইটার ওড়াতে হবে যেটা যুদ্ধে আমাদের যেকোনও প্রতিবেশি বা যেখানে ডেপ্লয় হবে সেখানে ‘দে ক্যান ফাইট অ্যান্ড উইন অ্যান্ড কাম ব্যাক’। আমরা ওয়ান ওয়ে টিকেট দিয়ে আমাদের এয়ারক্র্যাফট পাঠাতে পারি না। একইভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ এলে যেন তা প্রতিহত করার সক্ষমতা করতে হবে। সেই বিবেচনা মাথায় রেখেই আধুনিক যেসব অপশন আছে সেখান থেকেইতো বেছে নিতে হবে।”

পরিচালনায় কতটা সক্ষম বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ইউরোফাইটার টাইফুন পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কতটা সক্ষম? কমোডর চৌধুরী বলছিলেন, “মানুষের মধ্যে এই ধারণাটা নেই, আমাদের প্রযুক্তিগত যে সক্ষমতা আছে এবং যে জনবল আছে, তারা পৃথিবীর আধুনিকতম এয়ারক্র্যাফট ওড়ানো, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণে সক্ষম।”

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “১৯৭৩-৭৪ সালে যখন আমরা রাশিয়া থেকে মিগ-২১ এনেছিলাম, তখন সেটা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক মিগ-২১। একমাত্র রাশিয়ার এয়ারফোর্স ছাড়া এমনকি ভারতের কাছেও ওই ধরনের আধুনিক এয়ারক্র্যাফট ছিল না। আমরা সেগুলো নিয়েছি, মেইনটেইন করেছি। সুতরাং ফ্লাইং পয়েন্ট অব ভিউ অ্যান্ড মেইটেইনেন্স পয়েন্ট ভিউ থেকে কোনও সমস্যা হবে না।”

বোয়িং বনাম এয়ারবাস

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট ২১২টি বিমান আছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ৪৪টি

গণঅভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে আসছে ফ্রান্সভিত্তিক ইউরোপিয়ান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছিলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বোয়িং তৎপর হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। দায়িত্ব নেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে বসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য যুদ্ধের ঘোষণা দেন। শুল্কের খড়গ নামে বাংলাদেশের ওপরেও। এরই মধ্যে গত জুলাইয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা জানায়।

এরপর থেকেই ফ্রান্সের এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি হোঁচট খায়। নড়েচড়ে বসে ইউরোপ। এয়ারবাস বিক্রির জন্য চালিয়ে যায় দেন দরবার।

গত জুনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরে গেলে তার সঙ্গে দেখা করেন এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাউটার ভ্যান ভার্স। এরপর থেকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

নভেম্বরের শুরুতে ফ্রান্স দূতাবাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা যৌথভাবে প্রত্যাশা জানান, এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবে বাংলাদেশ।

তারা ইউরোপে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘ অংশীদারত্বের কথা মনে করিয়ে দেন বারবার।

২৬এ নভেম্বর ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ আয়োজিত ডিক্যাব টকে এক প্রশ্নের জার্মান রাষ্ট্রদূতও সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেন। ইউরোপের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধার আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে এর প্রভাব থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।

তবে এসব আলোচনা ছিল যাত্রী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ নিয়ে। এর মধ্যে ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার আগ্রহ জানালো বাংলাদেশ। উল্লেখ করা যায়, যে কনসোর্টিয়াম ইউরোফাইটার টাইফুন তৈরি করে তার উল্লেখযোগ্য অংশ এয়ারবাসের।