দুই বছর কক্সবাজারে কী করছিলেন নিউজিল্যান্ডের এই পরিবার

নিজ হাতে বানানো বিশেষ ‘হাউসবোটে’ কেটেছে টানা দুই বছর। বঙ্গোপসাগরের নীল জলে ভেসে বেড়ানোর অ্যাডভেঞ্চার থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এডওয়ার্ড। সাথে ছিলেন স্ত্রী আর দুই সন্তান।

চার সদস্যের পরিবারের রোমাঞ্চকর জীবন শেষ পর্যন্ত রূপ নিলো ট্র্যাজেডিতে। নিজের বানানো হাউসবোট ‘আইল্যান্ড গার্ল’ মাঝসমুদ্রে তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে উল্টে গেলে প্রাণ যায় কিশোর সন্তানের।

অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন এডওয়ার্ড, তার স্ত্রী ও কন্যাসন্তান। গত মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে সোনাদিয়া দ্বীপে যাচ্ছিলেন তিনি।

সমুদ্রের মাঝপথে পৌঁছাতেই হঠাৎ তীব্র ঢেউয়ের ধাক্কায় উল্টে যায় তাদের বহনকারী নৌকাটি। এতে মুহূর্তে চারজনই সমুদ্রে ছিটকে পড়েন।

স্থানীয় জেলেরা নৌকা নিয়ে এগিয়ে এসে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয় আলবার্ট নামে কিশোর।

টানা ৩২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান শেষে সমুদ্র থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দুর্ঘটনার পর ওই বিদেশি পরিবারের ছকভাঙা ও রহস্যময় জীবনযাপন সামনে এলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র কৌতুহল সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, ৭৪ বছর বয়সী অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় জন এডওয়ার্ড স্থানীয় শ্রমিকদের সহায়তায় দুটি নৌকা জোড়া লাগিয়ে তৈরি করেছিলেন বিশেষ হাউসবোট, যার নাম দিয়েছিলেন ‘আইল্যান্ড গার্ল’।

কক্সবাজারে-বিদেশি-পরিবারের-৪-সদস্য-নিয়ে-নৌকাডুবি-2.jpg

গত দুই বছর ধরে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটির কাছাকাছি সেই নোঙর করা হাউসবোটেই কাটছিলো তাদের নিত্যদিন।

বেঁচে থাকা বা ঘুরে বেড়ানোর সব আয়োজন ছিলো এই বোটটিকে ঘিরেই। কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য ও স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় এতদিন তাদের অবস্থান প্রশাসনকে ভাবনায় ফেলেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, “নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবার ও নিউজিল্যান্ড দূতাবাসের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বাংলাদেশে সম্পন্ন হবে নাকি নিজ দেশ নিউজিল্যান্ডে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে পরিবারের মতামত থেকে।”

অন্যদিকে পুরো বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার। তিনি বলেন, “আমরা দুর্ঘটনাকবলিত চারজনের মধ্যে দুজনের পাসপোর্ট উদ্ধার করতে পেরেছি। তারা ঠিক কবে এবং কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তার সঠিক তথ্য বের করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড কনস্যুলেটের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।”

পরিবারটির বাংলাদেশে আসা ও দীর্ঘ দুই বছর হাউসবোটে জীবনযাপন এবং তাদের ভ্রমণ নথির বৈধতাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।