সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করাকে ‘বিপজ্জনক’ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অধিকার রক্ষা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার।
১৮ই অগাস্ট সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তিন সাংবাদিক—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের নতুন একটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে তারা শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক প্রশ্ন করেন। এর সূত্র ধরেই শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পরে বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযান চালানো হয়।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, “শুধু একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার কারণে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা ভয়াবহ এবং গভীরভাবে উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, “সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট বা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু সেগুলোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।”
“সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। একইসঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই তিন সাংবাদিককে মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে,” বিবৃতিতে বলেন কুনাল মজুমদার।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং চ্যানেলটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে চলতি বছরের মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পৃথক একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম কর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় ওই মামলা করা হয়েছিল। ২৭এ জুলাই শেখ হাসিনাসহ আরও ৩৯ জনের সঙ্গে তাদের নামও ওই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আটক রাখা হয়েছে। সাংবাদিকতার কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিজে।
বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় সিপিজের ই-মেইলে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সিপিজে।