ভঙ্গুর রাশিয়াকে বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক বলছেন পুতিনপন্থি রুশ অলিগার্ক

উক্রেইন যুদ্ধের বিপক্ষে কথা বললেন রাশিয়ান শীর্ষ শিল্পপতি আন্দ্রেই মেলনিচেঙ্কো। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রাশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বের উপর এর প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

রুশ অলিগার্ক বলছেন, উক্রেইন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউরোপের নতুন নিরাপত্তা কাঠামোতে মস্কোর অংশগ্রহণ জরুরি হয়ে পড়বে।

নিজ দেশের আসন্ন বিপদ নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইকনমিস্টকে প্রায় ৬০ ঘণ্টার সাক্ষাৎকার দেন রাশিয়ার এই অলিগার্ক। নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে একটি প্রবন্ধও লেখেন। রাশিয়ার কোনো অলিগার্ক এত দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রথম মুখ খুললেন।  

“উক্রেইন যুদ্ধ রাশিয়ার চোখে পশ্চিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কিন্তু এতে মূল সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং তা আরও বাড়ছে,” বলেছেন মেলনিচেঙ্কো।  

এভাবে চলতে থাকলে সংঘাত আরও ‘গুরুতর’ হতে পারে, এমনকি ‘পারমাণবিক’ অস্ত্র ব্যবহারের পথও খুলে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।  

রুশ অলিগার্ক মনে করেন, “যখন পর্যাপ্তসংখ্যক রুশ নাগরিক বুঝতে শুরু করবে যে, উক্রেইনের এই দীর্ঘ যুদ্ধ অর্থহীন এবং এর মাশুল তাদেরই দিতে হচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অচলাবস্থা ভাঙতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারেন।”

আন্দ্রেই মেলনিচেঙ্কো

কে এই আন্দ্রেই মেলনিচেঙ্কো

দ্য ইকনমিস্টের প্রতিবেদনে আন্দ্রেই মেলনিচেঙ্কোকে সারা বিশ্বে ‘সার ব্যবসার রাজা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির মতে, রাশিয়ার সবচেয়ে বড় শিল্পপতি মেলনিচেঙ্কো মোটেও পুতিনবিরোধী নন। 

কিন্তু এতদিন তিনি যুদ্ধের সমালোচনা করেননি, বরং তার কারখানাগুলো যুদ্ধ অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে। ২০২৩ সালে রাশিয়ায় ফিরে এসে তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের নিয়ম মেনেই ব্যবসা করে গেছেন। নিয়মটি ছিলো: অর্থ উপার্জন করো, কিন্তু রাজনীতি থেকে দূরে থাকো। 

এই সাক্ষাৎকারে তিনি কোনো উচ্চ আদর্শের কথাও বলছেন না। গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের প্রবক্তা হিসেবে নয়, বরং একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী হিসেবে কথা বলেছেন। 

তিনি কথা বলছেন, কারণ তার মতো ধনকুবেররা দেশের অবক্ষয় ও স্বৈরশাসনে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি আর এড়িয়ে যেতে পারছেন না। যেমনটা হয়েছিলো ১৯০৫ সালে। জাপানের কাছে পরাজয়ের পর রাশিয়ার শিল্পপতিরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলেন। 

যুদ্ধ থামাতে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে বলে মনে করেন এই অলিগার্ক। প্রবন্ধে তিনি বলেন, “ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব যেমন বাস্তব, তেমনি রাশিয়ার সার্বভৌম ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে অস্বীকার করে গড়া উক্রেইনের নিরাপত্তাও সমানভাবে অস্থিতিশীল।”

বিশ্বের উপর দায়িত্ব

তবে মেলনিচেঙ্কোর বক্তব্যে শুধু রাশিয়া-উক্রেইন যুদ্ধের কথাই উঠে আসেনি। রাশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোর হতাশাজনক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। যদিও তিনি সরাসরি বলেননি যে, পুতিনকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে, তবে তিনি যে পরিবর্তনের কথা বলছেন, তা একক শাসনের অবসানের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছে। 

একইসাথে পশ্চিমের দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন এই শিল্পপতি। বলেছেন, রাশিয়ার সার্বভৌমত্বে যেন হাত দেওয়া না হয়। কারণ, তারা হস্তক্ষেপ করলে দেশটি বিশৃঙ্খলা, কঠোর আত্মনির্ভরতা বা বিপজ্জনক নির্ভরশীলতার দিকে ঝুঁকে পড়বে, যা শুধু রাশিয়ার জন্যই না, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক। 

একটি সার্বভৌম রাশিয়া সবার কাছে আরামদায়ক নাও হতে পারে। কিন্তু রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব নষ্ট হলে সারা বিশ্বের উপর তার যে প্রভাব পড়বে, তার তুলনায় সমঝোতাই ভালো। মেলনিচেঙ্কো মনে করেন, রাশিয়াকে পছন্দ করা বা ঘৃণা করা নিয়ে ভাবার চেয়ে বিশ্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি একটি পূর্বানুমানযোগ্য রাশিয়া চায়, নাকি অনিশ্চিত রাশিয়া? 

রাশিয়ার ভেতরে যুদ্ধের প্রভাব

উক্রেইন যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি বোঝা যাচ্ছে রাশিয়ার ভেতরেও। জ্বালানি খাতে হামলার ফলে জ্বালানি সংকট, পাম্পে লাইন এবং সংঘর্ষ দেখা যাচ্ছে।

“উক্রেইন যুদ্ধ রাশিয়ার চোখে পশ্চিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।”

২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া দখল পুতিনের জনপ্রিয়তা বাড়ালেও, এখন সেই অঞ্চল ড্রোন হামলায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে পুতিন বারবার দাবি করছেন যে, সামরিক অভিযান সঠিক পথে আছে এবং অগ্রগতি আসন্ন। যদিও অর্থনীতি ধসে পড়ার লক্ষণ নেই এবং তাৎক্ষণিক গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনাও কম। তবে অনেক রুশ নাগরিক মনে করছেন, দেশটি একটি অচল অবস্থায় পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিতে পুতিন যুদ্ধ আরও বাড়াতে পারেন, দেশের ভেতরে দমন-পীড়নও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

উক্রেইন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে দ্য ইকনমিস্ট বলছে, রাশিয়া নেটোর সঙ্গে সংঘাত বাড়াতে পারে। মেলনিচেঙ্কো আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে রাশিয়া হয়তো অন্য কৌশলে হাঁটতে পারে। উক্রেইনের ইউরোপীয় সমর্থকদের ভয় দেখাতে পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করতে পারে। যদিও পশ্চিমা বিশ্লেষকরা এখনো এই সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন।

চেরনোবিলের উদাহরণ দিয়ে মেলনিচেঙ্কো তার প্রবন্ধে লেখেন, “বিপুল শক্তি ধারণকারী জটিল কোনো ব্যবস্থা ভুল হিসাব বা অহংকারকে ক্ষমা করে না। বুঝে উঠার আগেই ছোট ছোট ঘটনার ধারাবাহিকতা একসময় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।” 

পারমানবিক শক্তির ব্যবহারকে তিনি এক চূড়ান্ত সীমা হিসেবে দেখছেন, যার পর আর কোনো কিছুরই কোনো অর্থ থাকে না। 

রাশিয়ার ভবিষ্যৎ

এমন হতাশাজনক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পরেই মেলনিচেঙ্কো রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চারটি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেন, যা শুধু রাশিয়া না, সারা বিশ্বের উপরই বিপজ্জনক প্রভাব ফেলবে। 

প্রথম যে সম্ভাবনার কথা মেলনিচেঙ্কো বলেছেন, তা হলো- যুদ্ধে হেরে রাশিয়া ইউরোপের পাশে একটি দরিদ্র, নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। 

দ্বিতীয়ত, রাশিয়া বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, যা দেশটিকে কাঁচামালের উৎস ও কৌশলগত বাফার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। শুরুর দিকে এটি বাস্তবসম্মত সমাধান মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সম্পর্কের রূপ বদলাতে পারে।

উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়বে, যা একসময় সহিংস ও প্রতিশোধপরায়ণ জাতীয়তাবাদে রূপ নিতে পারে।

গণতন্ত্র নিয়ে কিছু বলেননি মেলনিচেঙ্কো।

তৃতীয় সম্ভাবনাকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেছে দ্য ইকনমিস্ট। রাশিয়া বিশৃঙ্খলায় ভেঙে পড়তে পারে, যেখানে বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পদ ও পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত শুরু হবে। এই আশঙ্কার কারণেই বাইডেন প্রশাসন উক্রেইনে রাশিয়াকে পুরোপুরি অপমানিত হতে দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সবশেষ যে সম্ভাবনার কথা মেলনিচেঙ্কো বলেছেন, তা হলো- উত্তর কোরিয়ার মতো রাশিয়াও নিজেকে গুটিয়ে নেবে। একটি বন্ধ, অবরুদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যেখানে ঘাটতি থাকবে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের এবং স্থায়ীভাবে বিশ্বের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে যাবে। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, ক্রেমলিনের ভেতরে এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।

এই চারটি পথের ফল ভিন্ন হলেও পরিণতি একই।

‘সার্বভৌমত্ব’ রক্ষাই একমাত্র উপায়

এই পরিস্থিতি কীভাবে এড়ানো যায়, সে বিষয়ে মেলনিচেঙ্কো নিজেও নিশ্চিত নন। তিনি পশ্চিমের দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা রাশিয়াকে চরম পর্যায়ে ঠেলে না দেয়। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়ে তিনি রাশিয়ার “সার্বভৌমত্ব” নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন। 

প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, যখন পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখনই নিরাপত্তা কাঠামো সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে। আর একারণেই অন্য দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। 

তার মতে পশ্চিমা বিশ্বও এখন ব্যাপারটাকে সেভাবে দেখছে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক ভাষা যাই হোক না কেন, যুদ্ধ-পরবর্তী রাশিয়া নিয়ে পশ্চিমা আলোচনার লক্ষ্য একটিই- সার্বভৌমত্ব ধ্বংস বা কঠোরভাবে সীমিত করা।”

পশ্চিমের দেশগুলোকে সতর্ক করে মেলনিচেঙ্কো বলেছেন, রাশিয়ার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ না করতে।

কিন্তু তিনি এটাও বলেন, “সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করলে নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান হয় না; বরং সমস্যার সমাধানের একমাত্র উপায়টিই নষ্ট হয়ে যায়।”

বৈশ্বিক ব্যবস্থাও ‘নিরপেক্ষ নয়’ 

বৈশ্বিক ব্যবস্থাও সময়ে অসময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। মেলনিচেঙ্কো বলেন, “রাশিয়ার উদ্যোক্তা, বিজ্ঞানী, শিল্পী, পেশাজীবীরা নিজেদের আন্তর্জাতিক নাগরিক হিসেবে দেখেছিলো। কিন্তু তাদের উপর দেওয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রমাণ করেছে যে, বৈশ্বিক ব্যবস্থা নিরপেক্ষ নয়। সম্পদ জব্দ হতে পারে, অধিকার বাতিল হতে পারে।”

এর ফলে রাশিয়ার সৃজনশীল শ্রেণির সামনে ছিল দুটি পথ, সম্পূর্ণভাবে দেশত্যাগ করা, অথবা নিজেদের দেশেই নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই প্রক্রিয়া ধীর হলেও অনিবার্য।

রাশিয়ার ব্যবসায়ী সমাজ শুধু টিকে থাকার নয়, পরিবেশ বদলানোর সক্ষমতা রাখে। তাদের ভূমিকা রাজনৈতিক নয়, বরং সৃজনশীল বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শক্তিগুলো রাশিয়াকে বদলে দেবে।”

দেশ সংস্কারের উপায় কি একক শাসনের অবসান? 

“রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন বাইরের কেউ সমাধান করতে পারবে না। এটি কেবল রাশিয়ার ভেতরেই নির্ধারিত হতে পারে,” বলেন মেলনিচেঙ্কো। আশাবাদী হলেও এই উপলব্ধি রাশিয়ার এখনও আসেনি বলে মনে করেন তিনি। 

জাপানের কাছে হেরে যাওয়ার পর শিল্পপতিরা এই পরাজয়ের জন্য রাশিয়ার শাসক দ্বিতীয় নিকোলাসকে দায়ী করেছিলেন।

রাশিয়ার ভেতরে সংস্কার নিয়েও কথা বলেন এই শিল্পপতি। তার মতে রাশিয়ার সরকারকে জনগণের উপর জোরজবরদস্তি না করে তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। এতে একক ক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও তিনি গণতন্ত্র নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।

তবে এই ধরনের পরিবর্তনের পথে বড় বাধা হতে পারে নিরাপত্তা সংস্থার প্রভাবশালী গোষ্ঠী, যারা পুতিনেরও আগে থেকে ক্ষমতায় আছে। রাশিয়া স্বাভাবিক হলে, তাদেরই ক্ষতি বেশি। তবুও কিছু প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী মেলনিচেঙ্কোর মতের সাথে একমত হতে পারেন। পুতিনের সামনে তাই কঠিন পরিস্থিতি। পথ দুটি- যুদ্ধ বাড়ানো কিংবা সংস্কার। আর এই দুই পথই ব্যয়বহুল। 

১৯০৫ সালে রাশিয়ার শাসক দ্বিতীয় নিকোলাস একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। জাপানের কাছে হেরে যাওয়ার পর শিল্পপতিরা এই পরাজয়ের জন্য স্বৈরশাসনকেই দায়ী করেন। সেই বছর আন্দোলনের মুখে নিকোলাসকে সংস্কারের ঘোষণা দিতে হয়েছিলো। যদিও দুই বছরের মধ্যেই সংস্কারের ধারা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক দশক পরে বিপ্লবে পতন হয় তার।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- দেশটি কি দীর্ঘস্থায়ী সংস্কারের পথে হাঁটবে, নাকি সংকট আরও গভীর হবে?