মতামত

নিউজরুমের অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি যখন পুলিশ

দিনের হিসাবটা সাজালে একটা গল্পের মতোই শোনায়। দুপুরে ডিবি হেফাজত। বিকেলে বলা হলো, গ্রেপ্তার করা হয়নি, কথা বলা হচ্ছে। রাত ৯টার দিকেও সিদ্ধান্ত হয়নি। তারপর গভীর রাতে জানা গেলো, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

এর ফাঁকে কখনো এসেছে সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’র কথা, কখনো তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধারের ব্যাখ্যা। আর যে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি পরিচিত, সেই ডিবিসির সংবাদে এসেছে চ্যানেল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ। 

একজন মানুষকে কেন ধরে আনা হলো, এই প্রশ্নের উত্তর একদিনেই এতবার বদলালে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। না ওঠাটাই বরং অস্বাভাবিক।

পুলিশ বারবার বলেছে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’র কথা। শব্দটা সুবিধাজনক। এর ভেতরে সবকিছু ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, অথচ কিছুই ব্যাখ্যা করতে হয় না। 

কিন্তু সংবাদকক্ষের কাছে সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি যে পুলিশ, বিশেষ করে বিনা নোটিশে আসা পুলিশ, এ দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস সে কথা বহুবার মনে করিয়ে দিয়েছে। 

এই লেখা সেই স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেওয়া বা জনমত তৈরি এর উদ্দেশ্য নয়।

এক দিনে পাঁচ রকম ব্যাখ্যা

বুধবারের ঘটনাপ্রবাহ আলাদা করে সাজালে অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ভাষ্য পাওয়া যায়।

প্রথম ভাষ্য ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. আখতার হোসেনের। 

তার বক্তব্য ছিল, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে মহাখালীর একটি বেসরকারি টেলিভিশনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ইকবাল সোবহান ও রাজীব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কোন সংবাদ, কী পরিস্থিতি, কার অভিযোগ, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

দ্বিতীয় ভাষ্য ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলামের। তিনি বলেছেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরী অফিসে যাওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেটি এড়াতেই তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। 

রাত ৯টার দিকেও একই কথা- সিদ্ধান্ত হয়নি। 

এখানে দুটি খুঁটিনাটি চোখ এড়ানো কঠিন। 

কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিবি খবর পেয়ে কার্যালয়ে গিয়ে তাকে হেফাজতে নিয়েছে। আবার পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্যে পরিস্থিতিটা তৈরি হয়েছিল তার অফিসে যাওয়ার পর। 

কে আগে ছিল, ঘটনা আগে ঘটেছিল নাকি পুলিশ আগে পৌঁছেছিল, সেই ক্রম পরিষ্কার নয়। সময়ের বিবরণেও ফারাক আছে। কোথাও দুপুর, কোথাও বিকেল সাড়ে ৩টা। এটি হেফাজতে নেওয়ার সময় নাকি ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছানোর সময়, প্রকাশিত বিবরণে তা আলাদা করে বোঝার উপায় নেই।

তৃতীয় ভাষ্য ডিবিসির নিজেদের। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদির অনিক বলেছেন, অফিস থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তা থেকে ইকবাল সোবহানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেন নেওয়া হলো, তারা নিশ্চিত নন; তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার কোনো মামলার সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে তাদের ধারণা। 

ধারণাটি ছিল বিকেলের, অনুমানমাত্র। কিন্তু রাতের ঘোষণা এসে সেই অনুমানের কাছাকাছিই দাঁড়ালো। বাইরে থেকে যে যোগসূত্র আন্দাজ করা যাচ্ছিল, ভেতর থেকে সেটি ব্যাখ্যা করতে পুলিশের কেন এত সময় লাগল, প্রশ্নটি অমূলক নয়।

চতুর্থ ভাষ্য এনটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে। সেখানে ঘটনাটিকে দেখা হয়েছে পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হিসেবে। 

প্রতিবেদনে ডিবিসির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ, আগে থেকে গোয়েন্দা তথ্য থাকা এবং একাধিক গোপন বৈঠকের কথা এসেছে। কিন্তু ভাষাটা লক্ষ্য করার মতো। 

সেখানে ‘দাবি করা হচ্ছে’, ‘আঁচ পাওয়া যায়’, ‘অভিযোগ উঠেছে’ ধরনের বাক্যই বেশি। কোন গোয়েন্দা তথ্য, কার কাছ থেকে, কারা বৈঠক করলেন, কোনোটিরই নাম নেই। 

একই প্রতিবেদনে এ-ও স্বীকার করা হয়েছে যে ঘটনার বিস্তারিত কারণ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। যে অভিযোগের কোনো স্পষ্ট উৎস নেই, তাকে হেফাজতের যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো যায় না।

পঞ্চম ভাষ্যটি এলো গভীর রাতে। 

৫ই নভেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার ঘটনায় মামলাটি হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৬এ অগাস্ট। তার সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া ডিবিসির জ্যেষ্ঠ অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকে পরে মুচলেকায় পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।

এখানে একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। দুপুরে ধরে নিয়ে গিয়ে গভীর রাতে নতুন মামলা করা হয়নি; পুরোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি দুই বছরেরও বেশি পুরোনো। এত দিন পর, ঠিক যেদিন একটি টেলিভিশন কার্যালয়ে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি’র কথা উঠলো, সেদিনই সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। এই সময়ের মিল কাকতালীয় হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। সেটি প্রমাণ করার মতো তথ্য প্রকাশ্যে নেই। 

পাঁচটি ভাষ্য একই ঘটনার পাঁচটি দিক হতেও পারে। কিন্তু তারা পরস্পরের পরিপূরক হয়ে ওঠেনি; একটির সূত্র ধরে আরেকটিতে পৌঁছানোর পথ কেউ দেখায়নি।

হেফাজত আর গ্রেপ্তারের মাঝের ধূসর জায়গা

‘হেফাজতে নেওয়া’, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা’, ‘কথা বলা হচ্ছে’, এই শব্দগুলোর একটা সুবিধা আছে। এগুলো আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের দায় ও নিয়মকানুন থেকে খানিকটা দূরে থাকে। কিন্তু যিনি নিজের ইচ্ছায় বেরিয়ে যেতে পারেন না, তাকে কাগজে যা-ই বলা হোক, বাস্তবে তিনি আটক। 

সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে যথাশীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জানানো এবং চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার কথা বলে। 

বুধবারের ঘটনায় সেই সময়সীমা পেরিয়েছে কি না, সেই হিসাব আইনজীবীরাই করতে পারবেন। সাধারণ পাঠকের প্রশ্ন আরও সহজ: যে মানুষটি দুপুর থেকে পুলিশের কাছে ছিলেন, তার অবস্থান কাগজে কখন ‘হেফাজত’ থেকে ‘গ্রেপ্তার’ হলো, আর কেন?

এই প্রশ্ন শুধু ইকবাল সোবহানের জন্য নয়। আইন তখনই রক্ষাকবচ হয়, যখন তার ভাষা প্রয়োগের সময়ও আইনের ভাষাই থাকে।

সংবাদকক্ষ, নাকি কার্যালয়ের সামনে

ঘটনাস্থল নিয়েও বক্তব্য মেলে না। 

আলাপ নিউজ ডিবিসির কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, পুলিশ সংবাদকক্ষের ভেতরে ঢুকে ইকবাল সোবহানকে নিয়ে যায়। রাজীব ঘোষ এগিয়ে বাধা দিতে গেলে তাকেও নিয়ে যাওয়া হয়। এটি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া বিবরণ। 

অন্যদিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ডিবিসি'র মুখপাত্র মুক্তাদির অনিক বলেছেন, অফিস থেকে বের হওয়ার সময় রাস্তা থেকে ইকবাল সোবহানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজীবকে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসেছে পুলিশের সঙ্গে পরিচয় এবং চা খাওয়ার আমন্ত্রণের বিবরণ। ডিবিসির নিজস্ব অনলাইন সংবাদে ঘটনাস্থল বলা হয়েছে কার্যালয়ের সামনে; এনটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনেও কার্যালয়ের সামনের কথাই এসেছে। অর্থাৎ সংবাদকক্ষের ভেতর, কার্যালয়ের সামনে আর বের হওয়ার সময় রাস্তা, এই তিন বিবরণ এক নয়।

স্থান নিয়ে এই খুঁটিনাটি পাঁচ-সাত লাইনের কূটতর্ক নয়। সংবাদকক্ষের ভেতর থেকে কাউকে নিয়ে যাওয়া আর রাস্তা থেকে তুলে নেওয়ার মধ্যে ফারাক আছে, কারণ সংবাদকক্ষে থাকে নথি, ফাইল, সূত্রের পরিচয়, অসম্পূর্ণ খবর।

এই বিরোধ নিষ্পত্তির উপায় আছে। পুলিশ কোথায় গিয়ে প্রথম তার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছিল, কার নির্দেশে করেছিল, তখন কী কারণ জানিয়েছিল, তা জানাতে পারে। কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। 

ডিবিসি নিজেও চাইলে ফুটেজের কথা প্রকাশ্যে বলতে পারে। একজন অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদকের পুলিশের সঙ্গে পরিচয় তার হেফাজতে থাকার কারণ হতে পারে না। বরং সেই পরিচয়টাই তো তার পেশার অংশ। 

যে সাংবাদিক পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন না, তিনি অপরাধের খবর লিখবেন কীভাবে? আর যাকে মুচলেকা দিয়ে ফিরতে হয়, তার কাছ থেকে আসলে কী লিখিয়ে নেওয়া হলো, জনগণের তা জানার অধিকার আছে।

নিজেদের খবরেই রাখঢাক

ডিবিসির সংবাদটি এখানে আলাদা মনোযোগ দাবি করে। প্রতিবেদনের শুরুতে নিজের প্রতিষ্ঠানকে তারা বলছে ‘একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল’। পরে ডিবিসির নাম এসেছে। তাই চ্যানেলটি নিজের পরিচয় পুরোপুরি গোপন করেছে, এ কথা বলা ঠিক হবে না। কিন্তু নিজের ঘরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় প্রথম বাক্যেই এমন দূরত্ব তৈরির প্রয়োজন হলো কেন? 

সংবাদমাধ্যম যখন নিজের গল্প বলতে গিয়ে ‘অন্য কেউ’ সেজে বসে, তখন পাঠক বুঝে ফেলেন, গল্পটা বলার স্বাধীনতা পুরোপুরি তার হাতে নেই।

আরও বড় প্রশ্ন, পুলিশের অস্পষ্ট বক্তব্য থেকে প্রতিবেদনে ‘দখলবাজির’ আভাস খোঁজা হয়েছে। পুলিশ যে অভিযোগ স্পষ্ট করে বলেনি, সংবাদমাধ্যম নিজেই তার অর্থ দাঁড় করাচ্ছে। একটি পক্ষের অভিযোগকে এমনভাবে উপস্থাপন করলে সংবাদ আর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অবস্থানের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায়। সংবাদকক্ষের প্রথম শর্ত, নিজের পক্ষ নিয়ে লেখার সময়ও জানিয়ে দেওয়া যে এটি একটি পক্ষের কথা।

আপাতদৃষ্টিতে ঘটনাটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিরোধ এবং সহকর্মীদের একাংশের অভিযোগের যোগ আছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে কে লিখিত অভিযোগ করেছেন, কী অভিযোগ করেছেন কিংবা পুলিশ কেবল সেই অভিযোগেই গিয়েছিল কি না, তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 

এই অংশকে নিশ্চিত ঘটনা বানিয়ে লেখা যেমন ভুল হবে, তেমনি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের শেষ ঘোষণার আড়ালে দুপুরের ঘটনাটি চাপা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিহাসে এমন চাপা দেওয়ার উদাহরণ কম নয়: শেষ দৃশ্যটি এত জোরালো হয়, যাতে প্রথম দৃশ্যের কথা কেউ আর জিজ্ঞেস না করে।

প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চেয়ারম্যান, মালিকপক্ষ বা সম্পাদকের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের বিরোধ থাকতেই পারে। সেই বিরোধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে পুলিশ তদন্তও করবে। কিন্তু এক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে অন্য পক্ষকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগে অভিযোগের প্রকৃতি ও হস্তক্ষেপের কারণ স্পষ্ট করা জরুরি। তা না হলে পুলিশি ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ বদলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেই সন্দেহ তৈরি হয়। 

সন্দেহ ওঠাটা পুলিশের দোষ না-ও হতে পারে; কিন্তু সন্দেহ দূর করার দায়িত্ব পুলিশেরই।

৫ই অগাস্ট পরবর্তী কর্তৃত্বের লড়াই

আলাপ নিউজকে ডিবিসির একাধিক সহকর্মী বলেছেন, ৫ই অগাস্টের পর ডিবিসির কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রেষারেষি ছিল। প্রকাশিত সংবাদেও পরিবর্তনের কিছু চিত্র পাওয়া যায়। 

জায়েদুল আহসান পিন্টু, প্রণব সাহা, নঈম তারিক ও মাসুদ কার্জনকে সরিয়ে দেওয়ার তথ্য এসেছে। সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন লোটন একরাম। ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলামের কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি, পদ ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ এবং বুধবারের ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে প্রশ্ন তোলা যায়। কিন্তু আগের রদবদলই এবারের পুলিশি হস্তক্ষেপের কারণ, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও প্রমাণ দরকার। অনুমান যত যুক্তিসঙ্গতই হোক, অনুমান অনুমানই।

ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে এখানে নিছক অসহায় সংবাদকর্মী হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই। তিনি শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন, সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন প্রভাব রেখেছেন। আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় ছাপিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ই বড় হয়ে উঠেছিল তার। 

তার এই রাজনৈতিক অবস্থান এবং ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক সমালোচনার বিষয়। সেই সমালোচনা কেউ মুছে দিতে বলছে না, মুছে দেওয়া উচিতও নয়।

ডিবিসিতে তার বর্তমান আনুষ্ঠানিক পদ নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে, এবং সেটা এই লেখার ফাঁক নয়, সংবাদ-পরিবেশনেরই ফাঁক। 

একই দিনের কোনো প্রতিবেদনে তিনি ‘চেয়ারম্যান’, অন্য প্রতিবেদনে ‘সাবেক চেয়ারম্যান’। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তিনি সাবেক চেয়ারম্যান। এই বিরোধ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্বের প্রশ্নটিকে সামনে আনে, আর সেই প্রশ্নের মীমাংসা থানা-পুলিশে নয়, আইন ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা।

অবজারভারের পুরোনো অভিযোগ

সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের ইতিহাস আছে।

২০০৯ সালের ২৩এ মার্চ বিডিনিউজে প্রকাশিত রিয়াজুল বাশারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়। 

বাংলাদেশ অবজারভারে ১৯৯১ সালের বেতন ও পাওনাসংক্রান্ত আন্দোলনের পর মালিকপক্ষের সঙ্গে কর্মীদের বিরোধ তীব্র হয়। ওই পরিস্থিতিতে ইকবাল সোবহানসহ কর্মীদের একটি অংশ পত্রিকার কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেয়। 

প্রতিষ্ঠাতা হামিদুল হক চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ছিল, তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হারিয়েছিলেন। ইকবাল সোবহানের সম্পাদক হওয়ার অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

সেই প্রতিবেদনে তার জবাবও ছিল। মালিকপক্ষ বেতন দেওয়া বন্ধ করায় কর্মীরা পাওনা আদায়ের স্বার্থে পত্রিকা চালু রেখেছিলেন, এটাই ছিল তার ব্যাখ্যা। 

ফলে ঘটনাটিকে কেবল এক ব্যক্তির পত্রিকা দখলের প্রমাণিত অপরাধ বলা যাবে না। কিন্তু মালিকপক্ষকে বাইরে রেখে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অভিযোগ, কর্মীদের পাওনা এবং নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রশ্নগুলোও মুছে দেওয়া যায় না।

আজ ডিবিসির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে অবজারভারের এই ইতিহাস প্রাসঙ্গিক। কিন্তু প্রাসঙ্গিক হওয়া আর প্রমাণ হওয়া এক জিনিস নয়। পুরোনো একটি অভিযোগ নতুন একটি হেফাজতের বৈধতা জোগায় না। 

অতীতের অভিযোগ দিয়ে বর্তমানের পদ্ধতিগত প্রশ্নকে ঢেকে ফেলা যায় না; ইতিহাস এখানে প্রসঙ্গ জোগায়, রায় দেয় না।

সংবাদকক্ষের ভেতরে যখন পুলিশের বুটজুতো

এই লেখাটির আসল উদ্দেশ্য আসলে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় থেকে সাংবাদিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার নজির খতিয়ে দেখা।

সংবাদপত্রের অফিস সংবাদকর্মীর কাছে অনেকটা তীর্থস্থলের মতো। সেখানে প্রতিদিন খবর যাচাই হয়, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা হয়, অজানা মানুষের অভিযোগ প্রকাশের জায়গা পায়। গণতন্ত্রের এই প্রতীকের ভেতরে পুলিশ ঢুকে কাউকে নিয়ে গেলে তার প্রভাব ব্যক্তিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। 

সহকর্মীদের কাজ, সূত্রের নিরাপত্তাবোধ এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপরও তার ছাপ পড়ে। 

যে সূত্র কাল কোনো সাংবাদিককে গোপন তথ্য দিতে চাইত, সে আজ ভাবে, ওই ঘরে পুলিশ ঢোকে। অপরাধের অভিযোগ থাকলে সাংবাদিককে আইন মেনে গ্রেপ্তার করা যাবে। কিন্তু সংবাদকক্ষে প্রবেশ ও সেখান থেকে ধরে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা, কারণ এবং পদ্ধতি স্পষ্ট করার বাড়তি জনস্বার্থও আছে।

সেই উনিশশো বায়ান্ন সাল থেকে

এরও আগে ফিরে যেতে হয় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। যুগান্তরের বিবরণ অনুযায়ী, মুসলিম লীগ সরকার ১২ই ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান অবজারভার নিষিদ্ধ করে এবং পরদিন সম্পাদক আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করে। 

অন্য বিবরণে পত্রিকাটির মালিক হামিদুল হক চৌধুরীর গ্রেপ্তারের কথাও আছে। সরকারের সমালোচনামূলক একটি সম্পাদকীয়কে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সংবাদপত্রটির ওপর এই ব্যবস্থা পাকিস্তান আমলে সংবাদমাধ্যম দমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

তবে বার্তাক্ক্ষ থেকে সাংবাদিককে তুলে নেওয়ার নজির খুঁজতে গিয়ে এখানে একটি সীমা স্পষ্ট রাখা দরকার। আবদুস সালামকে বাসা থেকে, নাকি অবজারভার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাচাই করা বিবরণগুলো তা জানায় না। 

হামিদুল হক চৌধুরীর গ্রেপ্তারের স্থানও এসব সূত্রে স্পষ্ট নয়। ফলে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে অফিস থেকে গ্রেপ্তারের নজির বলা যাচ্ছে না। 

স্বাধীন বাংলাদেশে বার্তাকক্ষ থেকে গ্রেপ্তার

স্বাধীন বাংলাদেশে একটি পুরোনো নজির পাওয়া যায় ১৯৭৪ সালের গণকণ্ঠে। 

১৭ই মার্চ গভীর রাত ও ১৮ মার্চের ভোরের অভিযানের সমকালীন সংবাদ উদ্ধৃত করে প্রকাশিত বিবরণে কার্যালয় থেকে সাতজন কর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানা যায়। 

একই পর্বে সম্পাদক আল মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাড়ি থেকে। দুটো ঘটনাস্থল আলাদা করেই বলা প্রয়োজন। 

আরও স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত ঘটনা ১৯৯৪ সালের। 

৮ই জুন জনকণ্ঠের মতিঝিলের কার্যালয় থেকে উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান ও সহযোগী সম্পাদক বোরহানউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তখন ক্ষমতায় খালেদা জিয়ার সরকার। ফতোয়াসংক্রান্ত একটি লেখা ঘিরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। 

জাতিসংঘের নির্বিচার আটকবিষয়ক কার্যকরী দলের নথিতে তাদের অফিস থেকে গ্রেপ্তারের বিবরণ রয়েছে। 

কার্যকরী দল পরে তাদের আটককে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী ও নির্বিচার বলে অভিমত দেয়। অর্থাৎ ঘটনাটি শুধু সাংবাদিকদের স্মৃতিতে থাকা অভিযোগ নয়, আন্তর্জাতিক নথিতেও মূল্যায়িত।

২০০৭ সালের ৭ই মার্চ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদকে ইস্কাটনের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের বিবরণ অনুযায়ী, যৌথবাহিনী কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে পরে বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ এসেছে। কিন্তু সেসব অভিযোগের বিচার এবং একটি সংবাদপত্রের দপ্তরে বাহিনীর অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ও ধরন, দুটোই জনপর্যালোচনার বিষয়। একটির বিচার হলেই অন্যটির প্রশ্ন মিটে যায় না।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১০ সালের ২রা জুন ভোরে আমার দেশ কার্যালয় থেকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

আগের দিন পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধের সিদ্ধান্ত এসেছিল; প্রকাশকসংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগে মামলার কথা বলা হয়। ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল আবার তাকে একই পত্রিকার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দ্বিতীয় দফায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসংক্রান্ত স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশের পর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ সামনে ছিল। 

একই ব্যক্তিকে একই সংবাদপত্রের অফিস থেকে দুই দফায় গ্রেপ্তারের এই ইতিহাস এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

পুলিশ ও ডিবিসি’র বয়ান যে দুটি ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়

ডিবিসি টিভির প্রকাশিত সংবাদের সাথে অদ্ভুতভাবে ২০১৫ সালের ৬ই জানুয়ারি গভীর রাতে একুশে টেলিভিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি মিলে যায়। 

সেদিন আব্দুস সালামকে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ধরে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। কারওয়ান বাজারের অফিস থেকে গাড়িতে গুলশানের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। চ্যানেলটির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক অখিল পোদ্দারের বর্ণনা অনুযায়ী, ডিবি সদস্যরা গাড়ি আটকে চালককে নামিয়ে দেন এবং সালামকে তার নিজের গাড়িতেই নিয়ে যান। 

পরে পুলিশ জানায়, ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক নারীর করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি অবশ্য অভিযোগের দিক থেকে একেবারেই অন্যরকম। 

আবার ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের দৈনিক সংগ্রামের ঘটনাটি সঙ্গে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে পুলিশের প্রথম বয়ানটি হুবুহু মিলে যায়। 

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর হয়। 

সম্পাদক আবুল আসাদকে পুলিশ প্রথমে হেফাজতে নেয়; পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

পরিস্থিতি থেকে কাউকে সরিয়ে আনা এবং পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই ক্রম বুধবারের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করে। দুই ঘটনার অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট আলাদা, কিন্তু হেফাজতের কারণ কখন এবং কীভাবে বদলায়, সেই প্রশ্নটি চেনা।

সুতরাং গণমাধ্যমের অফিস থেকে সাংবাদিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার ইতিহাস কোনো এক সরকার বা একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রত্যেকের আমলেই সংবাদকক্ষের দরজা পুলিশ বা বাহিনীর জন্য খুলেছে। প্রতিবার সাংবাদিকটির রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে সহজে মেনে নিলে পরের সরকারের জন্য একই পথ খোলা থাকে। যে নজির আজ ‘ওদের’ বিরুদ্ধে তৈরি হয়, কাল সেটি ‘আমাদের’ বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যায়।

৫ই অগাস্টের পর গ্রেপ্তারের হিসাব

৫ই অগাস্টের পর সাংবাদিক গ্রেপ্তারের সংখ্যাও এই আলোচনায় জরুরি। 

নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট গত ১৬ই অক্টোবরের এক কর্মসূচিতে দাবি করেছে, ২০২৪ সালের অগাস্টের পর ৫২ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

এটি সংগঠনটির প্রকাশিত হিসাব। শুধু এই সংখ্যা থেকেই প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য বা প্রত্যেকে সাংবাদিকতার কারণেই গ্রেপ্তার হয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তও আসে না। প্রত্যেকটি মামলার ভিত্তি আলাদা করে পরীক্ষা করতে হবে। সংখ্যা তর্কের শুরু, শেষ নয়।

এই দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝায় সিপিজের গত এপ্রিলের বিবৃতিও। সংগঠনটি ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্তের দীর্ঘ কারাবাস এবং তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির না হওয়ার প্রশ্ন তুলেছে। 

মামলা থাকা আর অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা এক কথা নয়। রাষ্ট্র যখন একজন সাংবাদিককে কারাগারে রাখে, তখন প্রমাণ দেখানোর ভার তার, কারাবাসের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা মানুষের নয়।

ব্যক্তির পরিচয় বদলালেও প্রশ্ন একই

ইকবাল সোবহান চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রভাব, তার নেতৃত্বের সমালোচনা কিংবা অবজারভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুরোনো অভিযোগ, কোনোটিই আড়াল করার দরকার নেই। একই সঙ্গে তাকে দুপুরে কেন নেওয়া হলো, রাজীব ঘোষকে কেন নেওয়া হলো, রাতে সিদ্ধান্তহীনতার কথা কেন বলা হলো এবং শেষ পর্যন্ত পুরোনো হত্যা মামলার সঙ্গে কীভাবে যোগ স্থাপন করা হলো, তার সুস্পষ্ট উত্তর চাইতে হবে। 

প্রথমটি সমালোচনা, দ্বিতীয়টি জবাবদিহি। দুটোকে একসঙ্গে রাখতে পারাই পরিণত সাংবাদিকতার লক্ষণ।

সংবাদমাধ্যমের ভেতরের ক্ষমতার লড়াই মেটানোর উপায় হয়ে উঠতে পারে না পুলিশের হেফাজত। 

সংবাদকর্মীদের অভিযোগ থাকলেও তার নিষ্পত্তি হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। আর একটি সংবাদমাধ্যমের নিজের কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে সংবাদ করার প্রথম দায়, যা জানে তা পরিষ্কারভাবে বলা। নিজের ঘরের খবর যে চ্যানেল ঘুরিয়ে বলে, অন্যের ঘরের খবরে সে কোন মুখে স্বচ্ছতা চাইবে?

আজ প্রশ্নের কেন্দ্রে একজন প্রভাবশালী গণমাধ্যম নেতা। কাল একই দরজায় পুলিশ ঢুকতে পারে এমন একজন প্রতিবেদককে নিতে, যার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী আশ্রয় নেই। তখন তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে আজ আমরা কী নজির তৈরি করছি, তার ওপর।

লেখক: সাংবাদিক

(মতামত লেখকের নিজস্ব)