টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এন চন্দ্রশেখরন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর পুনর্নিয়োগের জন্য নিজেকে বিবেচনায় না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চন্দ্রশেখরন।
বিতর্কিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) কয়েক দিন আগেই বুধবার পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাটা সন্সের বোর্ডকে দ্রুত তার বিকল্প উত্তরসূরি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছেন চন্দ্রশেখরন। মূলত ২০২৭ সালের ২০এ ফেব্রুয়ারি টাটা সন্সের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো।
এর আগে চন্দ্রশেখরনের আরও পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়ানোর সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেছিলো টাটা ট্রাস্টস। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে টাটা সন্সের নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদও ওই সুপারিশে সমর্থন জানিয়েছিলো।
তবে চলতি বছরের ২৪এ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব বোর্ডে তোলা হলে একজন পরিচালক এতে সমর্থন না দেওয়ায় তা অনুমোদন পায়নি। ফলে সকলের সমর্থন না থাকায় চন্দ্রশেখরনও বিষয়টি স্থগিত রাখেন।
এর আগে টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা চন্দ্রশেখরনের আরেক মেয়াদ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। টাটার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দুর্বল আর্থিক ফল ও লোকসানকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও এর আগে চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশে নোয়েল টাটা সমর্থন দিয়েছিলেন।
৬৩ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরন টাটা গ্রুপে প্রায় ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন। তার মতে, টাটা সন্সের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি কৌশলগত প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। তাই ২০২৭ সালের পর নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের ঘোষণা এসেছে টাটা ট্রাস্টসের বোর্ড সভা এবং ১৮ই অগাস্টে টাটা সন্স এজিএমের ঠিক আগে। ওই সভাগুলোতে রোটেশনের মাধ্যমে অবসর নেওয়ার কারণে তার পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসার কথা ছিলো।
সাধারণত এ ধরনের পুনর্নিয়োগ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও এবার টাটা সন্স ও এর প্রধান শেয়ারহোল্ডার টাটা ট্রাস্টসের মাঝে চলমান টানাপোড়েনের কারণে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে টাটা সন্সের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে চন্দ্রশেখরনের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত টাটা গ্রুপের পাশাপাশি ভারতের করপোরেট অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।