দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর বা ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
অভিবাসন বিষয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ও অভিযান ধরপাকড়ের মধ্যেই এমন খবর জানালো দেশটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নিয়ে অবস্থান করে আইন লঙ্ঘন, প্রতারণা কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুতগতিতে বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
২০২৬ সালের ১০ই অগাস্ট স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছিলো, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, এরপর থেকে বাতিলের সংখ্যার অনেকাংশেই বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের কিছু ঘটনায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্যালেস্টাইনের গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ছাড়া অভিবাসী ও ভিসাপ্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই-বাছাই করার নিয়ম আরও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং কিছু বিচ্ছিন্ন প্রতারণার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপে শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ভিসার ক্ষেত্রে উচ্চ ফি আরোপ তার অন্যতম উদাহরণ।