যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা তিন দিনের সংঘাতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মঙ্গলবার ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৯১ ডলারে উঠেছে। আগের দিনও দাম বেড়েছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। গত ১৫ই জুনের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছিল। এরপর তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় নেমে আসে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের আগের তুলনায় এখন ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান।
পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দর অবরোধ করবে। হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকেও ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এতে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, কৌশলগত তেলের মজুত দ্রুত কমছে। উত্তেজনা না কমলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলেও। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত মাত্র ৫৭টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এটি ৫০ শতাংশের বেশি কম। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
তেলবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কমোডিটি কনটেক্সটের প্রতিষ্ঠাতা রোরি জনস্টন বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির। বাজারের আগের সুরক্ষা বলয়ও অনেকটাই শেষ হয়ে এসেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সোমবারও ৮৫ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। তাদের দাবি, বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিডি সিকিউরিটিজের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান বার্ট মেলেকের মতে, সরবরাহ সংকট বাস্তবে দেখা দিলে ব্রেন্টের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।