পাসপোর্ট বাতিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ায় মঙ্গলবার ফ্লাভিওর পাসপোর্ট বাতিল করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
এর আগে ২৬এ অক্টোবর ফ্লাভিওকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা জমা দেননি। এরপর ব্রাজিলে তার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফ্লাভিওর আইনজীবীরাও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন।
সূত্রের বরাতে বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করেছেন ফ্লাভিও। তবে ঠিক কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন, তার সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি-না এবং সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা আছে কি-না, তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায় নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়া এবং তাদের আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলেও বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের অর্থায়ন এবং এক ব্রাজিলীয় আইনজীবীর সঙ্গে কথিত সম্পর্কের বিষয়েও তদন্ত হচ্ছে। ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য ফ্লাভিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগে তার নির্বাচনি প্রচারণার অর্থের উৎস খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
২৫এ অক্টোবর ব্রাজিলে হওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও বলসোনারো। প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ৮০ বছর বয়সী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।
প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকলেও শেষমেশ দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলার কাছে ৪০ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।
তবে পরাজয় মেনে নেননি ফ্লাভিও। নির্বাচনের ফল বাতিলেরও দাবি জানান তিনি। তার অভিযোগ, ভোটের দিন ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোয় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও নির্বাচনের সময় বাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষই অনুরোধ করেছিলো ।
ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর ঘটনাকে ‘নোংরা কৌশল’ বলে উল্লেখ করেন ফ্লাভিও। তবে তার দল লিবারেল পার্টি নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছে। যদিও ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে দলটি।