একটি চাঁদাবাজির মামলার মাধ্যমে যে ঘটনাটির শুরু, সেটি কয়েক দিনের মধ্যেই আর সাধারণ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, তার গ্রেফতার এবং তারপর যেসব তথ্য আসতে শুরু করেছে তাতে আলোচনার কেন্দ্রে এখন দেশের বিচারিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
প্রথমে মনে হচ্ছিল, এটি আর দশটা অপরাধের গল্প। একটি তরুণীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, তাকে গ্রেফতার, পুলিশের প্রেস ব্রিফিং–সবকিছুই পরিচিত ছকে সাজানো। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ছক ভাঙতে শুরু করে। টাকার অঙ্ক বদলাতে থাকে, ঘটনার সময়রেখা প্রশ্নের মুখে পড়ে, আর একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসতে থাকে।
শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সুরভী একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং তার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তবে মামলার এজাহারে সুরভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে অপহরণের আর মুক্তিপণের জন্য ৫ লাখ টাকা দাবির।
এরপর আলোচনায় আসে আরেকটি বিষয়। সুরভীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মামলার বাদী নাঈমুর রহমান দুর্জয় তাকে ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ দিয়েছিলেন এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
সবশেষে বিষয়টি পৌঁছায় মানবাধিকার ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে। দাবি করা হচ্ছে, সুরভীর বয়স মাত্র কয়েকদিন আগে ১৭ পূর্ণ হয়েছে। আইনতঃ তিনি এখনও শিশু। সে অনুযায়ী, এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে তা আর নৈতিক অপরাধ নয়, বরং তা ফৌজদারী অপরাধ। তবে এই বিষয়ে কোন তদন্ত শুরু হওয়ার তথ্য জানা যায়নি।
এর মধ্যেই আসে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ। সুরভীর দাবি, কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই ওমর ফারুক তার কাছে টাকা দাবি করেন। তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্রেফতার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণে সুরভী নিজেই এই অভিযোগ জানান। একই সঙ্গে দাবি করেন, মামলার নথিতে পুলিশ তার বয়স চার বছর বাড়িয়ে দিয়েছে।
যেভাবে ঘটনার শুরু
ঘটনার শুরু গত ২৪ ডিসেম্বর। সেদিন গাজীপুরের টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ সুরভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তার দায়ের করা এজাহারে সুরভীর বিরুদ্ধে অপহরণ, প্রতারণা ও মারধরের অভিযোগ করেন দুর্জয়।
সুরভীর আইনজীবী ও গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, একই থানায় দুর্জয়ের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছিলেন সুরভীর মা। তবে পুলিশ সেই মামলায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে আলাপ-কে জানান তিনি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুকের নম্বর দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন । তবে সেই নাম্বারে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। “মামলাটি এখনো তদন্তাধীন আছে। এই বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
সোমবার গাজীপুরের একটি আদালত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এরপর সুরভীকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের দাবি উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আদালত প্রাঙ্গনে ‘অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’ ব্যানারে জড়ো হয় অনেকে। তাদের সাথে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির একাংশের নেতাকর্মীরাও।
অবিলম্বে তাকে মুক্তি না দেয়া হলে সারা দেশে ব্লকেড কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ সময় আদালত পাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফেইসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ১৭ বছর বয়সী শিশু সুরভীকে ২১ বছর দেখিয়ে ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এহেন বেআইনী কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।”
স্ট্যাটাসে আরও বলা হয়, “আদালতেও যদি কানাকে হাইকোর্ট দেখানোর মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে থাকে, তাহলে রাজপথ থেকে মোকাবিলা করা ব্যতীত আর কোনো অপশন ইউনুসের ইন্টিরিম আমাদের সামনে রাখছে না।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন দাবি ওঠার পর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার দেওয়া ফেসবুক পোস্টে বলেন, “সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সে দ্রুত প্রতিকার পাবে।”
এর কিছুক্ষণ পরই জামিন দেওয় হয় সুরভীকে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে রিমান্ড আদেশ বাতিল করে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
এরপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পেইজে পোস্ট দেওয়া হয়, "আলহামদুলিল্লাহ, তাহরিমা সুরভীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে।"
গাজীপুরের এই ঘটনার একদিন আগেই হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করার পর বিক্ষোভের মুখে জামিন দেয় স্থানীয় আদালত।
সংগঠনটির শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে পুলিশের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারের ১৪ ঘণ্টার মাথায় জামিন দেওয়া হয়।
শনিবার সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় করা মামলায় যখন মাহদীকে আদালতে নেয়া হয় সেসময়ও আদালত প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়।
আগের দিন মাহদীকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ হয়। রাতেই আদালত বসিয়ে মাহদীর জামিন শুনানির দাবিও আসে সেখান থেকে।
তার মুক্তির দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তিন দফা ঘোষণা করে। তাদের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বলা হয়:
১. শুধুমাত্র জামিন নয়, মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সকল কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী সহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে, তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। এবং ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষাণলে পরে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি বঞ্ছিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলিতে পদায়ন করতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে গ্রেফতারের ১৪ ঘণ্টা পর আদালত জামিন দেয় মাহদীকে আর সুরভীর বেলায় তা হয় পাঁচ ঘন্টা পর।
জুলাই যোদ্ধারা লক্ষ্যবস্তু?
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলছে জুলাই যোদ্ধারা ‘টার্গেটেড’ হচ্ছে। তাদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মুখগুলো 'প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের' মধ্যে পড়ছে।
সুরভীর জামিন পাওয়ার পর তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন এনসিপি’র শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম।
সেসময় সুরভী দাবি করেন, তিনি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। “আমাকে হয় সুস্থ অবস্থায় বের করতেন, না হলে লাশ হিসেবে। আধমরা বের করার দরকার ছিল না,” বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম তখন গণমাধ্যমকে বলেন, জুলাই যোদ্ধা সুরভীর সাথে ন্যায়বিচার হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো “সম্পূর্ণ বানোয়াট”।
“তাকে মিথ্যা মামলায় জেলে দেওয়া হয়েছিল। আপনারা জানেন, তার বয়স লুকিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও আমাদের জুলাইয়ের জনতা এ বিষয়ে সরব প্রতিবাদ করে। পাশাপাশি গাজীপুরের নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীদের প্রচেষ্টায় তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন হয়।
“আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, সুরভী যদি অন্যায় করেও থাকেন তাহলে দেশের নাগরিক হিসেবে সুবিচার পাওয়ার কথা ছিল তার, তিনি তা পাননি। আমরা পরবর্তীতে জানতে পেরেছি পুরো ঘটনাটি ছিল বানোয়াট,” বলেন নাহিদ।
এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ সেসময় কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “টার্গেট করা হচ্ছে যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল তাদের। তাহরিমা জান্নাতের ঘটনা, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা তারই ধারাবাহিক একটি প্রচেষ্টা।”
অনেকটা একইরকম কথা বলেছেন এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন।
জুলাই যোদ্ধাদের অনেকের প্রতি 'প্রশাসনিক আক্রোশ' আছে বলে তার দাবি।
“বাংলাদেশের প্রশাসন রাজনীতির বাইরে কিছু না, রাজনৈতিক দলেরও বাইরে কিছু না। সেই জায়গা থেকে এটা পরিকল্পিত প্রণয়ন কি না সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
সুরভীর বয়স ১৭ হলেও তাকে ২১ বছর দেখিয়ে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে, দাবি করে সামান্তা বলেন, “একইসঙ্গে কোনো ধরনের তদন্ত রিপোর্ট না দেখে তাকে রিমান্ড দেওয়া হয়, যা একেবারে আইনবহির্ভূত।”
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
সুরভীর ঘটনার সর্বশেষ ধাপে এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং সংস্কার প্রক্রিয়া নিজেই।
গ্রেফতার, রিমান্ড, বয়স নির্ধারণ, দ্রুত জামিন সব মিলিয়ে পুরো ঘটনাপ্রবাহ আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচিত ঘটনাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গভীর সংকটকে উন্মোচন করছে।
এই ঘটনা সংস্কারের দাবির ‘বাস্তব চিত্র’ সামনে এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষক ড. মোবাশ্বার হাসান। “সংস্কারের ‘স’-ও তো দেখতে পাচ্ছি না। একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক একটা মেয়েকে কীভাবে রিমান্ড দেয়?,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
সুরভী জুলাই আন্দোলনের 'অনুপ্রেরণামূলক চরিত্র' মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা এখনও নিপীড়নের কথা শুনতে পাই। (পুলিশি) হেফাজতে মারধরের কথা শুনতে পাই। সংস্কার তো হয়নি।”
তার মতে এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সক্রিয়তা এসেছে মূলত সমালোচনার চাপ থেকে। “সুরভী বলেই হয়তো মুক্তি পেয়েছে। আইন উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সবাই কথা বলছে আর তার জামিন হয়েছে।”
গ্রেফতার ও মামলার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে, বাকি সব কিছুই বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়ে বলে মত ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়ার।
“আইন তো আইনের মতো করেই চলবে। যদি গ্রেফতার এবং মামলায় জড়িত করার প্রক্রিয়াটা শুরু থেকে সঠিক না থাকে তবে বাকি সমস্ত আলোচনা ভুল পথে পরিচালিত হয়,” আলাপ-কে বলেন তিনি।
পুলিশের ভূমিকা গ্রেফতার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, “এরপর প্রয়োজন হলে রিমান্ড চাইতে পারে। জামিন দেবে কি না সেটা আদালতের কাজ। কিন্তু মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষ থেকে বলে দেওয়া (এই ব্যাপারটা) আগের রেজিমেও ছিল, এখনও আছে।”
তার মতে এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। “আদালতের ওপর যে প্রভাব বিস্তার হচ্ছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছে কি না তা তাদের নজরে থাকে না। আইন উপদেষ্টা নিজে আইনের শিক্ষক হয়েও অন্যরকম মন্তব্য করে ফেলেন।”
আইনের চোখে সুরভী ও মাহদী দুজনই শিশু তাই তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আইনসঙ্গত নয় বলে মনে করেন ব্যারিস্টার বড়ুয়া। “তাদের রিমান্ড তো দূরের কথা, জেলেই নেওয়ার কথা না। শিশু আইন অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগই থাকুক না কেন, জেলে নেওয়া যাবে না; সংশোধন সেন্টারে যাবে। নানান আইনি বাধ্যবাধকতা আছে।”
রিমান্ডের আদেশ আর তার মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পর জামিন–এই পুরো ঘটনাকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। বাহিনী ঠিকমতো কাজ করছে না। এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্যই আন্দোলন। এত মানুষ প্রাণ দিল। কিন্তু বেসিক কোনো পরিবর্তন আসছে না।”
“আইন ও বিচারে অবজেক্টিভি রক্ষা করা জরুরি। যেই আসুক সামনে, তার সঙ্গে আচরণ হবে আইন অনুযায়ী।”
কিন্তু বাস্তবে সেই নিরপেক্ষতা দেখা যাচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই আইনজীবী।
তিনি বলেন, “এই অবজেক্টিভি আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও দেখছি না, আবার বিচার বিভাগের পক্ষ থেকেও দেখছি না। মব হলেই যদি ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তো গ্রেফতারের পর দু-চার-পাচশ লোক হাজির হলেই তো ছাড়িয়ে নেওয়া হবে।”
‘জুলাই যোদ্ধারা প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু’ এমন দাবির সাথে একমত নন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
“উল্টো তারা এতদিন সুবিধা পেয়ে আসছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে যা দৃষ্টিকটূ ছিল, অন্যায্য ও অপ্রয়োজনীয় ছিল। এই সুবিধা দেওয়াটাই উচিত হয়নি।
“রাষ্ট্রীয় সুবিধা ব্যবহার করে দল তৈরি করার অভিযোগ পুরোনো এবং পরবর্তীতে আমরা সেই আলামতও দেখেছি। অসুবিধা হওয়ার চাইতে তারা সুবিধাই বেশি পেয়েছে,” আলাপ-কে বলেন তিনি।