প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রভাবশালী একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ঢাকার চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী।
তার অভিযোগ, এজাহারে ‘প্রভাবশালীদের’ নাম থাকায় শুরুতে মামলা নিতে গড়িমসি করেছিলো পুলিশ, যদিও পরে তা নিয়েছে।
রবিবার রাতে ঢাকার খিলক্ষেত থানায় এই মামলা দায়ের করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। আসামি হিসেবে রয়েছেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্নিগ্ধা চৌধুরী আলাপ-কে বলেছেন, “ন্যায়বিচার কতটুকু পাবো সন্দিহান আমি।” এই অভিনেত্রী জানান, নির্যাতনে অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় অবস্থান করছেন তিনি।
“বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভনে ডেকে নির্যাতন করেছেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ নিয়ে মামলা করায় প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে আছি,” আলাপ-কে বলেছেন এই অভিনেত্রী।
“জানি না কী হয়। প্রভাবশালী নজরুলের নাম দেখে প্রথমে মামলা নিতে চায়নি খিলক্ষেত থানা। পরে অবশ্য উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন পেয়ে মামলা নিয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করছে পুলিশ। “গতরাতে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলা দায়েরের পর কপিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে,” আলাপ-কে বলেছেন ঢাকার খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাব আল হোসেন।
আর অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
মামলায় যেসব অভিযোগ করলেন স্নিগ্ধা চৌধুরী
২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। গত রোজার ঈদে ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার পর জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছেন, ২৪এ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে ইমন নামে এক ব্যক্তি তাকে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব দেন। ১৬ লাখ টাকায় চুক্তির কথা হয়। রাত ৮টার দিকে মাকে সাথে নিয়ে তিনি ৩০০ ফিট এলাকার আশিয়ান মেডিক্যাল কলেজের অফিসে যান।
সেখানেই আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে সাক্ষাৎ হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন স্নিগ্ধা।
সেখানে বলা হয়েছে, স্নিগ্ধার মা সেখান থেকে বাসায় ফিরে গেলে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “তোকে আমি ৬ মাস যাবৎ খুঁজতেছি, তুই আমার টাকায় অন্য ব্যাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাসার পর্দা কিনেছিস।”
এজাহারে স্নিগ্ধা দাবি করেছেন, তিনি নজরুলকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, ভুল ব্যক্তি হিসেবে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ইমন তাকে ইশারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কথা মেনে নিতে বলেন।
মামলায় বলা হয়, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া শটগান বের করে তাকে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। হাত-পা বেঁধে গলা চেপে ধরেছেন। লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছেন। চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে মেঝেতে ফেলে দিয়েছেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, স্নিগ্ধাকে জোর করে কফি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্তের ব্যক্তিগত সহকারী। কফি খেতে অস্বীকৃতি জানালে, মুখে গরম কফি ছুড়ে মারা হয়। এরপর অভিযুক্ত কাঁচি হাতে নিয়ে তার চেহারা নষ্ট করার হুমকি দেন। এবং তাকে অন্য একজন নারী ভেবে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করেন।
স্নিগ্ধার দাবি, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মারধরের পর তার মুখ চেপে ধরে মদের সঙ্গে ওষুধজাতীয় কিছু মিশিয়ে পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত অন্য কক্ষে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবনের প্রথম তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে বাসায় ফেরেন স্নিগ্ধা।
ঘটনার পর দুইদিন অচেতন ছিলেন বলে দাবি করে এজাহারে স্নিগ্ধা বলেছেন, ২৬এ জুলাই তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ দায়ের করেন খিলক্ষেত থানায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও তার পিএস (ব্যক্তিগত সচিব) গাউসুল আজম পলাশের মোবাইলে কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। পাঠানো হয় এসএমএসও। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি।
আশিয়ান সিটির আইন শাখার কর্মকর্তা সৈয়দ রানার সাথে যোগাযোগ করা হলে আলাপ-কে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো না। আমি কিছুই জানি না।”