রাজমুকুটের পোড়া ছাপ: ব্রিটিশ রাজপরিবারের দাস ব্যবসা 

লন্ডনের একটি অফিসে বসে কয়েকজন মানুষ ঠিক করলেন, সমুদ্রের ওপারে তাদের ‘সম্পত্তিগুলো’ সহজে চেনার একটা উপায় দরকার। আর সেই চিহ্নটি হবে তাদের সবচেয়ে গর্বের প্রতীক, রাজমুকুট।

এই খবর পাঠানো হলো চিঠিতে। সাথে পাঠানো হলো একটি ছোট্ট রুপার সিলমোহর। ব্যাপারটা খুব সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে ছিলো ভয়ংকর এক পরিকল্পনা। আগুনের তাপে সিলমোহরটা লাল করে ফেলা হতো, তারপর চেপে ধরা হতো জ্যান্ত মানুষের গায়ে। মুহুর্তেই পুড়ে যেতো চামড়া। থেকে যেতো রাজমুকুটের দাগ, সারাজীবনের জন্য।

এই চিঠি আর সিলমোহরের গল্প এতদিন চাপা পড়ে ছিলো পুরনো আর্কাইভের ভেতরে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বের হয়ে এসেছে যে, নির্দেশটা এসেছিলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সাউথ সি কোম্পানির বোর্ড থেকে পাঠানো এক চিঠিতে।

সেখানে সোজাসাপটা বলা হয়েছিলো, দাসদের শরীর এমনভাবে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে ‘আমাদের নিগ্রোদের’ বাকিদের থেকে আলাদা করা যায়। তখন মানুষকে দেখা হতো পণ্য হিসেবে, আর পণ্যে তো ‘লোগো’ দিতেই হয়!

সময়টা ১৭০০ সাল। আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার আফ্রিকানকে জোর করে তুলে দেওয়া হতো ইউরোপ ও আমেরিকার উপনিবেশগামী জাহাজে। গাদাগাদি করে, পশুর মতো অবস্থায় চলতো সেই যাত্রা। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাদের পুরো জীবনটাই ঠিক করতো মালিকেরা। কোথায় থাকবে, কী কাজ করবে, এমনকি কার ‘সম্পত্তি’ হয়ে বাঁচবে।  

রাজপরিবারের সঙ্গে দাস ব্যবসার যোগ

যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ড. নিকোলাস র‌্যাডবার্ন ব্রিটিশ সাউথ সি কোম্পানির আর্কাইভে এই চিঠি খুঁজে পেয়েছেন। 

চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সে থাকা কোম্পানির এজেন্টদের কাছে। তবে এজেন্টরা দাসদের শরীরে ছাপ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা জানায়, এ ধরনের ছাপ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই তারা তা দিতে চায় না। 

কিন্তু কোম্পানির পরিচালকেরা সেই সতর্কতা মানতে রাজি ছিলেন না।

তারা চিঠির সঙ্গে একটি রুপার সিলমোহর পাঠায়। চিঠিতে আরও বলা হয়, “আমাদের অন্যান্য কারখানার মতো নিগ্রোদের বাম কাঁধে ছাপ দিতে হবে।”

এই চিঠি দাসদের ওপর সাউথ সি কোম্পানির অত্যাচারের পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে। তা হলো, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যরাও কীভাবে দাস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ইতিহাসবিদরা ব্রিটিশ দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তালিকাটির নাম ‘রেজিস্টার অব ব্রিটিশ স্লেইভ ট্রেডার্স’। সেখানে কারা এই ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন এবং কীভাবে এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তার তথ্য রয়েছে।

আর সেই তালিকায় শুধু ব্যবসায়ী বা ধনী বিনিয়োগকারীদের নামই ছিলো না, ছিলো ব্রিটিশ রাজা-রানিদের নামও। যার মানে, দাস ব্যবসা থেকে শুধু ব্যবসায়ীরাই মুনাফা করে নাই, রাজপরিবারের কিছু সদস্যও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

এই নথি তৈরির পেছনে কয়েক বছর ধরে কাজ করেছেন একদল ইতিহাসবিদ। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রায় আড়াইশো বছর ধরে ব্রিটিশদের দাস ব্যবসার মাধ্যমে ৩০ লাখের বেশি আফ্রিকান নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোর করে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা ইতিহাসবিদ অধ্যাপক উইলিয়াম পেটিগ্রু বলেন, ১৭শ শতকে ইংল্যান্ডের দাস ব্যবসায় জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন রাজা দ্বিতীয় জেমস।

যে রাজপরিবারকে আজ ব্রিটেনের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, সেই রাজপরিবারের সদস্যই লাখ লাখ আফ্রিকান মানুষকে জোর করে দাস বানিয়ে আটলান্টিকের ওপারে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে ছিলেন।

রাজা-রানিরা ছিলেন বিনিয়োগকারী

সময়টা ১৬৬০ সাল। ব্রিটেনে আবারও ফিরে আসে রাজা-রানির শাসন। এর আগে কয়েক বছর দেশটি রাজা ছাড়াই শাসিত হয়েছিল। ১৬৬০ সালে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে। আবার সিংহাসনে বসেন রাজা দ্বিতীয় চার্লস।

এরপর শুরু হয় ব্রিটিশ রাজতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা। আর ঠিক তখনই বাড়তে থাকে দাস ব্যবসাও।

রাজপরিবারের সদস্যরা দাস ব্যবসা পরিচালনাকারী বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হন। কেউ ছিলেন কোম্পানির পরিচালক, কেউ বিনিয়োগকারী।

অর্থাৎ, ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ফিরে আসার পর দাস ব্যবসা শুধু ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে রাজপরিবারও।

রাজা দ্বিতীয় চার্লসের শাসনামলে দাস ব্যবসার জন্য গড়ে ওঠে ‘কোম্পানি অব রয়্যাল অ্যাডভেঞ্চারস।’ পরে এই কোম্পানি নতুন রূপে ‘রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি’ নামে কাজ শুরু করে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছিলেন রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও পুঁজি লগ্নিকারীরা। 

ছবি আলাপ (1)

রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ভাই জেমস ছিলেন রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানির গভর্নর এবং বড় শেয়ারহোল্ডার। পরে যিনি পরে রাজা দ্বিতীয় জেমস হন। 

১৬৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি বিপুলসংখ্যক আফ্রিকান মানুষকে দাস হিসেবে ধরে নিয়ে বিক্রি করে। ইতিহাসে আর কোনো কোম্পানি এতো বেশি আফ্রিকান নারী, পুরুষ ও শিশুকে দাস হিসেবে পাচার করেনি।

কোম্পানির বৈঠকগুলো হতো জেমসের ব্যক্তিগত অ্যাপার্টমেন্টে। জায়গাটি ছিল হোয়াইটহল প্যালেসে, যা ছিলো বাকিংহাম প্যালেস নির্মাণের আগে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বাসভবন।

সেখানে বসেই দাস ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।

জেমসের সঙ্গে এই ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন তার চাচাতো ভাই প্রিন্স রুপার্ট অব দ্য রাইন। রাজপরিবারের আরও সদস্যও এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন রাজা দ্বিতীয় চার্লসের পর্তুগিজ স্ত্রী রানি ক্যাথরিন অব ব্রাগাঞ্জা।

শুধু রাজমুকুটের সিলমোহর নয়, ছিলো আরও ছাপ

দাসদের শরীরে ছাপ দেওয়ার ঘটনা শুধু সাউথ সি কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে দাস ব্যবসার সম্পর্ক নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ব্রুক নিউম্যানের দ্য ক্রাউন’স সাইলেন্স বইয়ে।  

সে বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি আফ্রিকার উপকূলীয় দুর্গ ও কারখানাগুলোতে দাসদের শরীরে চিহ্ন বসাতো।

সেসব ছাপে ব্যবহার করা হতো রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন চিহ্ন। যেমন, ডিউক অব ইয়র্কের অদ্যাক্ষর ‘ডিওয়াই’ এবং রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি অব ইংল্যান্ডের অদ্যাক্ষর ‘আরএসিই’।

পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওনের কাছে শেরব্রো দ্বীপে থাকা কোম্পানির এক এজেন্টকে দাসদের শরীরে চিহ্ন বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। তাদের ডান স্তনে ‘আরএসিই’ ছাপ দিতে বলা হয়। শুধু তাই নয়, দাসদের সন্তানদের বয়স তিন বছর হলেই তাদের শরীরেও একইভাবে এই চিহ্ন বসানোর নির্দেশ ছিলো।

রানি অ্যানের চুক্তি

ব্রিটিশ রাজপরিবারের দাস ব্যবসায় সম্পৃক্ততার আরেকটি বড় উদাহরণ রানি অ্যানের সময়ের ঘটনা।

১৭১৩ সালে স্পেনের রাজা পঞ্চম ফিলিপের সঙ্গে ‘আসিয়েন্তো’ নামে একটি  শান্তিচুক্তি সই করেন রানি অ্যান। চুক্তির অনুযায়ী, ব্রিটেন প্রতি বছর ৪ হাজার ৮০০ আফ্রিকানকে দাস হিসেবে স্পেনের আমেরিকান উপনিবেশগুলোতে পাঠাতে পারতো।

হাউস অব লর্ডসে এই চুক্তির কথা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন রানি অ্যান। স্পেনের উপনিবেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজে দাস সরবরাহের জন্য ৩০ বছরের এই চুক্তিকে নিজের  ‘অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তিনি।

ছবি আলাপ (40)

রানি অ্যান ছিলেন সাউথ সি কোম্পানির একজন বিনিয়োগকারী। কোম্পানিটির মোট মুনাফার প্রায় এক-চতুর্থাংশের ওপর তার মালিকানা ছিলো।

স্পেনের জন্য দাস সরবরাহের দায়িত্ব পায় সাউথ সি কোম্পানি। পরে সাউথ সি কোম্পানি দাস সংগ্রহ ও পাঠানোর কাজটি করার জন্য রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। 

রানি অ্যানের উত্তরসূরি রাজা প্রথম জর্জ ও রাজা দ্বিতীয় জর্জেরও সাউথ সি কোম্পানিতে বিনিয়োগ ছিলো।

এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যায় আটলান্টিক দাস বাণিজ্য বিষয়ক ‘স্লেইভ ভয়েজেস ডেটাবেস’-এ। কোন জাহাজে কতজন আফ্রিকানকে দাস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, কোথা থেকে তাদের নেওয়া হয়েছিলো, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো এবং যাত্রাপথে কতজন মারা গিয়েছিলো, এসব তথ্য সেখানে রয়েছে। 

এই ডেটাবেস অনুযায়ী, ১৭১৪ থেকে ১৭৪০ সালের মধ্যে সাউথ সি কোম্পানি পশ্চিম আফ্রিকা ও মাদাগাস্কার থেকে ৪৩ হাজার ২২০ জন আফ্রিকান বন্দিকে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও স্পেনের আমেরিকান উপনিবেশগুলোতে পাঠায়।

সেখান থেকে অনেককে আবার আমেরিকাইয় পাচার করা হয়। জাহাজে করে নিয়ে যাওয়া এবং শত শত মাইল পথ হাঁটিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে পৌঁছে দেওয়া হতো তাদের।

এই ব্যবসায় ব্যবহৃত জাহাজগুলোর মধ্যে ছিলো ক্রাউন, কিং উইলিয়াম এবং উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি; সবগুলোই লন্ডন থেকে যাত্রা করতো।

আফ্রিকা থেকে আমেরিকার দিকে নেওয়ার সময় যাত্রাপথেই এসব জাহাজেই প্রায় ৭ হাজার মানুষ মারা যায়।

“এই কোম্পানিটি ছিলো রাজপরিবার সমর্থিত একটি নির্মম কোম্পানি। যার লক্ষ্যই ছিলো মানুষ পাচার করা এবং দাস বানানো,” ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ড. নিকোলাস র‌্যাডবার্নের বলেন। 

আজও কেন ক্ষমা চায়নি রাজপরিবার

ইতিহাসের এই তথ্যগুলো সামনে আসার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, ব্রিটিশ রাজপরিবার কি দাস ব্যবসার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে?

রাজা তৃতীয় চার্লস অতীতে দাসপ্রথার ভয়াবহতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দাসপ্রথাকে “ভয়াবহ নৃশংসতা” বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

ছবি আলাপ (39)

২০২৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে আটলান্টিকের দাস ব্যবসার ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে করা গবেষণাকে সমর্থন জানান।

তবে ব্রিটেন বা রাজপরিবারের দাস ব্যবসায় ভূমিকার জন্য এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজা চার্লসের মুখপাত্র বলেন, দাসপ্রথার সঙ্গে ব্রিটেন ও রাজপরিবারের অতীত সম্পর্কে আরও জানার জন্য রাজা আগ্রহী। একই সঙ্গে, এই দাসপ্রথার কারণে যে অন্যায় হয়েছে, তা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সেটিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। 

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে গবেষণা করছেন এমন সবাইকে রাজা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।

তবে রাজা চার্লসের সাংবিধানিক ক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তিনি একা ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে বা দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার ও পার্লামেন্টেরও ভূমিকা রয়েছে। 

এদিকে আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলো থেকে চাপ বাড়ছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসে জ্যামাইকার একটি সরকারি প্রতিনিধিদল রাজা চার্লসের কাছে আবেদনপত্র জমা দেয়। যেখানে জানতে চাওয়া হয়, আফ্রিকানদের জোর করে জ্যামাইকায় নিয়ে যাওয়া আইনসম্মত ছিলো কি না ও তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না এবং দাসপ্রথার জন্য ব্রিটেনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে কি না।

বার্বাডোসের রাষ্ট্রদূত ডেভিড কমিশং বলেছেন, ব্রিটেনের কিছু ধনী ও প্রভাবশালী পরিবার ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে যে তাদের পূর্বপুরুষরা দাস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা এ জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছে। 

তিনি মনে করেন, রাজপরিবারেরও নিজেদের অতীত ভূমিকা স্বীকার করে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। 

ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য রাজমুকুট ক্ষমতা, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। কিন্তু আফ্রিকান দাসদের জন্য সেই একই প্রতীক ছিলো শরীর পুড়িয়ে দেওয়া এক নির্মম চিহ্ন।

নতুন এই গবেষণা দেখাচ্ছে, দাস ব্যবসা ছিলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজা-রানিরা শুধুমাত্র দূর থেকে এই ব্যবসা দেখেননি। বরং তারা বিনিয়োগ করেছেন, কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আজ সেই ইতিহাস সামনে আসছে নতুন করে। আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলো চাইছে স্বীকৃতি, ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণ।

রাজা চার্লস দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত।

(দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে)