ইউরোভিশন প্রতিযোগিতায় ইসরায়েল, বর্জন করছে একের পর এক দেশ

ইসরায়েলকে অংশ নেয়ার অনুমোদন দেয়ায় ইউরোপীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ইউরোভিশন বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে চারটি দেশ।

১৯৫৬ সাল থেকে চলে আসা ইউরোপের সবচেয়ে বড় সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজক ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন বা ইবিইউ-এর সদস্য দেশগুলো। 

কিন্তু ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে না এই ইউনিয়নেরই চারটি দেশ, যাদের মধ্যে আছে ইউরোভিশনের ‘বিগ ফাইভ’ দেশের স্পেন।

বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্লোভেনিয়াও। আয়ারল্যান্ড আগের বছরগুলোতে সাতবার এই সঙ্গীত প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন, আর নেদারল্যান্ডস সেরা হয়েছে পাঁচবার।

প্যালেস্টাইনের গাজায় যুদ্ধ এবং ইউরোভিশনের ভোটে অনিয়মের অভিযোগে ইসরায়েলকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এই চার দেশ।

ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও স্পেনকে বলা হয় ইউরোভিশনের ‘বিগ ফাইভ’। প্রতি বছর এই পাঁচটি দেশের শিল্পীরা সরাসরি ফাইনালে ওঠার সুযোগ পায়। কারণ ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই আয়োজনের খরচের বড় অংশই যোগায় এই দেশগুলো।

২০২৪ সালের মে মাসে প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় স্পেন। গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে দেশটির সরকার তখন থেকেই একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। 

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের পর পুরো পৃথিবী এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এক অংশ ইসরায়েলের ‘মাতৃভূমির অধিকারের পক্ষে’ সকল পদক্ষেপকে বৈধ হিসেবে মেনে নিয়েছে, আরেক অংশ গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও দখলদারিত্বকে দেখছে গণহত্যা হিসেবে। 

এই ইস্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মনোভাবের পার্থক্য প্রভাব ফেলেছে ইউরোভিশনের মতো সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও।

প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে ৪ঠা ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের সাথে বৈঠক করে বিবিসিসহ প্রায় ৫০টি সম্প্রচার সংস্থা। 

সেখানে ২০২৬ সালের ইউরোভিশনে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে কোন আলোচনা বা ভোট হবে না, সে ব্যাপারে অধিকাংশ সদস্য একমত হয়েছে।  

তবে কিছু নতুন নিয়মের জন্য গোপন ব্যালটে ভোট হয়। যার মধ্যে ছিল কোনও দেশের সরকার বা তৃতীয় পক্ষ যাতে তাদের প্রতিযোগীদের পক্ষে প্রচারণা চালানো থেকে বিরত থাকে। 

২০২৫ এর ইউরোভিশনে ইসরায়েল তাদের প্রতিযোগীর পক্ষে অনলাইন প্রচারণা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। যদিও দেশটি তা অস্বীকার করে। 

ইউরোভিশনের পরিচালক মার্টিন গ্রিনের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে ইবিইউ-এর বেশিরভাগ সদস্য একমত হয়েছে যে ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতাকে রাজনৈতিক মঞ্চের মতো ব্যবহার করা উচিত হবে না, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

তবে ‘বিগ ফাইভ’-এর দেশ স্পেন বলেছে আয়োজকদের উপর থেকে তাদের বিশ্বাস উঠে গেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আরটিভিই-এর প্রেসিডেন্ট হোজে পাবলো লোপেজ বলেছেন ইউরোভিশনের আয়োজক রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। 

তার মতে ২০২৫ সালে নিজেদের প্রতিযোগীর জন্য প্রচারণা চালানোর দায়ে ইবিইউ-এর উচিৎ ছিল ভোটাভুটি না করে ইসরায়েলের উপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয়া।

২০২৬ সালের ইউরোভিশনের আসরে অংশ নেয়ার অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটি একে সমালোচকদের বিরুদ্ধে জয় হিসেবে দেখছে। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বলেছেন এই সিদ্ধান্ত সংহতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত।

তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা আরও কিছু দেশ জনপ্রিয় এই প্রতিযোগিতা বর্জন করবে। আইসল্যান্ড জানিয়েছে তারা তাদের সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে জানাবে।  বেলজিয়াম ও সুইডেনের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত থাকলেও ৫ই ডিসেম্বর শুক্রবার দেশ দুইটি জানিয়েছে তারা প্রতিযোগী পাঠাবে। আর ফিনল্যাণ্ডের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের উপর।

ইউরোভিশনের এই আয়োজন প্রতি বছর ১৫ কোটি দর্শক উপভোগ করে।