পাকিস্তানের তেহরিক-ই তালেবানের নেটওয়ার্কে বাংলাদেশিরা

করাচি বিমানবন্দরে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গ্রেপ্তার হয়ে যান নরসিংদীর শেখ আজিজুল হাক্কানি।  তারিখটা ছিলো ২০২৪ সালের ১লা ডিসেম্বর।

উগ্রপন্থি সংগঠন তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ২০ মাস রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে আটক থাকার পর, এই বছরের ২রা আগস্ট পাকিস্তানি পুলিশ তাকে ফেরত পাঠিয়ে তুলে দেয় ঢাকা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে।

উগ্রপন্থি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো হলেও, সরাসরি পাকিস্তান থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনা এই প্রথম।

করাচি থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা নামার পর নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হাক্কানিকে নেওয়া হয় প্রথমে বিমানবন্দর থানায়। এরপর টাস্ক ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে তিন দিন ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। বৃহস্পতিবার (৬ই অগাস্ট) আদালতের নির্দেশে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাক্কানির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এখন যাচাই-বাছাই চলছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ আলাপ-কে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করার পর হাক্কানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সৌদি আরব থেকে শুরু: যেভাবে টিটিপি’র পথে   

তদন্তের সাথে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে থাকতেই সামাজিক মাধ্যমে উগ্রপন্থি সংগঠনের প্রচারণা টানতে শুরু করেছিলো হাক্কানিকে। তবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার পর তা পায় নতুন মাত্রা। অনলাইন কন্টেন্ট দেখতে দেখতে ঝুঁকে পড়েন টিটিপি’র দিকে, পরে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পরিণত হন সাধারণ সমর্থক থেকে সক্রিয় কর্মীতে।

হাক্কানির এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা নাসের নামের এক আফগান নাগরিকের।  সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত হওয়া টিটিপি’র বাংলাদেশ শাখার প্রধান সংগঠক আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দারও প্রভাব ফেলেন হাক্কানির উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ায় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

দুই বছর পর, ২০২২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেন হাক্কানি। তবে অনলাইনে নাসের ও ইমরান হায়দারের নেটওয়ার্কের সাথে যোগযোগ অব্যাহত রাখেন তিনি। এমনকি বাংলাদেশে নাসেরের অনুসারী তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন। আর এই নেটওয়ার্কের উদ্যোগেই পাকিস্তানের পথে পা বাড়ান হাক্কানি।

ইমরান হায়দারের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পুরনো। ঢাকার সাভার থানায় টিটিপি সংক্রান্ত একটি মামলার আসামি তিনি। ফেইসবুকে নিজেকে ‘অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তাদের ভাষায়, “যতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি পাকিস্তানে আছেন।”

‘জিহাদের’ স্বপ্নে পেশাওয়ারের পথে  

আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি, ঐতিহাসিকে খাইবার পাসের পূর্বে অবস্থিত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ পৃথিবীর অন্যতম সংঘাতপূর্ণ এলাকা। এই প্রদেশের রাজধানী পেশাওয়ার ছিলো হাক্কানির গন্তব্য। ২০২৫ সালে এই এলাকাতেই প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন পেশাওয়ারের জামিয়া হাক্কানিয়া মাদ্রাসায় তালেবান নেতাদের সাথে বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল হাক্কানির; উদ্দেশ্য প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘জিহাদে’ যাওয়া। কিন্তু সব ভেস্তে যায় করাচিতেই।

ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান আলাপ-কে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১লা ডিসেম্বর করাচি বিমানবন্দরে নামার পরপরই গ্রেপ্তার হয় হাক্কানি। 

দেশে ফেরার পর তিন দিনের রিমান্ডে ঢাকার সিটিটিসি কার্যালয়ে হাক্কানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন টাস্ক ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের সদস্যরা। সিটিটিসি’র এক কর্মকর্তা আলাপ-কে জানিয়েছেন, হাক্কানির দেওয়া তথ্য তারা যাচাই-বাছাই করছেন।

শেখ আজিজুল হাক্কানি 

তবে গ্রেপ্তারের প্রায় ২০ মাস পর কেন তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হলো সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি কোন আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাই। তারা জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ সময়ে হাক্কানিকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে টিটিপি নিয়ে।

পাকিস্তানের তদন্তকারীরা হাক্কানির মোবাইল ফোন ও সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টের ফরেনসিক পরীক্ষা করে টিটিপি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকার আলামত পেয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

দুবাইয়ের কথা বলে যারা পাড়ি জমিয়েছিলেন আফগান সীমান্তে

হাক্কানির আগেও একই পথে হেঁটেছেন আরও কিছু বাংলাদেশি তরুণ। তাদের গন্তব্য শুরুতে ছিলো দুবাই, কিন্তু শেষ হয়েছে পাক-আফগান সীমান্তে সংঘাতে প্রাণ হারিয়ে।

মাদারীপুরের ফয়সাল হোসেন ও গোপালগঞ্জের রতন ঢালী পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন দুবাই যাওয়ার কথা বলে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অবৈধভাবে ভারত হয়ে যান আফগানিস্তানে, এরপর সেখান থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কারাক জেলা।  গত বছরের ২৬এ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানের মারা যান এই দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ ১৭ জন টিটিপি সদস্য।

পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান আবদুল আউয়ালের সন্তান ফয়সাল পড়াশোনা করেছিলেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত।  দেশে থাকতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ওয়াজ মাহফিলে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে তসবি, জায়নামাজ, আতর ও টুপি বিক্রি করতেন। পাশাপাশি কাজ করতেন ঢাকার খিলগাঁওয়ের একটি মেডিকেল সেন্টারে।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার হরিশচর গ্রামের অটোরিকশাচালক আনোয়ার ঢালীর চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন রতন। যেই মেডিকেল সেন্টারে ফয়সাল কাজ করতেন,সেখানে রতনও কাজ করতেন। কর্মসূত্রেই গড়ে উঠেছিল ফয়সালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। পরিবারের সাথে রতনের শেষ যোগাযোগ হয় ২০২৪ সালের ১০ই এপ্রিল; জানিয়েছিলেন ভারতে আছেন শিগগিরই যাবেন দুবাই।

সিটিটিসি’র তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৭এ মার্চ বেনাপোল দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে ফয়সাল ও রতন। সেখান থেকে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তান। দেশে থাকতেই দু’জনে টিটিপি’র সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

মারা যাওয়ার দুই মাস আগে থেকেই অবশ্য তাদের খোঁজ শুরু হয়েছিলো।

ফয়সালের চাচা আবদুল হালিম আলাপ-কে বলেন, “মৃত্যুর প্রায় ১৮ মাস আগে ফয়সাল দুবাই যাওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলো। পরে ফোন করে দুবাই অবস্থান করছে বলেও জানিয়েছিল সে।

“ফয়সাল নিহত হওয়ার  দুই মাস আগে মাদারীপুর জেলা পুলিশের একটি টিম আমাদের বাড়িতে যায়। তারাই জানায় ফয়সাল দুবাই নয় পাকিস্তান গেছে।”

রতনের বাবা আনোয়ার ঢালী জানিয়েছেন,তার ছেলে শেষবার বাড়িতে এসেছিলো দুবাই যাওয়ার কথা বলে, সেসময় জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিলো । রতন মারা যাওয়ার দুই মাস আগে তাদের বাড়িতেও পুলিশ গিয়েছিলো। 

টিটিপি’র হয়ে লড়াইয়ে নিহত আরেক বাংলাদেশি 

গত বছরের ২৭এ এপ্রিল পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাক-আফগান সীমান্তে সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানে মারা যায় টিটিপি’র ৫৪ সদস্য। যাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকার সাভারের অধিবাসী ২৩ বছর বয়সী আহমেদ জোবায়ের যুবরাজ।

সাভার কলেজের ইসলামিক স্টাডিজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র যুবরাজ ২০২৪ সালের ১৮ই অক্টোবর দেশ ছাড়েন। এগারো দিন পর সৌদি আরব হয়ে ২৯এ অক্টোবর পাকিস্তানে পৌঁছান। এরপর ৬ই নভেম্বর তুরখাম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন আফগানিস্তানে; চারদিন পর ১০ই নভেম্বর ফেরেন পাকিস্তানে। সেখান থেকে আর ফিরেননি।

যুবরাজ মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হবার পর, তার মা আলেয়া আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আসা ফোনে তাকে জানানো হয় তার ছেলে ‘জান্নাতের পাখি হয়ে গেছে।’’

ফয়সাল, রতন এবং যুবরাজের সাথে আজিজুল হাক্কানির সম্পর্ক ও যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখছেন এখন তদন্ত কর্মকর্তারা।

একটি মামলা অনেক সূত্র

গত বছরের ২রা জুলাই পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) অভিযানে সাভার থেকে গ্রেপ্তার হয় ৩৩ বছর বয়সী মো. ফয়সাল। তদন্তকারীরা বলছেন, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার অধিবাসী ফয়সাল ছিলেন যুবরাজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

অভিযানের পর এটিইউ’র করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ফয়সাল ছাড়া আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়। যার মধ্যে রয়েছেন আল ইমরান ওরফে ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হায়দার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, টিটিপি’র মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুবরাজের সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৮ই অক্টোবর সৌদি আরব যান ফয়সাল। সেখান থেকে ১১ দিন পর যান পাকিস্তানে। এরপর ৬ই নভেম্বর স্থলসীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তান গিয়ে ১০ই নভেম্বর ফিরে আসেন পাকিস্তানে। দুবাই হয়ে ১৬ই নভেম্বর দেশে ফিরে আসেন ফয়সাল। 

এই মামলার তদন্তের সূত্র ধরে উঠে আসে আরেকটি নাম। গত বছরের ১৪ই জুলাই র‍্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন ৪৮ বছর বয়সী শামিন মাহফুজ। তদন্তকারীরা বলছেন শামিন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার’ প্রতিষ্ঠাতা। সেদিনই তাকে হস্তান্তর করা হয় এটিইউর কাছে, এরপর পাঁচ দিনের রিমান্ডে চলে জিজ্ঞাসাবাদ।

টিটিপি নিয়ে তদন্তে যুক্ত একজন কর্মকর্তা আলাপ-কে জানিয়েছেন, টিটিপি’র সঙ্গে শামিনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তারা পেয়েছেন।

মেধাবী ছাত্র থেকে জঙ্গি নেতা 

রংপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিকে মেধাতালিকায় পঞ্চম এবং উচ্চ মাধ্যমিকে সপ্তম হওয়া শামিন মাহফুজের বাড়ি গাইবান্ধার কলেজ পাড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই জড়িয়ে পড়েন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেমবি) এবং আনসার আল ইসলামের সাথে। এই কারণে একবার বহিষ্কৃতও হন তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক হওয়ার পর, ২০০৩ সালে শিক্ষক হিসাবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন শামিন। শিক্ষকতা চালিয়ে যান ২০১১ সাল পর্যন্ত। সেই বছরেরই ২৭এ মার্চ বান্দরবানের থানচি থানায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার অভিযোগে মামলা হয় শামিনের বিরুদ্ধে।

এজাহারে বলা হয়েছে, তিনি ও তার ম্যানেজার ইসমাঈল মিলে থানচি এলাকার মনাইপাড়া, কমলা বাগান এবং লামা থানার কলাইপাড়ায় খামারের আড়ালে গড়ে তুলছিলেন জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র।

পরে পুলিশ অভিযোগপত্রে জানায়, শামিনের ইজারা নেওয়া পাহাড়ের নিচ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিলো। ওই মামলায় ২০১৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম কারাগারে ছিলেন শামিন, জামিনে মুক্তি পেয়ে চাকরি নেন কক্সবাজারের চকরিয়ার একটি এনজিওতে।

তবে জেলের বাইরে বেশিদিন থাকা হয়নি শামিনের। পরের বছরের ২রা জুলাই তিনটি বোমাসহ তাকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। সেই ঘটনায় ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানায় হওয়া মামলায় শামিন কারাগারে ছিলেন ২০১৭ সালের ১৬ই জুন পর্যন্ত। তবে সে বছরই ২০এ আগস্ট বান্দরবান আদালতে হাজিরা দিতে গেলে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। যদিও হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরের বছরের ২রা জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান শামিন। 

ঢাকার ডেমরা থেকে সিটিটিসি’র অভিযানে ২০২৩ সালের ২৩এ জুন আবারও গ্রেপ্তার হন শামিন। তার স্ত্রী নাজনীন সুলতানা ফাতিমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালে ৫ই অগাস্ট সরকার পতনের পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পান শামিন।

আজিজুল হাক্কানি, ফয়সাল হোসেন, রতন ঢালী, আহমেদ জোবায়ের যুবরাজ এবং শামিন মাহফুজ ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন পথে উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্তও চলছে।