ঢাকার মিরপুরের কাফরুলে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে সোমবার সকাল ৯টার পর পোশাকশ্রমিকরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়।
দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পোশাকশ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ওই এলাকায় অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান আলাপ-কে বলেন, “শ্রমিকরা কাফরুল অংশে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করতে এসেছিল। আমরা তাদের সেখান সরিয়ে দিয়েছি।”
মিরপুর-২ নাম্বারেও পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ছুঁড়েছে পুলিশ।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার আলাপ-কে জানান, মিরপুর-১০এ কোন সমস্যা নেই। তবে রূপনগর এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অনেকে জড়ো হয়ে ঝামেলা করার চেষ্টা করেছে। আমরা কাজ করছি।”
মিরপুরে আন্দোলন ও সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাঁচটি মামলাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিববার পুলিশের সংঘর্ষের সময় একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় রাজিব চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তিকেও ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শ্রমিকদের কালো তালিকা এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করার দাবিতে গাজীপুর টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। সোমবার সকাল সাতটা থেকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
এতে রাস্তার দুই পাশেই কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুরো জেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
রবিবার সকালেও থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর বাজার, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। দুপুর ১২টার পর পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গুদাম ও পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।
দিনভর বিক্ষোভ, অবরোধ ও সহিংসতার কারণে অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।