সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজীর আহমেদ জামিন পেয়েছেন- এমন খবর সামনে আসার পর বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, ওই জামিন আটকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা।
রবিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, দুবাইয়ের একটি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে রাজশাহীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
“সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইউএই ত্যাগ করতে পারবেন না—এমন শর্তে সেখানে জামিন পেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত শর্তাবলি জানতে জামিনের সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করা হয়েছে,” সালাহউদ্দিন আহমদ একথা বলেছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
“সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সেখানে একটি অভিজ্ঞ 'ল ফার্ম' (আইনি প্রতিষ্ঠান) নিয়োগ করা হয়েছে। 'ল ফার্মকে উক্ত জামিন বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রবিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
দুবাই পুলিশ গত ১২ই জুন বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে নিশ্চিত করে।
২০২০ সালের ১৫ই এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০এ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন বেনজীর। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই দেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চায় বাংলাদেশ। এরপরই দুবাইকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।