এবার দাম্মামের বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো এক পর এক হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর। এবার দেশটির দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। 

বুধবার সন্ধ্যায় এ হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ)। জিএসিএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

একইদিনে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর শেইবাহ তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া একটি ড্রোনকে ধ্বংস করার সময় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

কিং ফাহাদ বিমানবন্দরটিতে হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ররাষ্ট্র দপ্তর বা ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট। 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগটের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 

এর আগে বুধবার সৌদি আরবে হুথিদের পক্ষ থেকে আবারও হামলার আশংকা থাকায় রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে।

এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা চারটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে।

অক্টোবরের শুরু থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন পর্যন্ত ২০ বার হামলার শিকার হয়েছে। ৭ থেকে ১১ই অক্টোবর পর্যন্ত সেই বিমানবন্দরে ১৭ জন মারা যান, আহত হন ৩৩৩ জন।

এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আসির অঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে জাজান অঞ্চলের কিং আব্দুল্লাহ বিমানবন্দরে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

১০ই অক্টোবর সেদিন রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো প্রাণঘাতী হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। এ ঘটনার পর পরই হুথিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলাটির দায় স্বীকার করেন। 

আল-বুখাইতি জানিয়েছিলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের করা হামলার জবাবে এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।