সশস্ত্র বডিগার্ড, নিরাপত্তার জিডি: কোনো কিছুতেই প্রাণ বাঁচছে না খুলনায়

রবিবারের সকালটা ভালোভাবেই শুরু হয়েছিলো খুলনার ‘বিগ শট’ হিসাবে পরিচিত চরমপন্থি নেতা নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিমের। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়েন তার মেয়ে। মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। ছোটোখাটো আবদার মিটিয়েছেন ৭ বছর বয়সি ছেলে মাহিনের। 

তখন কে জানতো, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু হয়ে যাবে ওলটপালট। 

সকাল ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা এলাকায় তৈয়বের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন নাসিম। সাড়ে ১১টার দিকে ভ্যানে করে সেখানে যান দুই যুবক। দোকানের ভেতর প্রবেশ করেন তারা।

কাউকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তারা নাসিমুল গণি করিমের মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায়। এরপর নির্বিঘ্নে চলেও যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাসিমুল করিম ওরফে নাসিম।

চারটি হত্যাসহ আটটি মামলার আসামি, নাসিম ছিলেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা। 

ঘটনার সময় নাসিমের সাথে ছিলেন ব্যক্তিগত ‘বডিগার্ড’। তাদের কাছেও ছিলো অস্ত্র। তবে তাতেও রক্ষা হয়নি। প্রকাশ্যেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যান ঘাতকরা। 

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন রূপসার দুর্জনীমহলে চায়ের দোকানে গুলি করে হত্যা করা হয় আক্তার ঢালীকে। অথচ মৃত্যুর মাত্র ১৪ দিন আগে, ২১এ সেপ্টেম্বর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তিনি।

নিরাপত্তা চেয়েছিলেন পুলিশের কাছে। কিন্তু সেই আবেদনও তাকে বাঁচাতে পারেনি। বরং জিডির পর হুমকি আরো বেড়েছিল বলে স্বজনদের অভিযোগ। 

আরও ভয়ংকর তথ্য হলো আক্তার ঢালীর মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস আগে খুন করা হয় তার ছেলে জয় ঢালীকে। ১৫ই অগাস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জয় ছিলেন স্থানীয় বিএনপির কর্মী। 

তাহলে খুলনায় অপরাধীরা কি এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, পুলিশও সেখানে অসহায় হয়ে পড়েছে? থানায় জিডি করেও যদি বাবা-ছেলের নিরাপত্তা না মেলে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

প্রশ্ন হলো, তাহলে খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আসলে কোথায় ভাঙন? ত্রুটিটা আসলে কোথায়- নিরাপত্তা ব্যবস্থায়, গোয়েন্দা নজরদারিতে, নাকি অপরাধীদের দুঃসাহসে?

জিডিতে যা লিখেছিলেন আক্তার ঢালী

ছেলে জয় ঢালীকে খুন করার পর ওই ঘটনায় বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছিলেন মা নাসিমা বেগম। এরপর থেকেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুনজিল শেখ, মুরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি রূপসা পুলিশের সহযোগিতাও চেয়েছিলেন আক্তার ঢালী ও নাসিমা বেগম। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি তারা। এরপর জিডি করা হয়।

জিডিতে আক্তার ঢালী লিখেছেন, “এর আগে একই আসামিরা আমার ছেলে জয় ঢালীকে দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। ওই মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে এলাকায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমিসহ আমার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জানমালের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিতাছে। আসামিদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমি ও আমার পরিবারবর্গ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি বিধায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য জিডি করছি।” 

খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ৫০ দিন পর তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ নিহত আক্তার ঢালীর জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তার নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান। 

তিনি বলেন, “কী কারণে, কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

চরমপন্থি নেতা নাসিম ও আক্তার ঢালীর হত্যাকাণ্ড পৃথক দুটি ঘটনা, কারণও ভিন্ন। তবে দু’জনেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। নাসিম ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘বডিগার্ড’ রেখেছিলেন। যদিও ওই ‘বডিগার্ড’ ছিলেন অবৈধ অস্ত্রধারী।

অপরদিকে, আক্তার ঢালী পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ তার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।

নিহত আক্তার জিডি করারও পর কেন নিরাপত্তা পাননি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রূপসা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হাসান মল্লিক। 

তিনি বলেন, “আক্তারের ছেলে জয় ঢালী আইচগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলো সে। প্রায় দেড় মাস আগে তাকে হত্যা করা হয়। এবার তার বাবাকেও হত্যা করা হলো। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, “কী কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন আক্তার তা তদন্ত করা হচ্ছে।”

অপরাধের স্বর্গরাজ্য খুলনা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলায় অন্তত ৬০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগই হয়েছে প্রকাশ্যে, গুলি ও কুপিয়ে সংঘটিত হয়েছে। এর কোনোটিরই বিচার হয়নি।

পুলিশের দাবি, ২৫টির রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। 

খুলনার আলোচিত প্রায় সব হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যেই সংঘটিত হয়। এরকমই এক ঘটনা আব্দুর রাশেদ ওরফে বিকুল হত্যাকাণ্ড। 

গত ১০ই জানুয়ারি, দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কদমতলা বালুর মাঠে ৩০ বছর বয়সি বিকুলকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায় একদল অস্ত্রধারী। এর মধ্যে দুইটি গুলি বুকে ও একটি গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়।

পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন রূপসা থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাইমুন।

বিকুল হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও কেউই সাক্ষ্য দিতে রাজি হননি।

তেইশ বছর বয়সি রাকিব হোসেন হত্যাকাণ্ডের চিত্র আরো ভয়াবহ। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগরের পশ্চিম টুটপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় রাকিবকে। ঘটনার রাতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি সেলুনে অবস্থান করছিলেন তিনি। ঘটনার কিছু সময় আগে দুই যুবক সেলুন থেকে তাকে জোর করে টেনে বের করে এবং মাথায় দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। 

পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনারও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তবে মামলা তদন্তে কারো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয় ৪ঠা মার্চ। সেদিন রাত ৯টার দিকে খুলনা মহানগরের ডাকবাংলার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় ডাকবাংলা মোড়ে অবস্থান করছিলেন ৫৫ বছর বয়সী মাসুম বিল্লাহ। এই সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। 

স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সে সময় খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “সন্ত্রাসীরা মাসুমকে কন্ট্রাক্ট কিলিং করতে আসে। সাত জন মিলে মাসুমকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিকের একজন ইন্সপেক্টর অশোক ঘোষ নামে একজনকে কোমরে পিস্তল রাখতে দেখে জনগণের সহযোগিতায় আটক করেন।”

প্রতিপক্ষের হামলায় ৭২ বছর বয়সী বাবুল মোল্লা নিহত হন ৬ই ফেব্রুয়ারি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নিক্সন মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাব্বির, গামা, কুদ্দুস, রেখা, কালা, নাসু, নিলা ও রমজানসহ কয়েকজন বাবুল মোল্লার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে বেধড়ক কিল-ঘুসির পাশাপাশি ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। 

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুল মোল্লাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবুল মোল্লার সঙ্গে একই এলাকার গামা পরিবারের বিরোধ চলছিলো। পানি ছিটানোর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে নিহত হন বাবুল।  

যেসব আলোচিত ঘটনার সুরাহা হয়নি এখনো

২৪এ মে লবনচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকা সংলগ্ন রূপসা নদী থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার হয়।

৫ই জুলাই রূপসা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ বটিয়াঘাটা থানার জলমা ইউনিয়নের কচুবুনিয়া গ্রামের রিয়া হ্যাচারির উত্তর পাশে রূপসা নদীর পশ্চিমপাড়ের তেতুলতলা এলাকা থেকে এক মধ্যবয়সি পুরুষের লাশ উদ্ধার করে।

২০এ জুলাই লবণচরা দশ গেট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন পল্লীর পাশে রূপসা নদীতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রাসেল হাওলাদার নামে এক তরুণের মরদেহ। ১৭ই জুলাই থেকে থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

১১ই অগাস্ট রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামে ইটভাটার মধ্যে ফখরুল শেখ নামের এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

১৮ই অগাস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নৈহাটীর 'আলো ফুটবে' প্রতিবন্ধী স্কুলের কাছে মামুন মীর নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী মামুন সংকটজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

একই রাতে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় শিশু অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে রাজু নামের ২৬ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন।

১৯এ আগস্ট লবণচরায় জোড়া খুন হয়। আশিবিঘা এলাকায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত হন। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নামের এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকায় নাজমুল (১৮) নামের আরেক তরুণের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

২০এ অগাস্ট বটিয়াঘাটা থানার জলমা পুরাতন পাড়া সাকিনস্থ সমির রায়ের বাড়ির দক্ষিণ পূর্ব কোনে কাজিবাছা নদীর পশ্চিম পাড় হতে রূপসা নৌপুলিশ ফাঁড়ি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।  

২৬এ অগাস্ট বটিয়াঘাটার গোপালখালী কাজিবাছা নদীর প্রিমিয়ার মিলস সংলগ্ন এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়। গলিত মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত হয়নি এখনো।  

একই দিন দৌলতপুর থানার কার্তিককুল এলাকায় নাসিরের মাছের ঘের থেকে হাত-পা বাঁধা ও পেট কাটা অবস্থায় মনিরুল ইসলাম রনি নামে আরেক যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর তিনদিন আগে থেকে নিখোঁজ ছিলেন রনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খুলনার প্রায় প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আছে আধিপত্য বিস্তার, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক কোন্দল ও ‘কনট্রাক্ট’ কিলিংয়ের ঘটনা। 

খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড শুধু অপরাধের পরিসংখ্যান বাড়াচ্ছে না, প্রশ্ন তুলছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও।

কেউ ব্যক্তিগত বডিগার্ড রেখেও রক্ষা পাচ্ছেন না, কেউ থানায় জিডি করেও নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। 

প্রকাশ্যে হত্যার পরও ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এবং সাক্ষীদের নীরবতা তৈরি করছে আরও বড় উদ্বেগ। 

আধিপত্য, রাজনৈতিক কোন্দল, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা কনট্রাক্ট কিলিং; কারণ যাই হোক না কেন, পুলিশের নিরাপত্তা চাওয়ার পরও যদি খুন হতে হয়, তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্ব আসলে কার?