চার মাস পর খামেইনির দাফন সম্পন্ন, লাখো মানুষের শোকযাত্রা

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেইনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ছয় দিনের শোক অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে আলী খামেইনিকে দাফন করা হয়।

শুক্রবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শহরের অন্যতম পবিত্র শিয়া ধর্মীয় স্থান ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফন করা হয়েছে।

তবে এর আগে এক সপ্তাহজুড়ে দেশটিতে শোক পালন করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, এসব কর্মসূচিতে মোট দেড় কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।

২৮এ ফেব্রুয়ারি তেহরানের খামেনির বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হন। এরপর শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে মার্চে নির্ধারিত তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।

গত ৪ঠা জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে সরকারি শোকানুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে হামাস, ইসলামিক জিহাদ, লেবাননের হেজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মাশহাদে।

মাশহাদে শেষ শোকযাত্রার সময়ও বিপুল জনসমাগম হয়। শোকযাত্রায় খামেইনির সঙ্গে হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনও বহন করা হয়।

এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান ওঠে। মানুষের ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে কফিনবাহী ট্রাক এগোতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারে করে খামেইনির মরদেহ ইমাম রেজার মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। বেঁচে থাকার সময়ে তিনি সেখানেই সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে খামেইনি দাফনের কয়েক ঘণ্টা আগে বুশেহর এবং ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানায় মেহর নিউজ এজেন্সি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ওই সময় তারা ইরানে কোনো হামলা চালায়নি।

এর আগে গত ১৭ই জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছালেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। উভয়পক্ষই পরবর্তী সময়ে একাধিকবার পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়।

৭ই জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই রাত ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এরপর ৮ই জুলাই আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুদ্ধবিরতির সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

এর জবাবে  কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। পরে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, কুয়েত, জর্ডান ও ইরাকেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।