শামসুজ্জামান ডাবলু: চুয়াডাঙ্গায় যৌথ বাহিনীর হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যুকে ঘিরে কী হচ্ছে

যৌথ বাহিনীর অভিযানে হঠাৎ আটক বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু। এরপর হেফাজতে অসুস্থ, হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করলেন চিকিৎসকরা। 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ডাবলু। সোমবার রাতের ঘটনা, পৌর এলাকায় নিজের ওষুধের দোকানে বসেছিলেন তিনি। 

তখন সেখানে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। ডাবলুকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আসে তার মৃত্যুর খবর। 

শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। বিএনপির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “অস্ত্র উদ্ধারের নামে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে। এতে তার মৃত্যু হয়।” 

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ বলেন, “রাত সাড়ে দশটার দিকে শামসুজ্জামানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে আমরা জানতে পারি। সেখানে (হেফাজতে) থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে জীবননগরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১২টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’’

তিনি বলেন, “তার মৃত্যুকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়েছে। আমরা লাশ দেখার অনুমতি পাইনি। পোস্টমর্টেমের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদরে নেওয়া হয়। তারাই রিপোর্ট দেবেন।” 

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসীর বলেন, “নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি থেকে ডাবলুকে আটক করা হয়। আটক ও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দলের নেতা-কর্মীরা গভীর রাতেই রাস্তায় নেমে আসেন। হাসপাতালের সামনের সড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেন।” 

“গতকাল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতেই আমাদের সময় চলে গেছে,” বলেন তিনি। 

তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা নিয়ে কিছু বলতে পারেননি পুলিশ কর্মকর্তা জামাল আল নাসীর।  

“সুরতহালে কী লেখা আছে, সেটা রিপোর্ট দেখে আমরা বলতে পারবো। মৌখিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না,” যোগ করেন তিনি। 

দলীয় নেতার মৃত্যুতে দেওয়া বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য অস্ত্র উদ্ধারের নামে ডাবলুকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানোর কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। 

“আমরা মনে করি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা দেশের জন্য শুভ নয়।” 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতিতে ঘটনার বিষয়ে ‘সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ’ চান। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, “মারা যাওয়ার পেছনের কারণ জানতে আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। কেউ দোষী হলে তাকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই।” 

আইএসপিআর-এর বক্তব্য:

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতি দিয়ে বলছে, “গত ১২ই জানুয়ারি আনুমানিক রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।”

“অভিযানকালে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মোঃ শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু (৫০) কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে, আটককৃত ব্যক্তির প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল উক্ত ফার্মেসিতে তল্লাশি করে ০১ টি ৯ মি. মি. পিস্তল, ০১ টি ম্যাগাজিন ও ০৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।”

“অভিযান শেষে আটককৃত ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে, আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

“এই ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে উক্ত ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যদেরকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার এবং সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে,” বিবৃতিতে বলেছে আইএসপিআর। 

তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী ‘যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’ বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।