“রাজনীতির সাথে কখনো জড়িত ছিলাম না। বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে সভা-সমাবেশ বা মিছিলেও যাওয়া হয়নি কখনো। তারপরও জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হতে হয়েছিল।”
এই কথাগুলো বলছিলেন জুলাই আন্দোলনে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ফরিদ আহমেদ।
তিনি দাবি করছেন, “ছেলের পক্ষে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন এক বাবা। তাদের কারো সাথে কখনোই আমার চেনাজানা ছিলো না।”
২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকার আদালতে ওই মামলা দায়ের করা হয়। সেখানেই আসামি করা হয় ফরিদকে।
আলাপ-কে তিনি বলেন, “আতংকে কেটেছে অনেকদিন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে ওই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।”
“যাত্রাবাড়ীতে ছোটোখাটো ব্যবসা আছে আমার। মামলার বাদী লোক মারফত টাকা চেয়েছিলেন। আমি না করে দিয়েছি। তবে অন্য যাদের আসামি করেছিলেন, তাদের কেউ কেউ টাকা দিয়েছেন বলে জেনেছি। জন প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে।”
কতজনের কাছ থেকে বাদী টাকা আদায় করেছেন জানতে চাইলে ফরিদ বলেন, মামলায় ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম আছে। শুনেছি তাদের কেউই দেশে নেই। এর বাইরে আমার মতো ১৫ থেকে ২০ জনের নাম আছে। তারাই মূলত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।”
২০২৪ সালের জুনে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর শুরু হওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে সরকার পতনের এক দফার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। নজিরবিহীন প্রাণহানি ও ব্যাপক হতাহতের ঘটনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের পতন ঘটে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে ৮৩৪ জনকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ১লা জুলাই থেকে ১৫ই অগাস্টের মধ্যে কমপক্ষে এক হাজার ৪০০ জন মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। যার মধ্যে ১২-১৩ শতাংশ শিশু।
পিবিআই-এর তদন্তে যা উঠে আসে
মামলার এজাহারে বাদী মো. মামুন উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৪ঠা অগাস্ট দুপুরে জুলাই আন্দোলনের কর্মী তার ছেলে রিমন যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার এলাকা থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন রিমন।
ঘটনা অগাস্টের। তবে মামুন মামলা করেন অক্টোবরে। আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।
পিবিআই-এর তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার সময় রিমন ঘটনাস্থল থেকে ১২৭ কিলোমিটার দূরে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অবস্থান করছিলেন। এজাহারে ১৭ বছর বয়সের রিমনের বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ২০ বছর। কসবায় একটি গাড়ির ওয়ার্কশপে তখন কাজ করতেন রিমন।
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় প্রতারণা ও হয়রানির লক্ষ্যে ‘অনেক মামলা বাণিজ্য’ হয়েছে বলে বিভিন্ন ভুক্তভোগী মানুষ অভিযোগ তুলেছে।
রিমন হত্যাচেষ্টা মামলাও মিথ্যা মামলার একটি বলে মনে করছেন ওই ভুক্তভোগী।
পিবিআই এমন আরও অনেক মামলার তদন্ত করেছে, যেগুলোতে কখনো সাক্ষী বা বাদীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সঙ্গে অসত্য তথ্যসহ নানা অসঙ্গতি।
প্রমাণ মেলেনি এমন অন্তত ৫০টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১০টি পুরোপুরি পরিকল্পিত ও সাজানো বলে উঠে এসেছে পিবিআইয়ের তদন্তে।
ডিএমপির মামলার চিত্র
২০২৪ সালের ৪ঠা অগাস্ট মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ হন শাকিল মোল্লা। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
সরকারি গেজেটে জুলাই যোদ্ধা হিসাবে নাম আছে তার। ২০২৫ সালের ৬ই মে আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন শাকিল। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪৬ জনকে আসামি করেন।
তবে মামলায় ঘটনাস্থল আল্লাহ করিম মসজিদ এলাকা নয়, পুরানা পল্টন এলাকার ‘আজাদ প্রোডাক্টসের’ গলি উল্লেখ করা হয়।
এরপর তদন্তে নেমে বিপাকে পড়ে পুলিশ। কারণ, সেখানে শাকিলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তা রহস্য উদঘাটন করেন।
চলতি বছরের ৩০এ জুন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আতিকুজ্জামান।
প্রতিবেদনে শাকিল মোল্লার জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, “মামলার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। এক আত্মীয় তাকে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে, এমন আশ্বাসে একজন আইনজীবীর কাছে পাঠান। এরপর মামলা দায়ের হয়।”
মিথ্যা বা ভুল ঘটনাস্থল উল্লেখ করে শাকিলের মতো আরও অনেকেই মামলা করেছেন, পল্টন থানাতেই যে মামলার সংখ্যা ১২টি।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তেও এমন অসংখ্য নজির মিলেছে। এজাহারে মিথ্যা ও ভুল বর্ণনার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সঠিক উল্লেখ না থাকায় পিবিআইয়ের মতো ঢাকা মহানগর পুলিশও (ডিএমপি) তদন্ত জটিলতায় পড়েছেন বলে জানান একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ঘটনায় রাজধানীর ৫০ থানায় মামলা হয়েছে ৭০৭টি। এসব মামলার মধ্যে ১২৬টির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে।
গত জুন পর্যন্ত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে ২১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
যে ৭ কারণে মামলা শেষ হয়নি
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মোট মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্ত এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি।
মূলত সাত কারণে মামলার তদন্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা।
কারণগুলো হলো: এজাহারের দুর্বলতা, ভুল বর্ণনা, শত্রুতামূলক মামলা, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন, মামলা বাণিজ্য, বাদী ও ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ না পাওয়া এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাইয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৬২টি। এরমধ্যে ২৫৪টি মামলার প্রতিবেদন হয়েছে।
তদন্ত শেষ হয়নি ১ হাজার ৬০৮ মামলার। ১৯৯টি মামলার অভিযোগপত্র হয়েছে। প্রমাণ হয়নি ৫৫টি মামলা। এখন পর্যন্ত কোনো মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হয়নি।
তথ্য বলছে, মোট হত্যা মামলা হয়েছে ৭৯৯টি। আসামি ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৪১ জন। এরমধ্যে ৬৫ হাজার ২১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি। সন্দেহভাজন আসামি ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১ জন।
অভিযোগপত্র হয়েছে ৬৩টি মামলার। আসামি ৫ হাজার ৭৯৩ জন। প্রমাণ হয়নি ৩৭টি মামলা। পিবিআই তদন্ত করছে ২৭৮টি, এরমধ্যে হত্যা মামলা ৮৯টি। সিআইডি তদন্ত করছে ১১৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৬৫টি। গোয়েন্দা পুলিশ –তদন্ত করছে ৫৯টি মামলা। এটিইউ তদন্ত করছে ৫৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৫২টি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় আহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৬৩টি। মোট আসামি ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ৮৯ হাজার ১২১ জন। সন্দেহভাজন আসামি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫৮ জন। অভিযোগপত্র হয়েছে ১৫৪টি মামলা। আসামির সংখ্যা ১০ হাজার ২০২ জন।
পিবিআই ও বিভিন্ন থানার থানার পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) মামলাগুলোর তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আলাপ-কে বলেন, “ডিবিতে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। প্রায় ৪০ জিবি ডাটা পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলোর তদন্ত করছি।”
“প্রতিটি ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিলো, কে কোথায় অবস্থান করেছিলেন, কার বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উপাত্ত মূল্যায়ন করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।”
পিবিআই (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এর পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ আলাপ-কে জানান, ২৭৮টির তদন্তের ভার পিবিআইয়ের হাতে। এর মধ্যে ২০২টি মামলার তদন্ত শেষ করেছে সংস্থাটি।
নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
“কিছু মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে ভিকটিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং যে স্থানে আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে আসলে ভিকটিম যাননি। অথবা ভিকটিম সেখানে গেলেও আহত হননি। এসব কারণে তদন্ত পরিস্থিতি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশই হত্যা মামলা, সে কারণে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যাপার আছে। এসব করতেও সময়ের প্রয়োজন হয়। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতির বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকায় নিম্ন আদালত ও বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া প্রায় সাড়ে ৮শ' মামলা থেকে মাত্র ৪২টির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে বলে জানান, ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।
তিনি আলাপ-কে বলেন, “এরই মধ্যে কয়েকটি মামলা বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসেছে। দুটি মামলার চার্জ শুনানিও শুরু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে মামলায় নির্দোষ ব্যক্তি যেমন আসামি হয়েছেন, তেমনি দোষী ব্যক্তিও বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ সমন্বয়হীনতা ছিলো। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিশাল ক্ষমতা। সঠিক তদন্তে তিনি সবকিছু বের করতে পারবেন।”
ট্রাইব্যুনালের মামলা
জুলাই গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলার রায় হয়েছে। রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে ১টি মামলা। বিচারাধীন আছে ২৮টি মামলা।
এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৪৯ জন। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন। একজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একজন আসামি খালাস পেয়েছেন।
নিষ্পত্তি হওয়া ৬ মামলায় ৬২ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, “এক বছরের মধ্যে জুলাইয়ের যত মামলা আছে, সব ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট এবং জাজমেন্টের মধ্যে দিয়ে এগুলো আমরা নিষ্পত্তি করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-অগাস্টের ঘটনা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোই এখন প্রসিকিউশনের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আসা ৫৯০টি অভিযোগকে একীভূত করে ১০৯টিতে আনা হয়েছে, যার মধ্যে সারা দেশের সব ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”