কুমিল্লার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা জানালো পুলিশ

আইফোন ছিনতাই করতেই কুমিল্লার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে পিটিয়ে হত্যা করে তারই বয়সে বড় বন্ধুরা বলে দাবি করেছে পুলিশ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানান।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। তার বাবা একেএম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী এবং মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ই সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে মূল অভিযুক্ত তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের এক নির্জন জঙ্গলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতীমকে স্বাচ্ছন্দ্যেই তুহিনের সাথে হেঁটে যেতে দেখা যায়।

বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ওই নির্জন বনে তুহিন অপ্রতীমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অপ্রতীম এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

এক পর্যায়ে তুহিন ও তার সহযোগী কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে অপ্রতীম মারা গেলে আইফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজ ও গ্রেপ্তার

অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা থানায় জিডি করে। পরে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে।

ফুটেজে তুহিনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের আগেই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। টানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এবং জানায়, আইফোন ছিনতাইয়ের জন্যই সে এই পরিকল্পনা করেছিলো।

তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সিয়াম নামে আরও একজনকে পুলিশ আটক করেছে।

তবে ‘আনাস’ নামে একজনকে আটকের যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছিলো তা নাকচ করেছেন পুলিশ সুপার।

আইফোন উদ্ধার

পুলিশ জানিয়েছে, আইফোনটি উদ্ধারে পুলিশকে প্রথমে তিনবার ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল তুহিন।

পরে তার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তোশকের নিচ থেকে সেই আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, "তদন্ত শেষে খুব দ্রুতই আদালতে এই মামলার চার্জশিট বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং রামিসা হত্যা মামলার মতো এই মামলাটিরও যেন দ্রুত রায় হয়, আমরা আদালতের কাছে সেই আবেদন রাখবো।"

অসম বয়সী বন্ধুত্ব

ঘটনার পেছনের সামাজিক দিক তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, "এটি ছিলো একটি অসম বন্ধুত্ব। নিহত অপ্রতীম সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হলেও আসামিরা কেউ তার সহপাঠী ছিলো না। তারা সবাই বয়সে তার চেয়ে সিনিয়র ছিল। তারা একসাথে টিকটক করতো।"

অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, "আমাদের সন্তানরা কার সাথে মিশছে, সহপাঠীর সাথে নাকি বয়সে বড় কোনো খারাপ সঙ্গীর সাথে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অল্পবয়সী শিশুদের হাতে দামি ফোন বা ডিভাইস তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। বাবা-মায়েরা একটু সতর্ক হলে এমন নৃশংস ঘটনা এড়ানো সম্ভব।"

এই ঘটনায় সদর দক্ষিণ থানায় নিহত অপ্রতীমের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা মামলা নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।