ইরান পরিস্থিতি: কী হচ্ছে? কেন এবারের আন্দোলন ভিন্ন?

এক কেজি গরুর মাংসের দাম ইরানে এখন স্থানীয় মুদ্রায় এক কোটি রিয়াল। প্রায় দশ লাখ রিয়ালের বিপরীতে মিলছে এক মার্কিন ডলার।

রাজধানী তেহরানসহ ইরানে বিভিন্ন জায়গায় চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলনের মূলে অর্থনৈতিক মন্দা। যা প্রকারান্তরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির খবর বলছে, এখন পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে টাইম ম্যাগাজিন বলছে, এখন পর্যন্ত ছয়টি হাসপাতালেই ২১৭ জন মারা গেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী।

আন্দোলনের ছবি-ভিডিওতে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তেহরানের উত্তর-পশ্চিমের শহর কাজভিন, শিয়া পবিত্র শহর মাশহাদ, পশ্চিমাঞ্চলীয় আলিগুদারজ শহর, ইরাক সীমান্তের কাছের শহর আবাদানসহ আরও অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের দেখা গেছে সরকার পতনের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে।

'স্বৈরাচারীর মৃত্যু হোক', ‘কামান, ট্যাংক, আতশবাজি! মোল্লারা বিদায় নাও’, 'জনতার বিদ্রোহ, জিন্দাবাদ’ শুধু এমন স্লোগানের আওয়াজ না, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে গুলির শব্দও হয়ে উঠেছে এখন নৈমিত্তিক। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র হয়েছে উঠছে।

বেশ কয়েকটি ফুটেজে দেখা গেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে। আর বিক্ষোভকারীরা জবাব দিচ্ছে পাথর ছুড়ে ।

এখন পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

যেভাবে শুরু

বিক্ষোভ শুরু হয়েছিলো গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে। ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দাম অনেক কমে যাওয়ায় আগে থেকেই চলতে থাকা আর্থিক মন্দা ভয়াবহ রূপ নেয়।

তেহরানে রাস্তায় নেমে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তাতে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যায় আন্দোলনকারীদের মুখে। 

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন ভোজ্য তেল এবং মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাতারাতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এমনকি অনেক পণ্য বাজার থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়।

পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানিকারকদের জন্য সুলভ মূল্যে মার্কিন ডলার সরবরাহের একটি স্কিম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেন এবং অনেক ব্যবসায়ী প্রতিবাদস্বরূপ দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এবারকার বিক্ষোভের শুরুটা সেখান থেকেই। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবার প্রতি মাসে প্রায় ৭ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি রিয়াল, করে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তার কর্মসূচি চালু করে সরকার। কিন্তু তা জনরোষ দমন করতে পারেনি।  

দারিদ্র্য এবং শ্রেণী বৈষম্যের কবলে পড়ে ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে এবং সরাসরি "খামেনির মৃত্যু হোক" স্লোগান দিচ্ছে। খামেনি যিনি কি না দেশের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় সকল বিষয়ের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী, তার একচ্ছত্র ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। 

কেন ভিন্ন এবারের আন্দোলন

সাম্প্রতিক বিক্ষোভের শুরু হয়েছে ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। এই ব্যবসায়ী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। আলেম সমাজের সাথে ব্যবসায়ীদের জোট তাদের ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। ফলে তাদের এই প্রতিবাদী অবস্থানকে একটি চরম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্টার্ন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক আরং কেশাভারজিয়ান সিএনএন-কে বলেছেন, “ইরানের ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে সব প্রধান রাজনৈতিক আন্দোলনে ব্যবসায়ীরা ছিল মূল কারিগর। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, ব্যবসায়ীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অন্যতম বিশ্বস্ত শক্তি।” 

তবে রিয়ালের দরপতনের কারণে ব্যবসায় প্রভাব পড়াতে তারা এবার রাস্তায় ।

জনগণের মধ্যে চরম হতাশার কারণে এবারের বিক্ষোভকে আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা মনে করছেন ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি। সিএনএন-কে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন ‘বয়লিং পয়েন্ট’-এ পৌঁছেছে। আমার ধারণা, এখন আমরা যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দেখছি, তা ২০২৭ সাল পর্যন্ত টিকে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। আমি সত্যিই মনে করি সামনে বড় কোন পরিবর্তন আসছে।” 

আন্দোলনের আরও এক লক্ষ্য

তবে আন্দোলন শুধু খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে নয়। বরং ইরানের পতন হওয়া  শাহ রাজবংশের পক্ষেও শোনা যাচ্ছে স্লোগান। আন্দোলনকারীরা খামেনির পতনের দাবির সাথে রেজা পাহলভীর প্রত্যাবর্তনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে।

এমনকি তেহরান থেকে মাত্র ১৪৩ কিলোমিটার  উত্তর-পশ্চিমে কাজভিন শহরে 'শাহ দীর্ঘজীবী হোক', এমন স্লোগানও শোনা গেছে। শিয়াদের পবিত্র শহর মাশহাদে শোনা যাচ্ছে ‘পাহলভী ফিরবে, এটিই শেষ যুদ্ধ।’

রেজা পাহলভী

কে এই রেজা পাহলভী? যেভাবে শাহ বংশের পতন হয় ইরানে

রেজা পাহলভী হলেন ক্ষমতাচ্যুত শাহ বংশের শেষ শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত ছেলে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ইরানিদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শাহ-পুত্র চলমান বিক্ষোভকে "লাখো ইরানির স্বাধীনতার দাবি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রায় আড়াই হাজার বছর ক্ষমতায় থাকা শাহ রাজবংশের পতন হয় ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে। একনায়কতন্ত্র, দুর্নীতি আর পশ্চিমাঘেঁষা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ গড়ে তোলে ইরানিরা।

বিপুল তেল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক অবিচার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য সেই বিক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছিল।

বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহোল্লাহ খোমেনি। যিনি নির্বাসিত ছিলেন ফ্রান্সে। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ইরানের রাজবংশের পতন হয়ে ধর্মতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। একচ্ছত্র ক্ষমতা চলে যায় খোমেনির হাতে।

খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে ক্ষমতা যায় খামেনির হাতে।

খোমেনি থেকে খামেনি

রুহোল্লাহ খোমেনি ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত। তিনি মারা যাওয়ার পর দেশের সর্বোচ্চ নেতা হন আলী খামেনি। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ইরানের অর্থনীতি, পরিবেশ, পররাষ্ট্রনীতিসহ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের একচ্ছত্র ক্ষমতা তার হাতেই।

খামেনি সশস্ত্র বাহিনী ও আলেমদের মধ্যে এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের অনুগতদের বসিয়ে একচেটিয়াভাবে শাসন করে গেছেন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে।

ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভ্যালি নাসেরের মতে, খামেনি একজন ভিন্ন ধরনের ‘ডিক্টেটর’। তার মতে রাষ্ট্রপতির অনেক ক্ষমতাই নিজের হাতে নিয়েছেন খামেনি।

সংসদ, বিচার বিভাগ, সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশের বেশিরভাগ প্রভাবশালী সংস্থাও তার নিয়ন্ত্রণে।

খামেনি শাসনের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ চলছে, তার অন্যতম কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, ক্ষমতা ধরে রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছেন খামেনি।

২০২৬ সালের শুরুতেই ইরানে মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে অসহনীয় হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। মূলত এই অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদেই দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ।

‘উসকানি’র অভিযোগ

ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলছে, কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতারা এই বিক্ষোভকে বিদেশি উসকানি বলে দাবি করছেন।

কাজভিন প্রদেশের আইনপ্রণেতা ফাতেমাহ মোহাম্মদ বেইগি বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, "শত্রুরা ইরানে অস্ত্র আমদানি করছে”। হাসপাতালে হামলা, বাজার বন্ধ করা এবং সম্পত্তি ধ্বংস করার পেছনে "ইসরায়েলি এবং মার্কিন ভাড়াটে সেনারা" দায়ী বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আইআরজিসি কর্মকর্তা ইসমাইল কোসারিও একই ধরনের দাবি করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের কাছে যুদ্ধে হেরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক "সফট ওয়ার" চালাচ্ছে।

তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের সমালোচনাও করেছেন তিনি। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য প্রেসিডেন্টকে পার্লামেন্টে তলব করার পরামর্শও দেন তিনি।

তবে এমন পরামর্শের সমালোচনা করে ইরানের লোরিস্তান প্রদেশের সাবেক গভর্নর হাসান রাসুলি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ‘যুদ্ধের ময়দানে সেনাপতিকে আক্রমণ করার শামিল’। তিনি বলেন, তেহরানের উচিত এখন অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই না করে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া।

সংসদ সদস্যরা অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং এর ফলে সৃষ্ট বিক্ষোভের জন্য সরকার ও জনগণ, উভয়কেই দায়ী করেছেন। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ও তার প্রশাসনের সদস্যরা পাল্টা দায়ভার চাপিয়েছেন সংসদের ওপরই। যদিও সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদদের সাথে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্বীকার করেন যে বর্তমান পরিস্থিতির দায়ভার সবার।

খবর ব্ল্যাকআউট

বিক্ষোভের খবর যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও বিক্ষোভের খবর প্রচার না করে পরিস্থিতির ভয়াবহতা অস্বীকার করছে।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পক্ষে প্রেসিডেন্ট

ইরানের সরকার এখন অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে বিক্ষোভকারী এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিদারদের মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করছে।

বুধবার ইরানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। কারা বিক্ষোভ করছে আর কারা সহিংসতা ছড়াচ্ছে তা আলাদা করারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, "যারা বন্দুক আর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরে আর পুলিশ স্টেশন ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তারা দাঙ্গাকারী।”

বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছেন, 'দাঙ্গাকারীদের' দ্রুত বিচার ও শাস্তি দেওয়া হবে যাতে তা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

তবে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ‘হত্যা’ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে বলে হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

শনিবার বিক্ষোভ নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ নেতা বলেন বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলা উচিত, তবে ‘দাঙ্গাকারীদের দমন’ করতে হবে।

মাহসা আমিনীর মৃত্যু

এর আগে এভাবে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছিলো ২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর। ‘ঠিকভাবে হিজাব না পড়ার’ কারণে দেশটির মোরাল পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিলো তাকে। সেখানেই মৃত্যু হয় তার। আন্দোলনে নেমে পড়ে সারা দেশের মানুষ। 

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সেই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে মারা যায় সাড়ে পাঁচশো জনেরও বেশি মানুষ, আটক করা হয় আরও ২০ হাজার মানুষকে।